ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

অস্থির এই সময়ে পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রই নিশ্ছিদ্র নিরাপদ নয়, ফলে যে কোন রাষ্ট্রেই যে কোন সময় ঘটতে পারে সন্ত্রাসী হামলা। তাই বলে কি পৃথিবীর সব রাষ্ট্র সমান ঝুঁকিপূর্ণ? নিরাপত্তার ঝুঁকির প্রশ্ন তুলে অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল করার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গত কিছুদিনের আলোচনায় অনেক কে দাবি করতে দেখলাম সব রাষ্ট্র নাকি সমান ঝুুঁকিপূর্ণ। তাদের সেই দাবির পেছনে মূল শক্তি ছিলো আমেরিকা-অষ্ট্রেলিয়ায় দুটো সন্ত্রাসী হামলা। অনেকে কে দেখলাম বাংলাদেশে, আমেরিকা-জার্মানী সহ অন্যান্য নাগরিকদের মতো ওই দেশে বাঙালিদের ভ্রমন এবং চলাফেরার উপর সতর্কতা জারির আহবান করতে। এই আহবান কি অন্ধ দেশপ্রেম নাকি অষ্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল না আসার ক্ষোভ সেটি বুঝতে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের একটু গভীরে প্রবেশ করা চাই।

প্রথমেই আবেগ-মোহ দূরে সরিয়ে প্রসারিত চোখে দেখতে চেষ্টা করি আসলে কি উল্লেখিত রাষ্ট্র বাংলাদেশের মতো সমান ঝুঁকিপূর্ণ? কে, কিভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তা জানতে সন্ত্রাসের ধরণ এবং আইনের শাসন বুঝা আবশ্যক। মোটা দাগে আমরা সন্ত্রাস কে দুভাগে ভাগ করতে পারি। ১। ব্যক্তি সন্ত্রাস (যা পরিচালিত হয় জাগতিক মোহে। ব্যক্তি শত্রুতা/ক্রোধ/ক্ষমতার লড়াই কখনো বা মানসিক অসুস্থ(সাইকো) দ্বারা ব্যক্তি সন্ত্রাস হয়ে থাকে।) ২। মৌলবাদী সন্ত্রাস ( যে সন্ত্রাসের পেছনে জাগতিক মোহ থাকে না, থাকে আদর্শ। এ ধরণের সন্ত্রাসে সন্ত্রাসীর আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক যে কোন মানুষ, রাষ্ট্র কিংবা একেবারে নিরাপরাদ আমজনতা থাকে লক্ষ্য বস্তু)। এই দু ধরণের সন্ত্রাস বুঝতে সক্ষম হলে এইটুকু বুঝা সম্ভব ব্যক্তি সন্ত্রাসের চেয়ে মৌলবাদী সন্ত্রাস অনেক বেশি ভয়ংকর এবং হুমকিস্বরূপ।

ব্যক্তি সন্ত্রাস তথা জাগতিক মোহের সন্ত্রাসে দুই-চার-দশজন বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন খুন হয়। ইউরোপ-আমেরিকা-অষ্ট্রেলিয়া-আফ্রিকায় ও সংখ্যায় কমবেশি হলেও এমন অপরাধ সংঘটিত হয়। আমেরিকায় এই হত্যাকান্ডের পরিমান অন্য দেশের চেয়ে বেশি। এর অন্যতম করার এখানে মানুসিক অসুস্থতায় ভোগা মানুষের পরিমান বেশি, এছাড়া ব্যক্তিগত অস্ত্র এখানে অনেক সহজলভ্য। কারণ যাইহোক এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই ব্যক্তি সন্ত্রাস সব রাষ্ট্রেই হয় এবং ভবিষ্যতেও হবে। তারপরও রাষ্ট্রের দায়িত্ব এটিকে দমন করা। আর এই দমন করার জায়গাতেই ইউরোপ-আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের পার্থক্য। বাংলাদেশে একজন সাংসদ শিশুকে গুলি করে তিনদিন গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরতে পারে আর ইউরোপ-আমেরিকায় সেটা কল্পনাতেও সম্ভব না। বাংলাদেশে খুনীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, গ্রেফতার হয় না আর হলেও জামিনে বের হয়ে যায় আর আমেরিকায় খুনীদের হয় গ্রেফতার হতেই হয় আর না হলে গোলাগুলিতে স্পট মৃত্যু বরণ করতে হয়। বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই, আছে দলের শাসন। দল ক্ষমতায় থাকলে আইন তখন সেই দলের লোকের জন্যে প্রযোজ্য হয় না। আর উন্নত বিশ্বে আছে সত্যিকার আইন যা সবার জন্যে সমান। বাংলাদেশের অনেক সাংসদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আছে, কমবেশি সব সাংসদের সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। যারা টেন্ডারবাজি-দখলবাজি-লুটের শাসন কায়েম করে। ইউরোপ আমেরিকায় সাংসদদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকে না, সন্ত্রাসী করে কেউ এখানে সাংসদ হতে পারে। উন্নত রাষ্ট্রগুলো তে আইনের শাসন আছে, অপরাধ করে ক্ষমতা দিয়ে সেখানে পার পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশে অপরাধ করলে অপরাধীদের বাঁচাতে রাষ্ট্র আইন তৈরি করে। যেমন ৭৫র হত্যাকারীদের বাঁচাতে জিয়াউর রহমন ইনডিমিনটি করেছিলো তেমনি ২০০১-০৬ বিএনপি-জামাতের শাসনামলে অপারেশ ক্লিনহার্টের নাম করে নব্বই দিনের মিনি সেনা শাসনে ৫৯ ব্যক্তিকে হত্যাকারীদেরও বাঁচাতে বিএনপি সরকার দায়মুক্তি আইন করে। সুতরাং ব্যক্তি সন্ত্রাসে আর তার বিচারে বাংলাদেশ আর উন্নত রাষ্ট্র কখনো একই অবস্থানে নেই।

