ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

পৃথিবীতে নিজের জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। তাই প্রতিটি মানুষের কাছে নিজের জীবন অসীম মূল্যবান। যারা সেই মূল্যবান জীবন মানুষের কল্যানে, দেশের কল্যানে বিলিয়ে দেয় আমরা তাদের কেই কিংবদন্তী জানি, তাদের কে বীর নামে ডাকি। সবাই নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে পারে না তাই এক মানচিত্রে, এক পৃথিবীতে সবাই মহামানব হয় না। বীর না হলে, সবাই কিংবদন্তী না হলে ও কোন জীবনের মূল্য এতটুকু কমে যায় না। একটা মানুষ মানে শুধু একটা জীবন নয়। এর সাথে জড়িয়ে থাকে আরো অসংখ্য জীবন, অসংখ্য বন্ধন। যে বন্ধন দিয়ে আমরা পরিবার গড়ে তুলি, যে বন্ধন দিয়ে আমরা সমাজ তৈরি করি, রাষ্ট্র গঠন করি। অথচ সেই মহা মূল্যবান মানুষ কে কোথাও হত্যা করা হলে যখন কেউ বলে এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তখন এরচেয়ে বড় বেদনাদায়ক কোন শব্দ আমি খুঁজে পাই না। একটা মানুষের হত্যা কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে দেখা মানে সেই মানুষের সাথে সম্পর্কিত সব কিছুকে তুচ্ছ করা, অপমান করা। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে প্রতিনিয়ত সেই চর্চা চলছে।

এই তথাকথিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাংলাদেশে এখন প্রতিদিন ঘটে। এমন বিচ্ছিন্ন ঘটনায় অভ্যস্ত হতে হতে আমরা শোকাহত হতে ভুলে গেছি। প্রতিদিন দুই-চারশ খুন হচ্ছে না বলই আমাদের রাষ্ট্র নায়েকেরা যেখানে আততৃপ্তির ঢোকর তুলছে সেখানে তৃপ্ততা ভুলে আমরা ক্ষুদ্ধ হই কি করে? আমরা তাই এখন ক্ষুদ্ধ হই না, অন্যায়-অবিচারে স্বর্গভূমে ডুবে থেকেও আমরা এখন বিদ্রোহ করি না। আমাদের বিদ্রোহের জায়গায় এখন আত্নতৃপ্তি বাস করে। ভাবছেন কি করে? খুব সহজ, প্রতিটি খুনের পর যখন প্রশ্ন উঠে দেশের আইন শৃঙ্খলার অবস্থা কি নাজুক ঠিক তখনি আমাদের পুলিশ প্রধান থেকে সরকার প্রধান সবাই বলে উঠেন খুন খারাবি আম্রিকা-অষ্টেলিয়াতে ও হয়। কেউ কেউ দাবি করেন ওখানে খুন খারাবি আমাদের চেয়েও বেশি হয়, ওখানে যদি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন না উঠে তাহলে আমাদের এখানে উঠবে কেন?

হ্যাঁ এই দাবি আংশিক সত্য। এই অস্থির সময়ে পৃথিবীর সকল মানচিত্রেই মানুষ হত্যা চলছে। তাই খুন দিয়েই একটা রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা কে বিচার করা যায় না। খুন রোধ করার পাশাপাশি খুনের বিচার সম্পন্ন করাও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত। আর এখানেই বাংলাদেশের সাথে উন্নত রাষ্ট্রের মূল পার্থক্য। উন্নত রাষ্ট্রে খুন হলে আসামী দ্রুত গ্রেফতার হয়, দ্রুত বিচার হয়। অপরাধ করে সেখানে পার পাওয়া যায় না। আর বাংলাদেশে? একটা উদাহারণ-ই দেই, হেফাজতের মতো ধর্মান্ধ একটা দল বছর দেড়েক আগে পুরো ঢাকা কে তছনছ করার পর আজও সেই ঘটনার মূল হর্তাকর্তা-রা দিব্যি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়, জাতিকে নানান স্তবক দেয়! তাই আমাদের দেশে সংঘটিত হত্যার সাথে উন্নত রাষ্ট্রের হত্যার তুলনা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা সর্বত্র সমান আছে দাবি করা অনেক বড় মিথ্যাচার এবং সত্য ঢাকার নির্লজ্জ অপপ্রয়াস। উন্নত রাষ্ট্রে খুন হয়, তাই আমার রাষ্ট্রেও খুন হতে পারে এমন আত্নতৃপ্তির বক্তব্য রাজনৈতিক ভাবে, আইনগত ভাবে সেই খুন কে, সেই অন্যায়ের অপরাধ কে হালকা করে দেয়। যে দেশে তালিকা করে মানুষ হত্যা করা হয় সে দেশ কখনো আম্রিকা-অষ্ট্রেলিয়ার সাথে তুলনীয় হতে পারে না, সে দেশ কোনভাবে সবার জন্যে সমান নিরাপদ হতে পারে না। উন্নত রাষ্ট্রে কাউকে খুন করা হলে সরকার কিংবা প্রশাসন দু-পক্ষকে দোষী বলে না, কাউকে সাবধান হয়ে লেখার পরামর্শ দেয় না।

