ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

জীবন হয়ত সত্যিই নিরর্থক। তাকে অর্থবহ করে তোলায় সাধনায় নিরন্তর নিমজ্জিত রয় মানুষ। ‘অর্থবহ’ শব্দটি একেক জনের কাছে একেক ‘অর্থ’ নিয়ে হাজির হয় বলেই কেউ কেউ জীবনকে ফুলের মতো সুন্দর করতে সারাজীবন সাধনা করেন, কেউ বিহগের মতো বাঙময় হতে বিদ্রোহের আগুন জ্বালেন জীবনজুড়ে। কবি রফিক আজাদ চেয়েছিলেন জীবনকে কবিতার মতো করে গড়ে তুলতে। তাই বলেছেন, জীবন কবিতা নয়, তাকে কবিতা করে তুলতে হয়।

পঁচাত্তর বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে এই এক সাধনাই করে গেছেন তিনি। আজীবন আত্মায় লালন করেছেন এই বোধ। তার প্রমাণ মেলে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনকে লেখা এক চিঠিতে। মিলন তখন ভাগ্যান্বেষণে জার্মানিতে। সেখান থেকে দেশের প্রিয় মানুষদের কাছে চিঠি লেখেন তিনি। দেশের মানুষরাও লেখেন তাঁকে। মিলন জানাচ্ছেন, ‘আমি সবাইকে চিঠি লিখি৷ সবাই আমাকে চিঠি লেখে৷ রফিক ভাইকে চিঠি লিখি কিন্তু তার চিঠির কোনো জবাব আসে না৷ দশ-বারোটি চিঠি লেখার পর তার একটা চিঠি পেলাম-‘‘গদ্য লেখার ভয়ে আমি কাউকে চিঠি লিখি না৷ কিন্তু মনে মনে প্রতিদিন তোমাকে অনেক চিঠি লিখি৷ তুমি কেমন আছো, মিলন?’’’ জীবনকে কাব্যময় করে তুলবেন বলে গদ্য লিখতে ভয় পেতেন; যদি জীবন গদ্যময় হয়ে ওঠে? তাই গোটা একটা জীবন রফিক আজাদ তুলে দিয়েছিলেন কবিতার পায়ে। পেয়েছিলেন কী সেই ছন্দময় কাব্যময় ভালোবাসাময় প্রাঞ্জল জীবন? এ প্রশ্নের উত্তর এখন আর পাওয়া যাবে না। ২০১৬ সালের ১২ মার্চ কবি চলে গেছেন ‘সুতোর ওপারে’। তবে জবাব সম্ভবত রেখে গেছেন তাঁর একমাত্র আত্মজৈবনিক বইয়ের নাম ভূমিকায়-‘কোনো খেদ নেই।’

হ্যাঁ, তাহলে এখন বলাই যায়, জীবন নিয়ে কোনো খেদ ছিল না কবির। তবে কী ছিল তাঁর জীবনে? কবি রফিক আজাদের জীবনে ছিল প্রেম ও দ্রোহ, প্রকৃতি ও মানুষ, সুন্দর ও কল্যাণের সাধনা। ষাটের দশকের প্রথম প্রহরে পা রেখেছিলেন কবিতার বনভূমিতে, তারপর দীর্ঘক্লান্ত পাথুরে এক পথ পাড়ি দিয়ে এসে থেমেছেন দুহাজার ষোল সালের গোড়ায়। অক্লান্ত হেঁটেছেন তিনি, আর পথে পথে ছড়িয়েছেন শিল্পের সোনাদানা, হিরা-জহরত। ‘হাতুড়ির নিচে জীবন’ হয়েছে পিষ্ট তবু আত্মবিসর্জন দেননি ‘অসম্ভবের পায়ে’। তাই তাঁর কলম থেকে সতত নির্ঝরের মতো ঝরেছে-‘আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ/ ভাত দে হারামজাদা, তা না হলে মানচিত্র খাবো।’ আবার সেই সোনার কলম থেকেই বেরিয়েছে-‘যদি ভালোবাসা পাই/ আবার শুধরে নেবো জীবনের ভুলগুলি।’ একই আঙুলে এমন দ্রোহ ও প্রেমের বীণা আর কে কবে কখন বাজিয়েছে কোথা?