ব্যক্তি সন্ত্রাসের পরে আসি মৌলবাদী সন্ত্রাসে। গত আট-দশ বছরে বাংলাদেশে কোন জঙ্গি হামলা হয় নি। ২০০১-০৬ বিএনপি জামাতের ভয়ানক দু:শাসন চিন্তা করলে এটি অনেক বড় সাফাল্য। ২০০১-০৬ সালে পুরো ছাপান্নো হাজার বর্গমাইল ছিলো জঙ্গিদের নিরাপদ আবাসভূমি। তারা মনের আনন্দে সারাদেশের একযোগে পাঁচশ স্থানে বোমা ফুটিয়েছে, বোমা মেরে বিরোধী দলের নেতা-নেত্রী হত্যা করেছে, মানুষ মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে তারপরও তাদের অস্তিত্ব কে রাষ্ট্র কর্তৃক অস্বীকার করা হয়েছে। জঙ্গিদের এমন অভায়রণ্য থেকে দেশকে নিরাপদ রাখা চারটে খানি কথা ছিলো না। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আওয়ামিলীগ সরকারের শক্ত অবস্থানের কারণে সেটি সফল হয়েছিলো। তবে এই সাফল্য ম্লান হয়ে গেছে ২০১৩র ১৫ই ফেব্রুয়ারি তে ব্লগার রাজীব হায়দার কে হত্যার মধ্য দিয়ে। মূলত ২০১৩ সাল থেকেই শুরু হয় নাস্তিক নাম দিয়ে মৌলবাদীদের ব্লগার হত্যার উৎসব। ব্লগার হত্যা কোন ব্যক্তি সন্ত্রাস নয়, কারণ এই হত্যাকান্ড সংঘটিতে হয় একটি নিদিষ্ট আদর্শকে বাস্তবায়িত করতে। মুক্তমনে যারা চিন্তা করে, নানান অসাড়তা-ধোঁকাবাজি-অন্ধবিশ্বাসের বিপক্ষে যারা কথা বলে তাদের কে থামিয়ে দিতে এমন হত্যাকান্ডগুলো সংঘটিত হয়। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকে সরকার বিস্ময়কর ভাবে নাস্তিক নাম দিয়ে ব্লগার হত্যায় মৌলবাদী নানান সংঘঠনের নানান চাপে নীরব থেকেছে, আক্রান্তকারীদের কে নরম করে লেখার পরামর্শ দিয়েছে, গ্রেফতার করেছে, এমনকি মৌলবাদীদের ভয়ে/আপোষে তাদের জন্যে ৫৭ ধারার মতো মধ্যযুগীয় আইনের জন্ম দিয়েছ। বাড়তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পুত্র ব্লগার হত্যার প্রতিবাদকারীদের নির্বোধ বলে সম্ভাষন করেছে!