এই যে সীমার মধ্যে থেকে লেখার পরামর্শ, এই যে কাউকে খুন করার পর খুন আর আক্রান্তকারী দুভাগে ভাগ করে সমান দোষারপ করা এই চর্চা কি শুধু ধর্মান্ধ-রা করছে? না, শুধু ধর্মান্ধরা নয়, শুধু রাজনৈতিক নেতারা নয়, শুধু আইনের সেবক-রা নয় সুশীল বুদ্ধিজীবি থেকে কবি-লেখকরাও করছে। আর এই সবি প্রমাণ করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রখানি এখন পূর্ণ দমে নষ্টদের দখলে চলে গেছে। কিছুদিন আগে দেশের অন্যতম সব্যসাচী লেখক বলে পরিচিত সৈয়দ শামসুল হক বলেছেন,

‘রাষ্ট্র যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। ভাল ভূমিকা বলতে কি মনে করছেন আপনি? পাঁচটা গুণ্ডা এসে একজনকে আক্রমণ করবে, রাষ্ট্র সেখানে কি রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাঁড়িয়ে থাকবে?’ তিনি মনে করেন, ‘যারা লিখছেন, যারা এই সমস্যার সঙ্গে পরিচিত তাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে।…প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে। রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, কোনো রাষ্ট্রই পারবে না। আপনি যদি বলেন, সব চেয়ে নিরাপত্তহীন রাষ্ট্র হচ্ছে আমেরিকা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)। যেখানে অমন দু’টো টলেস্ট বিল্ডিংকে ধ্বংস করেছে। …পৃথিবীর আর কোনো দেশে এমনটা হয়নি। তাহলে কিভাবে বলছেন আমরা এখানে নিরাপদ নই?’

অর্থাৎ এই লেখক ও বলছেন লেখকদের ও সাবধান হতে হবে, সতর্ক হতে হবে। প্রশ্ন হলো এই সতর্কতা কি? লেখা বাদ দিয়ে লেখক কি নিয়ে সতর্ক হবে? নিজের জীবন নাকি লেখার ধরণ? সবগুলো প্রশ্নের উত্তর এক করলে যে উত্তর আসে তার সারমর্ম হলো লেখকদের এমন কিছু লিখা যাবে না যাতে অন্যের ধর্মানুভূতি তে আঘাত না লাগে। শুধু লেখকদের পরামর্শ করে তিনি ক্ষ্যান্ত থাকেননি, নির্লজ্জভাবে পা চেটে গেছেন সরকারের। আর সরকারের তোষামদি করতেই সেই পুরানো নিয়মে আম্রিকা কে টেনে এনেছেন। যে লেখক তার অন্ধকার সময়ে একটা দলের পা চাটতে পারে, অন্ধকার কে অস্বীকার করতে পারে সে লেখক কে ও ইতিহাস একদিন নষ্টের ডাষ্টবিনে ছুঁড়ে ফেলবে।

তবে সবকিছু কে ছাপিয়ে গেছে সাংবাদিকদের সাথে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ে। আসলে কি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী? পুরো বক্তব্য থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ে আমি আলোচনা করতে চাইছি। প্রথমে উনি বলেছেন,