আজীবন আপোষহীন রফিক আজাদ সবচেয়ে করুণ সময়ে সবচেয়ে দ্রোহী উচ্চারণ করেছিলেন-ভাত দে…। সেটা ছিল স্বাধীনতা-উত্তরকাল। ১৯৭৪ সালে লেখা সেই কবিতার প্রেক্ষাপট বর্ণনায় এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘প্রেক্ষাপট চুয়াত্তর সালের দুর্ভিক্ষ। বিশেষ করে দুর্ভিক্ষ যতটা হোক না হোক, মিডিয়ার একটা চক্রান্ত ছিল, যেমন জাল পরিয়ে বাসন্তীকে দেখানো হইছে, ইত্তেফাকে, যেন না খেয়ে অভাবে জাল পরে আছে- শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে ইত্তেফাকের ফটোগ্রাফার আফতাব তাকে একশ টাকা দিয়া জাল পরাইছে, তেমনি আরেকটা দৃশ্য আছে রংপুর স্টেশনে কেউ বদহজম হইছে, বমি করেছে, সেই বমির উপর একটা ক্ষুধার্ত লোককে- তাকে বলা হয়েছে যে, মুখ লাগানোর চেষ্টা করবি। লাগাতে হবে না, একশ টাকা পাবি। এগুলা সাধারণ মানুষের মনে সাংঘাতিক ছাপ ফেলছে, তাদের মনে প্রচণ্ড ক্রোধ জমে গেছে। আমারও। তো এই ক্রোধ থেকেই ‘‘ভাত দে হারামজাদা’’ লেখা।’

এই কবিতার জন্য সারাদেশে হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছিল। ধাক্কা গিয়ে লেগেছিল বঙ্গবন্ধুর কান অব্দি। তার পরের ঘটনা রফিক আজাদের মুখে: ‘বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী আর আনওয়ারুল আলম শহীদ, বঙ্গবন্ধুর কাছে আমারে নিয়া গেছিলেন। উনি ব্যাখ্যা চাইলেন। আমি ব্যাখ্যা দিছি, সারা পৃথিবীর নিরন্ন মানুষের প্রধান চাওয়া হলো ভাত। আমি সারা পৃথিবীর লোকের কথা বলছি। আর আমাদের দেশে, নিরন্ন মানুষ এই ভাষাতেই কথা বলে।এটা বলার পর বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘‘তা বটে!’’ আমার কাঁধে হাত রাইখা বললেন, ‘‘ভালো লিখছিস, যাহ’’।’

এই হচ্ছেন রফিক আজাদ, যিনি জীবনকে বাজিয়েছেন মোহন বাঁশির মতো। ছিলেন আজীবন তরুণ, অন্তরে লালন করেছেন আধুনিকতা, বহিরাঙ্গেও রেখেছিলেন তার ছাপ। যারা তাঁকে দেখেননি জীবদ্দশায়, তারা প্রমাণ চাইলে আবার যেতে হবে ইমদাদুল হক মিলনের লেখার কাছে-‘কুস্তিগিরদের মতো চেহারা৷ বেঁটে, তাগড়া জোয়ান৷ হাতকাটা গেঞ্জি পরেন, গলায় মোটা চেন, হাতে তামার বালা৷ নাকের তলায় ইয়া গোঁফ, হাতে সারাক্ষণই সিগ্রেট।’

আপাত ষণ্ডার মতো দেখতে এই মানুষটিরই বুকের খাঁচার ভেতর ছিল শিশুর মতো সরল এক মন। তাই একবার যারা তাঁর বন্ধু হয়েছেন, তারা চিরদিনের জন্য লিখে দিয়েছেন বন্ধুত্বের দাসখত। যে কারণে সুদূর আটলান্টিকের ওপরা থেকে বিষণ্ন গলায় কবি শহীদ কাদরি জানতে চান কবি পিয়াস মজিদের কাছে-‘রফিক কেমন আছে?’ (প্রথম আলো অনলাইন, ১২ মার্চ ২০১৬)।

