ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

জেরুজালেমে আজ ১৪ই মে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে টুইটারে এক বার্তায় ইসরায়েলকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি। হিসেব করেই আজকের দিনটিকে বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প। ১৯৪৮ সালের ঠিক একই তারিখে আরেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর নিয়ে উদ্দীপনা বিরাজ করছে ইসরায়েল জুড়ে। উদ্দীপ্ত ইসরায়লের এক মন্ত্রী বলেই ফেলেছেন, “ট্রাম্পের কাছ থেকে এর চেয়ে বড় উপহার আর কি হতে পারে!”

 

জেরুজালেমের পুরনো শহরের একটি অংশ। ছবি: রয়টার্স

 

তিন ধর্মের লোকদের ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা জেরুজালেম। মুসলমানদের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ আল-আকসা এখানে। তাই আজ দূতাবাস স্থানান্তরকে ঘিরে সকল সংঘর্ষ এড়াতে বিমান টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েল। জেরুজালেমে আজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে আজান।

সকল আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নিষেধ উপেক্ষা করে ট্রাম্প জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমলে নেননি জাতিসংঘ, পোপ ফ্রান্সিস, মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ, মার্কিন মিত্রদেশ ও প্রভাবশালী কয়েকটি রাষ্ট্রের আহ্বানও। ফলে জেরুজালেম নিয়ে চলমান সংঘাতের একটি স্থায়ী রূপের ব্যবস্থা করে দিলেন ট্রাম্প! ধারণা করা হচ্ছে, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে উস্কানি দিতেই এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

যুদ্ধ আর সংঘাত থেকে বের হয়ে আলোচনা সাপেক্ষে বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে একসময় জাতিসংঘ তৈরি হয়। সৃষ্টি হয়েছে আরও অনেক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা। উগ্রবাদ থেকে বের হয়ে মানবিক বিশ্ব গড়ার এই চেষ্টা যখন অব্যাহত, তখন এমন আলোচনাহীন নিশ্চিত উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাওয়া এক সিদ্ধান্ত কিভাবে এত সহজে বাস্তবায়িত হতে পারে সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠারই কথা। তাহলে কি সত্যিকার অর্থেই সব লোক দেখানো শৃংখলা আর শান্তির চর্চা? না হলে বাকি সব প্রভাবশালী মোড়লরা কেন এমন একতরফা আয়োজনের ‍বিপরীতে দৃঢ় ভূমিকা রাখছে না? এটা তো সবাই বুঝতে পারছে যে, এই ঘটনা আগামীতে বিশ্বজুড়ে সংঘাতকে আরো ত্বরান্বিত করবে। কারণ সারা বিশ্ব যখন গ্লোবাল ভিলেজ, তখন কোন উত্তেজনাই তো শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না।

 

 

যদিও ইতোমধ্যে অনেক দেশের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার কথা ইসরায়েলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, ইরান, জর্ডানসহ বহু দেশ। জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড, রাশিয়া ও সুইডেন উপস্থিত থাকবে না বলে জানিয়েছে। ব্রিটেন আর ফ্রান্সও জানিয়েছে তারা এ স্থানান্তরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আর ফিলিস্তিনজুড়ে ধর্মঘট আর বিক্ষোভ তো ডাকা হয়েছেই। মৌখিক বিরুদ্ধ অবস্থানের কথা জানালেও এই নিন্দনীয় ঘটনার বিরোধীতায় সরাসরি এখনো কেউ নামেনি।

গেল সপ্তাহে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল ইস্যুতে কোনোভাবেই ট্রাম্পকে বুঝাতে পারলেন না ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, জার্মান চ্যান্সেলর এবং যুক্তরাজ্যের মত যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্টজনরা। জেরুজালেম ইস্যুতেও কাউকে কোন কিছুতে বিবেচনায় রাখেননি ট্রাম্প।

তবে সাম্প্রতিক বিশ্ব রাজনীতিতে একটি বিপরীত ঘটনার উদাহরণ হয়তো পাওয়া যাবে। সমঝোতা নয় বরং হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে কিম জং উন শেষ পর্যন্ত আলোচনার পরিবেশ নিয়ে এসেছেন। আর এভাবেই উত্তর কোরিয়া নিয়ে এই ঘটনা কয়েক দশকের মার্কিন নীতিকে পুরো বদলে দিয়েছে! বিপরীতে আলোচনার মাধ্যমে সকল সম্প্রদায়ের অধিকার সমুন্নত না রেখে জেরুজালেমে ইসরায়েলের একক কর্তৃত্ব রক্ষার এমন মার্কিন প্রণোদনা বিশ্বের জন্য সত্যিই এক অশনিসংকেত।