’আমার ধর্ম নিয়ে নোংরা কিছু লিখলে আমার সেন্টিমেন্টে লাগে’।

অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর অনুভূতিও আঘাত হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রত্যাহিক জীবনে আমাদের যে হাজার হাজার অনুভূতি আঘাত প্রাপ্ত হয়, তার কি হবে? টুয়েন্টিফোর.কম নামে অনলাইন পত্রিকাগুলো তে যখন নানান অশ্লীলতায় পূর্ণ খবর দেখি তখন আমার সৌন্দর্য্যবোধের অনুভূতিতে আঘাত হয়, ওয়াজ মাহফিলের নাম করে হিন্দু ধর্মের মানুষ এবং তাদের দেবতাদের গালাগালি করে তখন আমার অনুভূতিতে আঘাত হয়, সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ কে হিন্দুয়ানি কবি বলে যখন কেউ গালি দেয় তখন আমার রবীন্দ্রনুভূতি তে আঘাত হয়, কেউ যখন মানুষ পুড়িয়ে জাতিকে উদ্ধার করতে সংবাদ সম্মেলন করে তখন আমার অনুভূতিতে আঘাত হয়, জিয়া কে জাতির ঘোষক বলে যখন কেউ মহান করে তুলে তখন আমার সত্য অনুভূতিতে আঘাত আসে, একজন এম্পি যখন একটি শিশুকে গুলি করে দিনের পর দিন বাহিরে ঘুরে বেড়ায় তখন আমার কোমলানুভূতিতে আঘাত লাগে… আঘাতের তালিকা করলে এমন হাজারো করা যাবে। এখন আমার এ সব আঘাতের জন্যে কি আমি এদের সবাই কে হত্যা করবো? নাকি এদের গলা চেপে ধরবো? এই আধুনিক যুগে আমরা কাউকে গলা চেপেও ধরবো না আবার হত্যাও করবো না। যার মত সে দিবে, আমার কাছে গ্রহনযোগ্য হলে গ্রহন করবো না হলে বর্জন করবো, এটাই হলো সহনশীলতা।

দ্বিতীয়ত বলেছেন

’কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এ ধরনের লেখা কিংবা কথা বলা যাবে না’।

এমন ঘোষনার পর যে প্রশ্নগুলো আসে তা হলো এই যে ধর্মানুভূতিতে আঘাতের কথা বলা হচ্ছে তা নির্ধারণ করবে কে? কিভাবে সেই আঘাত পরিমাপ করা হবে? এবং এই ঘোষনা কি সকল ধর্মের জন্যে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে?

পাঁচবেলা নামাজ পড়া মানুষের কাছে ঘরে টেলিভিশন চালানো ধর্মানুভূতি তে আঘাত হতে পারে, মাইকে গান-বাজনা বাজানো ধর্মানুভূতি তে আঘাত হতে পারে। আবার ধর্মান্ধ কাঠ মোল্লাদের কাছে নারীর ক্ষমতায়ন ও ধর্মানুভূতি তে আঘাত হতে পারে। তাহলে কিভাবে নির্ধারণ করবে আঘাত? লেখার ক্ষেত্রে তো এ কথা আরো বেশি করে প্রযোজ্য। বিবর্তন নিয়ে লিখতে গেলে, বিজ্ঞান নিয়ে লিখতে গেলে, ইতিহাস নিয়ে লিখতে গেলে কারো না কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগবেই। তাহলে বিজ্ঞান চর্চা বন্ধ করে দিতে হবে, বন্ধ করে দিতে হবে ইতিহাস চর্চা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পড়াশোনা করা মানুষ। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই নজরুলের রচনা পড়েছেন। তো সেই নজরুল তার কবিতায় বলেছেন

মানুষেরে ঘৃণা করি
ও কারা কোরাণ বেদ বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি
ও মুখ হইতে কেতাব গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে
পুজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল! – মুর্খরা সব শোন
মানুষ এনেছে গ্রন্থ; গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনও

এই কবিতা পড়লে যে কোন ধার্মিকের ধর্মানুভূতিতে আঘাত আসবে নিশ্চিত। তাহলে কি এখন এই কবিতা নিষিদ্ধ করা হবে? কবি নজরুল নিষিদ্ধ হবেন? শুধু নজরুল কেন, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, রোকেয়া থেকে শুরু করে হুমায়ুন আজাদ, আরজ আলী, আহমদ শরীফ, আহমদ ছফা সবাই কে নিষিদ্ধ করতে হবে। এদের প্রত্যেকের অসংখ্য লেখা আছে যা ধর্মের অনুভূতি কে আঘাত করবে।