হাজার মানুষের সামনে একুশের বইমেলায় বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক অভিজিত কে হত্যা করা হয়েছে অথচ ছয়মাসে সেই হত্যার প্রকৃত আসামী কে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামীদের গ্রেফতার করার খুব বেশি আগ্রহও দেখায়নি তারা। যদি আগ্রহ থাকতো তাহলে অবশ্যই সেই ঘটনায় আহত অভিজিতের স্ত্রী বন্যা আহমেদের সাহায্য চাইতো। বাংলাদেশ পুলিশ-গোয়েন্দার কেউই বন্যা আহমেদের সাথে যোগাযোগ করেনি। পুলিশের গাড়ে দোষ চাপিয়ে কি হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের সন্তান মৌলবাদীদের হাতে খুন হলে প্রকাশ্যে সমবেদনা জানাতে সাহস পায় না সেখানে পুলিশ আসামী ধরবে কোন গরজে? শুধু অভিজিত নয় প্রায় প্রতিটি ব্লগার হত্যার তদন্ত চলছে শম্ভুক গতিতে আর বিচার সে তো হাজার মাইল দূরের কোন অন্ধকারে ডুবে আছে কে জানে?

২০১৩ সালের ৫ই মে হেফাজতে ইসলাম নামের মৌলবাদী সংগঠন যে নারকীয় বিভৎসতা জাতি কে উপহার দিয়েছিলো তারও কোন বিচার হয়নি বাংলাদেশে। গাছ কেটে, আগুন দিয়ে, রাস্তা কেটে, নারী সাংবাদিক পিটিয়েও হেফাজতে ইসলাম দেশের আইনের চোখে কোন অপরাধ করেনি। অপরাধ করেনি বলেই এমন ঘটনার মূল হোতা হেফাজতের শীর্ষ নেতা আহমদ শফি কে গ্রেফতার করতে পারেনি সরকার। এ থেকেই বুঝা সম্ভব সরকার মৌলবাদী গ্রুপগুলোর কাছে কতোটা মাথা নত করে রেখেছে। আর এই মাথা নত কিংবা আপোষই দেশে আরো অসংখ্য মৌলবাদীদের সাহসী করে তুলেছে। ব্লগার হত্যর বিষয়ে উদাসীনতা, জামাতে ইসলাম কে নিষিদ্ধ করণে গড়িমসি করা, হেফাজতে ইসলামের অপরাধের বিচার না করা দেশে আবারও মৌলবাদীদের সংগঠিত করেছে। ফলে গড়ে উঠেছে আলকায়দা-আনসারুল্লার শক্তিশালী দল, এমনকি সময়ের সবচেয়ে বড় আতংক আইএসও এসে আস্তনা গেড়েছে এই দেশে। অনেক অন্ধ আওয়ামিলীগার থেকে শুরু করে বেশিভাগ বাঙালি মনে করে যে দেশে বেশিভাগ মানুষ অশিক্ষিত, ধর্মান্ধ সে দেশে লেখালেখিতে সাবধান হওয়া উচিত। অর্থাৎ ৯০ ভাগ মানুষ যে দলে থাকবে তাদের অধিকার বেশি থাকবে। তাদের সংখ্যার জোরেই অন্যদের অধিকার রহিত থাকবে। তাদের ভাষ্য সব মানুষ শিক্ষিত না হলে এমন লেখালেখি ঠিক নয়। এমন অসম্ভব মিষ্টি আর সহমর্মিতার যুক্তিবাদীদের শুধু একটা ঘটনার কথা বলে যাই।

১৯৫৪ সালের আগে পর্যন্ত আমেরিকার অনেক স্টেটে আইনই ছিলো এমন যে ওখানে শ্বেতাঙ্গ আর কৃষ্ণাঙ্গরা এক স্কুলে পড়তে পারবে না। সেই আইন বদলে যাওয়ার পর কিছু কিছু স্কুল শ্বেতাঙ্গদের স্কুলে আফ্রিকান আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গদেরকে ভর্তি করানোর চেষ্টা করে। ১৯৫৭ সালে, আরকানসা’র রাজধানী লিটল রক শহরের Little Rock Central High School এ নয়জন ভর্তি হয়, যাদের ক্লাস শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। ২৩শে সেপ্টেম্বরে এসে, এই ৯ জনের ওপর নেমে আসে ভয়ের বিষণ্ণ ছায়া। তাদের সামনে এসে হাজির হয় হাজারের ওপরে উগ্র শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানের একটি দল। এরা সবাই বিদ্রোহ করছিলো স্কুলের সামনে। এরা চায়নি যে, ঐ ৯ জন সেই স্কুলে পড়ার সুযোগ পাক। লিটল রক এর পুলিশ ঐ ৯ জনকে নিরাপদে স্কুলের ভেতরে সরিয়ে নিয়েছিলো।

