ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

পৃথিবীতে আসার আগে মানুষ একা ছিল। পৃথিবী থেকে যাবার পর আবার একা হয়ে যাবে। মাঝখানের এই সময়টুকুর জন্য আল্লাহ তা’য়ালা সঙ্গী বানিয়ে দিয়েছেন। প্রথমে তার সঙ্গী হয় মা বাবা। তারপর একসময় তার সঙ্গীনী হয়। সন্তান-সন্ততি হয়। এরা সবাই হয় জীবনের সফরসঙ্গী।

কিন্তু কিছু হতভাগা আছে যারা এতশত সঙ্গীর মাঝেও থাকে নি:সঙ্গ। কত সঙ্গী আসে এ জীবনে .. কত সঙ্গীত গাওয়া হয় এ জীবনের তরে। তবু সে বেচারা নি:সঙ্গই রয়ে যায়। পৃথিবীতে আসার আগে যে একা ছিল , সে অভ্যাসটা হয়ত ছাড়তে পারে না। এ জন্য সে পৃথিবীতে যেমন একা আসে তেমনি একাই থেকে যায়। আর যাওয়ার সময় তো একাই যেতে হয়।

মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য মানুষ যে সকল ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি ব্যবহার করে থাকে , তাকে ভাষা বলে। কিন্তু হায় .. মানুষ যদি তার মনের ভাব সবসময় প্রকাশ করতে পারত! মানুষ তার জীবনের খেলাঘরে এমন কিছু ভাবের সম্মুখীন হয় , যেগুলো প্রকাশ করতে তার সারা জীবনের ধ্বনিসমষ্টি ব্যর্থ হয়। যখন মানুষ ভাষাহীন অনুভূতি প্রকাশে ব্যর্থ হয় , তখন সে সীমাহীন আকাশের দিকে তাকায়। যদি তার এই ব্যর্থতা হয় সুখের , তাহলে অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে ভেষে উঠে এক টুকরো জান্নাতি হাসি। আর তা যদি হয় কান্নার , তাহলে অজান্তেই তার দু’চোখ ভড়ে উঠে উষ্ণ তরল নোনা আঁসুতে।

দু:খ ও বেদনার এই ভাষাহীন মুহূর্তে মানুষ জীবনের প্রতি ক্লান্তি বোধ করে। একটু বিশ্রাম নিতে চায়। ক্লান্ত মুসাফির যেমন বিশ্রামের জন্য এক টুকরো ছায়ার খোঁজ করে , মানুষও তেমনি সান্ত্বনার জন্য একটি ছায়ার খোঁজ করে .. মানব ছায়ার ।

মানুষ তখন এমন একটি ছায়ার খোঁজ করে যার কাছ থেকে সে সান্ত্বনার একটু ছোঁয়া পাবে .. আশার দু’টি কথা শুনবে .. জীবনের একটু আলো পাবে ।