ধর্মানুভূতির এই আঘাত কি সব ধর্মের মানুষের জন্যে সমান থাকবে? এ্ই প্রশ্নের উত্তর সবার জানা। এ দেশে এখন একটাই অনুভূতি, সেটা হলো মুসলমানুভূতি। এছাড়া বাকী কোন ধর্মানুভূতি নেই। নেই বলেই দিনের পর দিন মন্দির ভাঙ্গা চলছে, প্রতিমা ভাঙ্গচুরের উৎসব যাচ্ছে কিন্তু কোথাও কেউ গ্রেফতার কিংবা সাজা হচ্ছে না।

আচ্ছা দেশে এত জ্ঞানীগুণী সাংবাদিক আছে, তারা কেউ প্রধানমন্ত্রী কেন প্রশ্ন করতে পারলো না নিয়মিত ওয়াজ মাহফিলের নাম করে ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের ছোট করে, তাদের ধর্ম কে গালিগালাজ করে কেন আজ পর্যন্ত ৫৭ ধারায় একজনও গ্রেফতার হলো না? ফেসবুকে মুসলমানুভূতির আঘাতের অভিযোগে তো প্রায় প্রতিদিনি গ্রেফতার চলছে। কেউ কি প্রশ্ন করতে পারে না গত আট বছরে হাজার-হাজার প্রতিমা ভাঙ্গার যে ঘটনা ঘটেছে তাতে একজনেরও কি সাজা হয়েছে?

তৃতীয় অংশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,

আমি সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু আমি আমার ধর্ম পালন করি। এটাই সেক্যুলারিজম।’

এমন অভিনব সংজ্ঞা যদি সেক্যুলারিজমের প্রথম উদ্যোক্তা George Jacob Holyoake শুনতেন তাহলে নিশ্চিতভাবে লজ্জায় মুখ লুকাতেন। তিনি তার English secularism: A confession of belief(Chicago 1896) বইতে সেকুলারিজম কে ব্যাখা করতে গিয়ে বলেছিলেন,

’সেকুলারিজম এমন একটি কর্তব্য পালন পদ্ধতি, যা শুধু ইহিজীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট ও কেবল মাত্র মানবীয় বিবেচনার উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এটি তাদের জন্য যারা ধর্মতত্বকে অস্পষ্ট, অপূর্ণ, আনির্ভরযোগ্য ও অবিশ্বাসযোগ্য মনে করে’।

Oxford Dictionary তে বলা হয়েছে,

’সেকুলারিজম’এমন একটি মতবাদ, যে মতবাদে মানবজাতির ইহজগতের কল্যাণ চিন্তার উপর গড়ে উঠবে এমন এক নৈতিক ব্যাবস্থা, সেখানে থাকবে না সৃষ্টিকর্তা ও পরকালের বিশ্বা ভিত্তিক কোন ধরনের বিবেচনা’।

Encyclopedia তে বলা হয়েছে

সেকুলারিজম’ হচ্ছে এমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন যা সকল ধর্ম বিষ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে।

এমন অসংখ্য উদহারণ দিয়ে প্রমাণ করে দেওয়া যাবে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। সব ধর্মকে নিয়ে মিলেমিশে থাকাকে যদি প্রধানমন্ত্রী ধর্মনিরপেক্ষতা মনে করেন তাহলে সেই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কি করে নিদিষ্ট একটা ধর্ম রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে থাকে? সব ধর্মের যদি সমান অধিকার থাকে তাহলে কেন শুধু মাত্র একটা ধর্মের বাণী দিয়ে রাষ্ট্রের সংবিধান শুরু হবে?

ছোটবেলায় জেনেছিলাম মাছের পঁচন ধরে মাথা থেকে। আচ্ছা রাষ্ট্রের পঁচন ও কি মাথা থেকে ধরে? প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রমাণ করে বাংলাদেশ নামক রষ্ট্রের মাথা তে ও পঁচন ধরেছে, এখন শুধু পূর্ণ শরীরটা পঁচে যাওয়ার বাকী?নাকি সেও পঁচে গেছে বহুকাল আগে?