ক্যাটেগরিঃ কৃষি

২০০৭ এর আগে যে শিল্পটিতে দেখা দিয়েছিল অপার সম্ভাবনা, একসময় এটা বলা হয়েছিল পোলট্রি প্রোডাক্ট বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব সেই শিল্পের আজ এ অবস্থা কেন? ৮০,০০০ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি এবং ২০টি পোলট্রি ফিড কোম্পানি সহ গত ১৫ বছরে যে ইন্ডাস্ট্রির গ্রোথ ছিল প্রতি বছরে ২০% সেটি আজকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কেন ? এর কারণ কী শুধুই এভিয়ান ফ্লু বা বার্ড ফ্লূ ? নাকি অন্য কোন কিছু ?

আগে জানতাম বার্ড ফ্লূ বা ভাইরাস জনিত সংক্রমণগূলো শুধু শীতকালে হতো বা হচ্ছিলো , এখন গরম কালেও হচ্ছে। দু বছর আগে এক সময় সরকার বলেছিল বার্ড ফ্লূ ভ্যাকসিনটি মহাখালীতে ICDDRB তে বানানো সম্ভব । সেটার ফলো আপ হয় নি কেন ?

২০১১ ২ই জুনে সোনারগাঁ হোটেলে VIV এশিয়া, একটি থাইল্যান্ড বেসড কোম্পানির লাইভস্টক এর কনফারেনস এ বলা হয়েছিলো ২০০৮ এর বার্ড ফ্লুর পরেও যখন এটা ছিল বছরে ৩০,০০০ কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি এবং ২০২১এ যেটা হতে পারে ৬০,০০০ কোটি। অবাক হয়েছিলাম শুনে যে এখানে ৫ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান হয়। সেই সম্ভাবনাময় শিল্পের আজ এই অবস্থা কেন , তাও মাত্র দু বছরে ?

ব্রিডার এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট কাজী জাহেদুল হাসান বলেছিলেন (৯ই মে ২০১১ তে) যে শুধুমাত্র DOC (day old chicken) এবং ডিম আমদানির জন্যই ইন্ডাস্ট্রিটির দিনে লোকসান হয় ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন টাকা। উনি হিসেব কষে দেখিয়েছিলেন দেশে ডিম এবং DOC এর দৈনিক যে চাহিদা সেটা দেশিও কোম্পানি দিয়েই সারপ্লাস অবস্থায় (ডিমের চাহিদা ১৩ মিলিয়নের বিপরিীত উৎপাদন ছিল ১৫ মিলিয়ন DOC এর ক্ষেত্রেও উৎপাদন চাহিদাকে অতিক্রম করেছিল) আমদানির যেখানে দরকারই নেই সেখানে আমরা ভারত থেকে কেন আমদানি করছি?আন্তর্জাতিক আইনও যা বলে যেখানে বার্ড ফ্লু হয় সেখান থেকে পোলট্রি আমদানি নিষিদ্ধ,ভারতে বার্ড ফ্লু সবসময়ে ছিল।

ভেঙ্কির আগমন!!!
এশিয়ার পোলট্রি জায়ান্ট ভেঙ্কটেশওয়ারা গ্রুপ তার কাজ শুরু করেছে সেপ্টেম্বর ২০১০ থেকে। ভারতেই যার মার্কেট শেয়ার ৮৫%। ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাব নিউ ক্যাসেল ইউনাইটেডকে কিনে ফেলার কথা কোম্পানিটির । সেই ভেঙ্কি কাজ শুরু করেছে উত্তরা ফুড এবং ফিডস এর মাধ্যমে। ২৬ সেপ্টেম্বর তারা ক্রিকেটার ব্রেট লি এবং ফিল্ম স্টার সঞ্জয় দত্তকে দিয়ে খুব লো প্রোফাইল ওপেনিং সিরিমনি দিয়ে শুরু করেছিল যেটা অনেকেরই চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল । পশু সম্পদ মন্ত্রি লতিফ বিশ্বাস উপস্থিত থেকেই এদের স্বাগত জানিয়েছিলেন।

গত রোববার ২২ এপ্রিল পোলট্রিতে কোরীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী সিউল গিয়েছেন। ভাবতেই অবাক লাগে যে দেশটি সিলিকন চিপস বানিয়ে পৃথিবীতে প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে আছে ,যে দেইয়ু বা হুন্দাই গাড়ির প্যারেন্ট কান্ট্রি , সেও চায় বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে ঢুকতে ।

দিন দিন ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তারা সরে পড়ছেন পোলট্রি থেকে। এসব করে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের তাড়িয়ে দিয়ে আমরা কি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছিনা? যখন মাঠ পরিষ্কার হয়ে যাবে তখন এরা মানে মালটিন্যাশনালরা আসবেন ত্রাণকর্তার ভূমিকায়।

আমরা যখন সাংবাদিক দম্পতির ট্রাজেডি এবং থ্রিলার শো শেষ না করেই ,দাদা সুরঞ্জিতের কমেডি তে ঢুকলাম, তখন আবারো ইলিয়াস নাটকে যখন আমরা আক্রান্ত এরই মাঝে কর্পোরেট দুর্বৃত্তরা এসে বাণিজ্য করে যাচ্ছে দল দুটির সামনে। ।চেয়ে চেয়ে ধ্বংস দেখা ছাড়া আর কিই বা করার আছে।