পরেরদিন পরিস্থিতি নিজের হাতে তুলে নিলেন খোদ প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার। তিনি ১২০০ সৈন্য পাঠালেন যাতে ঐ ৯ জনকে নিরাপদে স্কুলে পৌঁছে দেয়া যায়। শুধু তাই নয়, যে কোনো মুহূর্তে যদি অবস্থা আরো ঘোলাটে হয়ে যায়, সেজন্য আরকানসা’র ১০,০০০ সৈন্যকে জাতীয় (ফেডারেল) ক্ষমতার এখতিয়ারে নিয়ে আসেন। তখন ঐ ৯ জনকে ৩ দিন স্কুলের মধ্যে আটকে থাকতে হয়েছিলো। অনেক পরে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ৯ জনের ১ জন বলেছিলেন, “তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একত্রীকরণ (integration) শব্দটা আসলে আমি যা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বড়।”

পুরো আমেরিকা তখন এই খবরটা দেখলো, তোলপাড় হয়ে গেলো। এই প্রথম ওরা বুঝতে পারলো যে, ১৯৫৪ সালে একত্রীকরণের যে আইনটা করা হয়েছিলো, তা আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। এরপর থেকে সবাই আস্তে আস্তে বুঝতে পারে যে, জাতীয় সরকার এই আইন বাস্তবায়নে কতটা সচেতন! সেই নয়জনকে একসাথে করে বলা হয়, Little Rock Nine. তারা ইতিহাসের অংশ! সরকার এই ৯ জনকে রক্ষা করার মাধ্যমে এটাই বুঝিয়েছিলো যে, যে কোনো উগ্র গোষ্ঠীর উন্মত্ত চিন্তাকে সরকার চাইলেই কঠোর হস্তে দমন করতে পারে।

সুতরাং তালগাছ নিজের পক্ষে নিয়ে অসীম শান্তিতে বিশ্বাসী উপদেশ দেওয়া মানুষজন আশা করি এই ঘটনা থেকে বুঝতে সক্ষম হবেন যে রাষ্ট্র কখনো সংখ্যা দিয়ে অধিকার বিচার করে না, করতে পারে না বিচার করে ন্যর্যতা দিয়ে। আর পৃথিবীতে যেখানেই অন্যায় কে সরিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেখানে অন্যায়কারীর সংখ্যা বেশি ছিলো। জনগন মুর্খ হলে রাজনৈতিক দল তথা সরকার মুর্খের মতো আচরণ করতে পারে না, প্রত্যেক মানুষের যে আদর্শই থাকুক না কেন সরকার তথা রাষ্ট্রের নিদিষ্ট আদর্শ থাকতে হয়। আর সেই আদর্শ হতে হয় ন্যায় এবং সত্যের। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে সেটি নেই। অন্যদিকে ইউরোপ-আমেরিকায় মত প্রকাশের অপরাধে কাউকে হত্যা করা হয় না, মৌলবাদী সংগঠন সেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙ্গচুর-আগুন লাগাতে পারে না, আর করতে চেষ্টা করলে সরকার চুপটি মেরে বসে থাকে না। সুতরাং মৌলবাদী সংগঠনদের বিষয়ে বাংলাদেশ আর উন্নত রাষ্ট্রের মাঝে বিস্তর পার্থক্য আছে। সেই পার্থক্যের কারণেই জঙ্গি হামলার আশংকা উন্নত রাষ্ট্রের তুলনায় বহুগুণ বেশি আছে।

আপনি দেশকে ভালোবাসেন কিন্তু সেই ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে সবকিছু অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকুন।বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে অস্বীকার আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদহীন থাকলে নিজেই সেই হামলার স্বীকার হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। প্রথমে নাস্তিক ব্লগার দিয়ে শুরু করলেও এখন বিদেশী নিরাপরাধ নাগরিকদের খুন করে তারা তাদের শক্তিমত্তা কে জানান দিচ্ছে। একটা কথা মনে রাখতে হবে মৌলবাদীদের যতই দুধ কলা খাইয়ে পোষ মানানো হোক কিংবা যতই তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হোক তারা বাংলাদেশে এখন যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে আছে। মৌলবাদী ছাড়া মৌলবাদীদের কোন বন্ধু নেই, সুতরাং ঘরে বাহিরে সর্বত্র মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সেচ্চার হোন, সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করুণ। না হলে সরকারের মতো আমার-আপনার সকলের অবস্থা বিপন্ন হবে দিনে দিনে।

(আমেরিকার উদাহরণ টি ফরহাদ ‍মাসুমের ফেসবুক পোষ্ট থেকে সংগৃহীত)