ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 
ranking

আন্তর্জাতিক বিদ্যায়তনিক পরিমণ্ডলে র‍্যাংকিং একটি অত্যাবশকীয় বিষয়। তাই হরমেশাই এই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চোখে পড়ে। ক’দিন আগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফ্যানপেজে একটি সংবাদ চোখে পড়ল। ঐ সংবাদে বলা হলো যে,  http://www.webometrics.info [www.webometrics.info/en/Asia/Bangladesh] নামক একটি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে র‍্যাংকিং প্রকাশ করেছে সেখানে তার অবস্থান তৃতীয়।  খানিকটা উৎসাহী হয়েই উপরের ঠিকানায় গিয়ে দেখলাম, বাংলাদেশের প্রথম তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে-ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়। আর এরপরই অবস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

কীভাবে র‍্যাংকিং করে Webometrics? ওয়েবসাইটটি নিজের এই কর্মযজ্ঞ নিয়ে বলেছে-

Webometrics Ranking of World Universities is a university ranking system that utilizes both web presence and the visibility of the web publications as their indicators. The ranking system primary objective was not to rank institution. The main objective was to promote web publication and support of Open Access initiatives. This system ranks the universities based on how strong the universities’ presence in the websites by its web domain, repositories and informal scholarly communication.  বিস্তারিত জানতে দেখুন-http://www.webometrics.info/en/Methodology

মূলতঃ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট কেমন ও সেখানে কতটুকু প্রকাশনা পাঠকেরা নামাতে পারে বা এক্সেস করতে পারে তারই ভিত্তিতে র‍্যাংকিং করা হয়। তৃতীয় স্থানে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৮ মাস পাঠদানের সুযোগ হয়েছে। সেখানে থাকাকালে দেখেছি, কর্তৃপক্ষ মেইল করেছেন সব শিক্ষককে, যেখানে বলা হয়েছে অতি দ্রুত নিজেদের গবেষণা কর্ম মেইল করে কর্তৃপক্ষকে পাঠানোর। এর কারণ ছিল শিক্ষকদের গবেষণা কাজ ওয়েবসাইটে নিয়ে আসা। একই সাথে শিক্ষকদের বলা হয় ফোরামে (http://forum.daffodilvarsity.edu.bd/) লিখতে, বেতনভাতা-ছুটি-ছাটা নিশ্চিত করতে লগইন করতে হয় (http://vus.daffodilvarsity.edu.bd:200/login) এই ঠিকানায়, আর একজন শিক্ষক বা ছাত্রের কম্পিউটার বা ইন্টারনেট সংযোগ থাকুক বা না থাকুক যাবতীয় ক্লাস লেকচার নামাতে হয় http://sw.daffodilvarsity.edu.bd/ এই ঠিকানা থেকে। এতসব কাজ করতে গিয়ে ওয়েবসাইটটির হিট বাড়ে, হিট বাড়লে র‍্যাংকিংও বাড়ে।    আর ছাত্ররা বাধ্য হয়েই দিনভর লেকচারের সফট কপি অন্বেষণ করে ওয়েবসাইটটিতে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এমনটি নেই।

ড্যাফোডিল ছেড়ে ঢাবিতে আমার যোগদান ২০১৪ সালের অগাস্টে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করার সময় দেখেছি, এর ওয়েবসাইট দুর্বল হলেও তা উন্নত করার কাজ চলছে। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিটি শিক্ষক নিজেই ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড দিয়ে সেখানে তার সিভি ও গবেষণা কাজ আপলোড করতে পারবেন। একই সাথে কত কম টাকা ও কম জনবল দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করা হয় তা অবাক করার মতোই বিষয়। এই যুগে এখনো একজন শিক্ষার্থী ২০ টাকা বেতন দিয়ে পড়ালেখা করেন। যা বিশ্বের অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আছে কি না সন্দেহ। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ঘাটতি ছিল ২৪ কোটি টাকা। এতসব সংকটের মাঝেও বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক সময়ে তার শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করছে, সেশনজট নেই। নিউক্লিয়ার সায়েন্স, সমুদ্রবিজ্ঞান, অপরাধবিজ্ঞান, কমিউনিকেশন ডিজওর্ডার ও টেলিভিশন ও ফিল্ম স্টাডিজের মতো নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে।  কিন্তু গণমাধ্যমের-Bad news is good news-এই নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভালো সংবাদ আমাদের চোখে কমই পড়ে। সময়ের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি তাই চোখে পড়ার মতো। নতুন প্রযুক্তির সাথে সনাতনী সরকারি অফিস ব্যবস্থাপনার একটি দূরত্ব অতীতেও ছিল, এখনো আছে।  সময়ের সাথে এই দূরত্ব কমে আসছে। তাই র‍্যাংকিং নিয়ে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচনা করেন, তারা আগে আয়নায় নিজেকে দেখুন, নিজের প্রতিষ্ঠানকে দেখুন।