শব্দের কি অনিবার্য শক্তি তা কবি মাত্রেই জানেন। কোনো কোনো কবি সম্ভবত একটু বেশিই জানেন। রফিক আজাদ সেই বিরল কবিদের একজন যিনি শব্দের শক্তিতে ওয়াকিবহাল ছিলেন। তাঁর প্রতিটি কবিতার শব্দ তাই ঐশ্বরিক শক্তিতে বলীয়ান। তিনি যখন লেখেন ‘রক্ত-পুঁজে মাখামাখি আমাদের ভালবাসাবাসি/এখন পাবো না আর সুস্থতার আকাঙ্খার খেই’ তখন এক একটি শব্দ পাঠককে বর্শার ফলার মতো বিদ্ধ করে। কবিতাও যে মানুষকে বিবশ করা অনুভূতিতে জারিত করতে পারে তা রফিক আজাদের চেয়ে শৈল্পিকভাবে আর কে বোঝাতে পেরেছে কবে? রফিক আজাদের শক্তি সম্ভবত এখানেই যে তিনি যা লিখে গেছেন তা পাঠ করার পর পাঠক নিজের অজান্তেই বলে ওঠেন ‘আরে বাহ’! পাঠকের কাছে থেকে এই ‘আরে বাহ’ অর্জন করাই একজন কবির অভিষ্ঠ সাধনা। সেই সাধনায় সফল হতে একজন কবির কতদিন সময় লাগে? রবীন্দ্রনাথের লেগেছিল কমপক্ষে ষাট বছর। নোবেল পুরস্কার জয় করার আগ পর্যন্ত কোনো পাঠক তাঁর কবিতা সম্পর্কে কার্যত মুগ্ধতা প্রকাশ করেনি। আর জীবনানন্দের তো গোটা জীবনই চলে গেছে পাঠকের মুগ্ধতার খোঁজে! কিন্তু পাননি।তিনি পাঠককে বিস্মিত করেছেন ট্রামের নিচে চাপা পড়ার পর। ধূসর পাণ্ডুলিপি প্রকাশের আগ পর্যন্ত বুদ্ধদেব বসুর কবিতাগোষ্ঠী আর সজনীকান্তের শনিবারের চিঠিগোষ্ঠী ছাড়া আর কে ‘আরে বাহ’ কিংবা ‘আরে ধুর’ বলেছে জীবনান্দের কবিতা পড়ে?

কিন্তু এদিক থেকে উজ্জল ব্যাতিক্রম কবি রফিক আজাদ। তাঁর কবিতা পাঠককে মুগ্ধ করেছে একেবারে শুরু থেকেই। এ অঞ্চলে কবিতার পাঠক ঐতিহাসিকভাবেই কম। বিভিন্ন প্রকাশক মারফত জানা যাচ্ছে, বই মেলায় কোনো কবির তিনশ কপি বই বিক্রি হওয়া মানে তিনি মহাজনপ্রিয় কবি! বাংলা কাব্য পাঠকের এই হীনাবস্থা মেনে নিয়ে নিজের কবিতা দিয়ে সর্বস্তরের পাঠকের মন জয় করতে পেরেছেন যে কজন অঙুলিমেয় কবি, রফিক আজাদ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। রফিক আজাদ সেই জনপ্রিয় কবি যাঁর কবিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে, রাজপথের মিছিলে, কবিতার আসরে, আবৃত্তির মঞ্চে, ঘরোয়া আড্ডায় এবং প্রেমিক-প্রেমিকার আবেগঘন চিঠিতে ব্যাবহৃত হয়েছে বেশুমারভাবে। ‘যদি ভালোবাসা পাই/আবার শুধরে নেবো জীবনের ভুলগুলি’, অথবা ‘তোমার কথা ভেবে রক্তে ঢেউ ওঠে/তোমাকে সর্বদা ভাবতে ভালো লাগে,’ বুকে হাত দিয়ে বলুক তো কোন প্রেমিক তার প্রেমিকাকে একদিনের জন্য হলেও এসব লাইন লেখেনি? বুকে হাত দিয়ে কোনো আবৃত্তিকার কি বলতে পারবেন, তিনি তার জীবদ্দশায় ‘ভাত দে হারামজাদা’ একবারের জন্যও আবৃত্তি করেননি?

বলা হয়ে থাকে, বট বৃক্ষের নিচে অন্য গাছ বেড়ে উঠতে পারে না। এমনটা আমরা দেখেছিও রাবীন্দ্রিক শাসনামলে। তিনি যখন মহীরুহের মতো ডালপালা বিস্তার করেছিলেন চতুর্দিকে, তখন তাঁর ছায়ার আড়ালে ম্লান হয়ে গিয়েছিল অপরাপর সব কবির কবিতা। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম উদাহরণ রফিক আজাদ। ষাটের দশকে বাংলার সাহিত্যাকাশ যখন শামসুর রাহমান-আল মাহমুদ-শহীদ কাদরীর চোখ ধাঁধানো আলোয় উজ্জ্বল তখনও নিজ্বস্ব ঝলকানি দিয়ে আলাদাভাবে নিজেকে চিনিয়েছেন রফিক আজাদ। তিনি অপর তিন প্রকাণ্ড সূর্যর নিচে চাপা পড়েননি এক মুহূর্তের জন্যেও। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, শব্দের পর শব্দ গেঁথে সচেতনভাবে নির্মাণ করেছেন নিজেরই অস্তিত্ব।

