ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

বাংলাদেশ মানেই গণতন্ত্রের দেশ। এখানেই সম্ভব গায়ের জোরে সব করা । আর যদি সরকার সংগে থাকা যায় তাহলে তো একেবারে দেবতা; ভুল-ভাল, লাজ-লজ্জা কিছু থাকে না। তাই আমরা দেখি বিনা দোষে লিমনরা যখন পা হারিয়ে মরণ যন্ত্রনায় কাতর, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন , আইন তার নিজের গতিতেই চলছে । আবার ডঃ মোঃ ইউনুছ যখন আদালত থেকে বিচারের নামে প্রহসনের শিকার হয় তখন আমরা বুজতে পারি আইন কার গতিতে চলছে। তারপরও এটর্নি জেনারেলের নির্লজ্জ বক্তব্য আমাদের বুজিয়ে দেয় স্বাধীনতা কাকে বলে ।

এইতো কয়েক দিন আগে আমারা দেখলাম এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এর স্বাধীনতা । উনি মূল্য সমাজ্জস্যতার নামে সিএনজি গ্যাসের দাম একলাফে ১৬ টাকা ঘন/ সি,সি, থেকে ২৫ টাকা করে ঘোষণা দিয়ে মিডিয়াকে জানালেন, সিএনজি গ্যাস ধনীরা ব্যাবহার করে তাই মূল্য বাড়ালে সরকার রাজস্ব পাবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। আর বাস্তবতা; পরদিন যখন আমাদের মত সাধারণ মানুষ যারা চলাচল করে পাবলিক বাসে, তারা দেখল তাদের পকেট কিভাবে কাটলেন তিনি। অবশ্য তার কোন দোষ দেওয়া যায়না তিনি তো সাধারণ মানুষও না আবার ধনী মানুষও না তিনি আমলা। দাম বাড়লেও তিনি জানতে পারেন না, কমলে তার কিছু আসে যায়না কারন তিনি চড়েন সরকারী গাড়িতে, যাতে চলে তার বিবি-বাচ্চাসহ সকলের সরকারী টাকায় যাতায়াত। তারপর ঘুম ভাঙল যোগাযোগ মন্ত্রীর, তিনি গাড়ির মালিক সমিতিকে ডেকে ভাড়া বাড়িয়া দিলেন ৩৫%। আরও ঘোষণা দিলেন আমাদের মত সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই নাকি এটা করেছেন তিনি, আমাদের কথা চিন্তা করলেন অথচ আমাদের ডেকে একবারও শুধালেন না। অবশ্য বাস মালিকরা কিন্তু তারই লোক সে জন্য আমাদের কথা ভাবার সময় কোথায় তার। অবশ্য ক্ষমতায় থাকা কালে আমাদের মানুষ ভাবেন কিনা সেটাই বড় কথা। আবার ইদানিং দেখা যাচ্ছে গাড়ি আটকে ম্যাজিস্ট্রেট চেক করছেন ভাড়া বাড়াল কত, আহা! সরকার আমাদের কথা কত ভাবেন। এমনিতেই যানজটে অফিস শেষে বাসায় ফিরতে তেহারি অবস্থা আবার চেকিং এর নামে গাড়ি আটকে রেখে হয়রানি। আসুন দেখি আসলে ঘটলে কি ?
গ্যাস আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং আমরা সকলেই চাই এর যথাযথ ব্যবহার। কিন্তু জ্বালানী খরচ বাড়া মানেই পরিবহন খরচ বাড়া ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়বেই। গত কয়েক বছর যে ছুটছে এই ঘোষণা রেসের মাঠে তাকে অপ্রতিদ্বন্ধী করলো আরকি ? ফলে আমরা সাধারণ মানুষরা হাবুডুবুতে ছিলাম এবার তলানোর অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। আমার এক বন্ধু গত কয়েকদিন দেখা হলে প্রথম কথা বলে এবার তো যাতায়াতেই সব চলে যাবে খাব কি ? আমি বললাম, তোমার সমস্যা কি! তুমি তো যাতায়াত করো অফিস এর গাড়িতে । সে জানালো সেতো একা বাকি ১০ জন , কি হাঁটবে ? এখানে বলে রাখা ভালো যে, তার যৌথ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১০জন। আরও বলল, অফিস ছাড়াও তো আরও কাজ আছে, সে সময় ? জানো, রিক্সা ভাড়া এ সুযোগে কত বাড়ছে ? আমি নিরুত্তর, কিছুক্ষণ বাদে বললাম, রিক্সা ওঠাতো ছেড়েছি অনেক আগেই। সত্য বলতে কি স্বীকার করুন বা নাই করুন এটাই বাস্তবতা। গ্যাসের মূল্য বাড়ল প্রতি ঘন ফুটে ৯ টাকা, আমরা কিন্তু জানিনা তার জন্য প্রতি কিলোমিটারে কতো খরচ বাড়ল অথচ প্রত্যেক যাত্রী কে তার জন্য ৩৫-৫০% বেশী ভাড়া গুণতে হচ্ছে। কিন্তু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে কক্ষনো দুরত্ব অনুযায়ি ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করতে দেখা যায় না। ফলে কোন যাত্রী বলতে পারেন না তিনি কতো দুরত্বে যাতায়াত করছেন এবং তার ভাড়া কতো ? সে জন্য দেখা যায় যে একই রুটে একই দুরত্বে ২ টি পরিবহন দু’রকম ভাড়া আদায় করতে। যাত্রীরা যাতে দুর্ভোগ থাকে তাই বুজি এ ব্যবস্থা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। ডঃ ইউনুছ প্রধান মন্ত্রীর কথা মত যদি চোর হন তাহলে ভাড়া বাড়ানোর এ চক্রান্তকে আমরা কি বলবো ? তারা কি চোরের “বড় ভাই” না “মা” !

এবার আসুন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এর কথায় ধনীদের কাছ থেকেই নাকি শুধু টাকা নিচ্ছেন তিনি, আসলে কি তাই? ধনী এর মধ্যবিত্তের অনুপাতটার দিকে একবার তাকান, তাহলে সেটা সহজেই বুঝবেন, আমাকে জানাতে হবেনা। তাই বলি একেই বলে স্বাধীনতা ! !