ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বিএনপির সময়ে হত্যা আর আওয়ামি লীগের সময়ে গুম দুটোর মধ্যে কি আসলেই কোন পার্থক্য আছে? যারা গুম হয়েছেন কেউই কি ফিরে এসেছেন? শেষমেশ তো হত্যাই হল । দু দলের সমর্থকরা হয়ত স্বভাব সুলভ তর্কই জুড়ে দেবেন কার আমলে কোনটি বেশি হয়েছে এ নিয়ে । দুই সরকারের সময়েই দেখেছি যারা খুন বা গুম হয়েছেন এদের অনেকেই প্রথম সারির নেতা ছিলেন।এদের হারিয়ে ক্ষমতার পালাবদলে দল দুটির ক্ষমতা ফিরে পেতে কোন সমস্যাই হয়নি। তাহলে কেন এই অন্তর্ধান?

আমেরিকা যখন কোন একটি দেশের গনতন্ত্র বা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে তখন বুঝতে হয় এর প্রি টেক্সট বা লুকায়িত এজেন্ডাটি কী? পুরো নব্বইয়ের দশক ধরে তুরস্কের সার্বভৌমত্বকে সাহায্য করতে যেয়ে আমেরিকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অস্ত্র বিক্রি করেছে তুরস্কে, যে অস্ত্র ব্যাবহার হয়েছে কুর্দিদের উপর । যখন কুর্দিরা হার মানল অর্থাৎ অস্ত্র বিক্রি শেষ তখন আমেরিকা নতুন দেশ হিসেবে খুজে পেল কলম্বিয়াকে ১৯৯৯ এ । ড্রাগ বিরোধী যুদ্ধের নাম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবার অস্ত্র বিক্রি শুরু করল এবং সেই অস্ত্র ব্যবহৃত হল কলম্বিয়ার গেরিলা এবং কৃষক বিদ্রোহ দমনে। ( তথ্য গুলো নম চমস্কির মিডিয়া ম্যানিপুলেশনের উপর স্পিচ থেকে নেয়া )

তাই আমাদের খুঁজতে হবে গুম হবার প্রি টেক্সট বা নেপথ্যের কারন । কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ আনতে যেয়ে সরকারের এখন লেজে গোবরে অবস্থা। না পারছে ভর্তুকি দিয়ে ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে বা যে কোম্পানি গুলো নিম্ন মানের স্মল পাওয়ার ইউনিট ভাড়া নিয়েছে তাদের মেশিনারিজের যা অবস্থা তেল দিলেও পুরো মাত্রার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। আজকে দেখলাম ফেনিতে বিদ্যুতের দাবিতে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে । বিদ্যুতের দাবিতে রাস্তায় যাতে মানুষ না নামতে পারে তাই মানুষের মনোযোগ কে একটু ঘুরিয়ে দেয়া আর কি। কোন রকমে বাকি দু’মাস কাটিয়ে দিলেই তো হল । এর পর বর্ষা। আর গোদের উপরের বিষ ফোঁড়া সুরঞ্জিত ইস্যু তো আছেই।

আমার এরকম ভাবার যথেষ্ট কারন আছে ।যখন দেখি নির্বাচনের দু বছরেরও বেশি সময় বাকি থাকতে সরকার যখন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল নিয়ে তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টে এবং পরে সংসদে দৌড়াদোড়ি শুরু করল এবং এটা নিয়ে বিএনপি এবং মিডিয়া কে ব্যাস্ত রাখলো তখন মনে হল কোন ঘাপলা আছে। পরে দেখলাম ২০১১ জুনে যখন সরকার কনকো ফিলিপসের সাথে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস উত্তোলনের জন্য পিএসসি তে সাইন করল। সেই জুনেই (২০১১) তড়িঘড়ি করে সংসদে কেয়ার টেকার ব্যবস্থা বাতিল করাল। তেল গ্যাস নিয়ে কে আর কথা বলে তখন সবাই কেয়ার টেকার নিয়ে ব্যস্ত। বিএনপিও ইস্যুটি নিয়ে দারুন খেলল ।মিডিয়াও টক শো করে এই প্রি ম্যাচিওর ইস্যুতে ইন্ধন যোগাল। বেচারা আনু মোহাম্মদের আঙ্গুল চোষা ছাড়া কি বা করার ছিল এত সব খেলোয়াড়ের মাঝে।

তাই যখনই দেখি সরকার, বিরোধী দল এবং মিডিয়া এই তিন খেলোয়াড় একটা ইস্যু নিয়ে প্রাণপাত করছে তখন মনে হয় অন্য কোথাও কিছু হয়ে যাচ্ছে না তো যেটা আমরা দেখছিনা? তাই টিভি তে ক্রন্দনরত ভাই ইলিয়াসের স্ত্রীকে দেখে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল আপনার স্বামীটি দাবার একটি ঘুঁটি ছিল আমাদের মতো। তবে ওনাকে হয়ত বেশিই মূল্য ……… ………………………………।