কবি শুধু শব্দের শক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকেন না, তিনি সচেতন থাকেন ‘সময়’ সম্পর্কেও। তাই যাঁরা জাত কবি তাঁদের কলমের নিব থেকে নিস্তার পায় না স্বকাল। তাঁরা কলম দিয়েই এঁকে চলেন সময়ের স্কেচ, তাঁরা কলম দিয়েই ব্যবচ্ছেদ করেন সময়ের শরীর। তাই আমরা দেখতে পাই রফিক আজাদের কবিতার পরতে পরতে ফুঁটে আছে সময়ের গোলাপ-ধুতুরা। ‘চুনিয়া নৈরাশ্যবাদী নয়, চুনিয়া তো মনে প্রাণে/নিশিদিন আশার পিদিম জ্বেলে রাখে/চুনিয়া বিশ্বাস করে/শেষাবধি মানুষের হিংসা-দ্বেষ ভুলে/পরস্পর সৎ প্রতিবেশী হবে’ এমন উচ্চারণ কী সেই সময়কে অমর করে রাখারই প্রতিনিধিত্ব করে না?

১৯৪১ সাল থেকে ২০১৬-দীর্ঘ পঁচাত্তর বছরের সময়কাল পেয়েছিলেন কবি রফিক আজাদ। লেখালেখি করেছেন পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে। রফিক আজাদের কবিতা সমগ্রের পোস্টমার্টেম করলে যে কেউ দেখতে পাবেন, তাঁর কবিতার ভাঁজে ভাঁজে ধরা আছে সময়, সমাজ, সংসার ও রাষ্ট্র। রফিক আজাদ সম্ভবত এ কারণেই অমরত্ব লাভ করেছেন যে তিনি তাঁর কবিতায় সময়কে লিপিবদ্ধ করতে পেরেছেন অত্যন্ত সার্থকভাবে। যখন যেখানে যে জীবন যাপন করেছেন সেই জীবনেরই আলেখ্য রচনা করেছেন নিবিড় কূশলতায়। তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিরিশিরি পর্বে। চুনিয়া আমার অর্কেডিয়া কাব্যগ্রন্থে। জীবীকার প্রয়োজনে জীবনের বেশ কিছুটা সময় রফিক আজাদকে থাকতে হয়েছে নেত্রকোণার বিরিশিরিতে। সেই সময়কালের জীবনচিত্র, আদিবাসী সমাজ, চারপাশের প্রকৃতি সবকিছু নিপুণ চিত্রকরের মতো শিল্পিত করে রেখেছেন চুনিয়া আমার অর্কেডিয়ার পাতায় পাতায়। সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে কবিতা লিখতে পারা এমন কবি তো এখন আর চোখে পড়ে না একজনও!

সময়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রফিক আজাদ যেমন দিবসরজনী বুনে গেছেন কাব্যের মায়াজাল তেমনি সময়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন থ্রি নট থ্রি রাইফেল। সেটা পারদের মতো ভারী কিন্তু অস্থির এক সময়। সে সময়কাল ইতিহাসের পাতায় খোদিত হয়ে আছে ‘১৯৭১’ নামে। সমগ্র জাতি তখন সমস্ত কাজ ফেলে হাতে তুলে নিয়েছে অস্ত্র। টাঙ্গাইলের ভূমিপুত্র রফিক আজাদ বুঝে গেলেন প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য। হয়তো মনে মনে উচ্চারণ করলেন ‘কবিতা, আজকে তোমায় দিলাম ছুটি’। তারপর হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লেন মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে।

নিজের জন্মভিটা টাঙ্গাইলেই তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তাঁর কমান্ডার ছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ২০১৬ সালের ১২ মার্চ যখন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন রফিক আজাদ, হাসপাতালে ছুটে গেলেন কাদের সিদ্দিকী। অশ্রুবরণ গলায় বললেন, ‘আমার সঙ্গে রণাঙ্গনে ছিলেন রফিক আজাদ। বহুজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তিনি যাননি, রণাঙ্গনেই ছিলেন। একটা কবিতায় তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার কমান্ডার আমাকে আত্মসমর্পণ করতে শেখায়নি’’। তিনি কখনও কোনো কিছুর কাছে আত্মসমর্পণ করেননি।’

কিন্তু আমরা, পাঠকরা, দিনে রাতে কতবার তাঁর কবিতার কাছে আত্মসমর্পণ করি তা কি দেখতে পান ‘সুতোর ওপারে’ চলে যাওয়া প্রিয় কবি রফিক আজাদ? আমরা, পাঠকরা, কবিতার এই বরপুত্রের জন্য অনন্তকাল ‘ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকি অনড় বিশ্বাসে’, ‘আমাদের পায়ে শিকড় গজায়’তবু তাঁর জন্য ‘প্রতীক্ষা ফুরোয় না’-কবি কি তা দেখতে পান?

কবি রফিক আজাদের শক্তি এখানেই, তিনি সমগ্র বাঙালি পাঠককে তাঁর কবিতার কাছে আত্মসমর্পণ করাতে পেরেছেন।