ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

রাজনীতি যে একটু পরিবর্তন হচ্ছে তা দৃশ্যমান। চীনের নেতৃত্বে ব্রিকস, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প প্রতিষ্ঠান যাত্রা করেছে আরও আগেই। চীনের জন্য হাল আমলে সমীকরণ সহজ করে দিয়েছে রাশিয়া। জোটে রুশরা আছে, সহমত পাওয়া যাচ্ছে অন্য ইস্যুতেও। আর গত হতে যাওয়ার পথের মোড়লরা এখনও ঘর ঘুচাতেই পারেননি, ইদানিং একটু খাপছাড়াই মনে হচ্ছে। সম্প্রতি খেলাটা একটু জমিয়ে তুললো উত্তর কোরিয়া।

অদ্ভুত স্বভাবের এই জাতি একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞের উপকরণে নিজেদের সক্ষমতা দেখাচ্ছেন, এবার রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষা চালালো। এই মহাকাশ কর্মসূচিকে ‘যুগান্তকারী বিপ্লব’ বলে আখ্যা দিলেন মহাশয় কিম জং উন। উৎক্ষেপনের দিন আরও জানালেন, ‘আজ উত্তর কোরিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। গোটা বিশ্ব খুব শীঘ্রই এর গুরুত্ব বুঝতে পারবে।’ এদিকে একের পর এক পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। উৎকন্ঠায় আমেরিকা সহ প্রতিবেশী দ.কোরিয়া এবং জাপান। কিন্তু চীন যেন উ.কোরিয়ার জন্য বড় ভাই হয়ে হাজির। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী রেক্স টিলারসন যখন স্বয়ং চীন সফরে ঠিক তখনই উত্তর কোরিয়ার রকেট উৎক্ষেপনে উদ্বিগ্ন চীন টিলারসনকে বললেন এটি তারা কোরিয়াকে বুঝাবেন। আর অন্য অধিপতি পুতিনও চুপ।

এদিকে জাপান কর্তাও উ.কোরিয়া ইস্যুতে বেশ উদ্বিগ্ন, আরও চিন্তিত দ. চীন সাগরে চীনের আধিপত্যে। আ্যবে হন্য হয়ে ছুটছেন ইউরোপ মিত্রদের কাছে, মুক্ত বাণিজ্য ইস্যুতে ট্রাম্পকে ও পাশে পাচ্ছেন না। সামগ্রিকভাবে চীন আছে বহাল তবিয়তে, রাজত্বের ধান্ধায়, সঙ্গে পাচ্ছে পাগলা ঘোড়া উ.কোরিয়া আর কৌশলী পুতিনকে। ট্রাম্প আপাতত রাশিয়ার বিরুদ্ধে নয়, মাঝে সাঝে প্রশংসাও করে। আমাদের প্রধান ও কৌশলী পথে সম্পর্ক উন্নোয়নে আগে থেকেই জোর দিয়েছেন ভারত-চীন-রাশিয়ার দিকে। আগামীর সময় যখন এশিয়ার বাংলাদেশও তার বাহিরে নয়। দৃশ্যতই বিশ্ব রাজনীতি পাল্টাচ্ছে, বুঝা মুশকিল ট্রাম্পকেও, যিনি প্রতিনিয়তই চমকে দেন, তাকে খেলতে হবে কৌশলী পুতিন আর শক্তিশালী চীনের সাথে, আর তিনি মহাবিশ্বের মহাসাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রনে কি করেন তাও দেখার বিষয়।