ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, সুরের ভুবন

তিনি বাংলাদেশি গায়ক। উপমহাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট ও স্টেজ পারফর্মার। ব্যান্ড ‘লাভ রুইনস ব্লাইন্ড’ এর প্রতিষ্ঠাতা। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার আসনে থেকে জয় করেছেন কোটি সংগীতপ্রেমির মন।  তিনি আইয়ুব বাচ্চু।

১৯৬২ সালের ১৬ অগাস্ট চট্টগ্রামের এক বনেদি হাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম রবিন। পড়েছেন গভ. মুসলিম হাইস্কুলে। সংগীতশিল্পী আজম খানে মুগ্ধ হয়ে ব্যান্ডে আগ্রহ তৈরি হয় আইয়ুব বাচ্চুর।

১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে গানের জগতে যাত্রা শুরু করেন। ১৯৮০ সাল থেকে ১০ বছর সোলস ব্যান্ডের সাথে ছিলেন লিড গিটারিস্ট হিসেবে।

পরে ১৯৯১ সালে নিজে তৈরি করেন এদেশের সেরা ব্যান্ড এলআরবি। তারপর একে একে বের করেন  ‘ফেরারি মন’,  ‘ঘুমন্ত শহরে’,  ‘হকার’,  ‘অচেনা জীবনে’,  ‘মনে আছে নাকি নাই’, ‘স্বপ্ন’,  ‘সুখ’, ‘তবুও’, ‘মন চাইলে মন পাবে’ এর মত জনপ্রিয় সব এ্যালবাম।

গেয়েছেন ১৬টি  একক  এবং ১২টি ব্যান্ড অ্যালবামে।

দেশের বাহিরে যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে প্রথম পারফর্ম করেন। এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকায় আমন্ত্রিত হয়ে অসংখ্য অনুষ্ঠানে গান করেছেন। অসম্ভব ভালোবাসায় সঙ্গীতপ্রেমীদের মুখে মুখে থাকা তার গানের সংখ্যা পঞ্চশের অধিক।

বিচারক হিসেবে ছিলেন রক ফেস্ট ইন্ডিয়া এবং ডি রকস্টার ওয়ানে। ছিলেন ‘বাংলাদেশি আইডল’ এর প্যানেল বিচারক। শুধু গানই গেয়ে যাননি; মিউজিক তৈরি করেছেন আজম খান, খালিদ হাসান মিলু, আলম আরা মিনু, তপন চৌধুরী, শেখ ইশতিয়াক, রুপম, হাসান, আবিদুর রেজা জুয়েলসহ আরও অনেক কিংবদন্তি শিল্পীর জন্য।

গীতিকার আইয়ুব বাচ্চুর ছিল উদ্ভাবনি উপায়ে গান লেখার পারদর্শিতা। ফেইসবুক আইডিতে ছোট আকারে লিরিক পোস্ট করতেন। ২০১৬ সালের দিকে পোস্টগুলোতে দেখা যায়, গানের দুই লাইন লিখে পরবর্তী লাইন ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে যে কাউকে লেখার আহ্বান জানাতেন। পরবর্তীতে নিজেসহ সবার থেকে নেয়া লাইনে সাজাতেন পূর্ণ গান।

আইয়ুব বাচ্চু রক, আধুনিক, ফোক, ক্ল্যাসিকসহ বিভিন্ন ঘরানার গানে মুগ্ধ করেছেন এদেশের মানুষকে। প্লেব্যাকের  ‘অনন্ত প্রেম’ অথবা  ‘আম্মাজান’ গান শোনেননি এমন মানুষ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘একচালা টিনের ঘর’, ‘সেই তুমি’সহ বহু শ্রোতাজয়ী গান এখনও গেয়ে ওঠে শ্রোতারা।

শেষ অ্যালবাম ‘স্পর্শ ‘। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছেন কলকাতায়।

প্রিয় আইয়ুব বাচ্চুর ৫৬ বছরের আলোচিত কর্মযজ্ঞের সমাপ্তি হয়েছে ১৮ অক্টোবর।

তিনি আমাদের শৈশব, কৈশোর, যৌবনের কিংবা পৌড়ত্বের বহু অমলিন স্মৃতির সঙ্গী। কোথাও  আইয়ুব বাচ্চুর গান শোনা যাবে আর আমরা স্মৃতি কাতর হবো না এমনটা নিশ্চয়ই হওয়ার নয়। আপনি ভালো থাকবেন, আপনার কণ্ঠে আমাদের মুগ্ধ হওয়া শেষ হবে না।