ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)
আমাদের দেশে মুসলিম নামধারী জামাতি ধর্মের লোকেরা যে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে যুদ্ধ বা জিহাদের নামে, পবিত্র কোরান তাদের সেই যুদ্ধকে কতটা বৈধতা দিচ্ছে তা নিয়ে বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের অবগতির, জন্যই আজকের এই লিখা। কোরানে যুদ্ধকে উপস্থাপন করা হয়েছে, অপ্রীতিকর, বাধ্যবাধকতা, হিসাবে, যখন কোনো উপায় আর নেই , তখন শেষ উপায় হিসাবে যুদ্ধ পরিচালিত হবে ।অবশ্যই যুদ্ধের সময় ও দয়া, ও ধর্মীয় আদর্শের নীতিকে কড়াকড়ি ভাবে মেনে চলতে হবে। কোরানের আয়াতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে,যারা, যুদ্ধ আগে শুরু করে তারা অবিশ্বাসী ।আল্লাহ যুদ্ধ .অশান্তি পছন্দ করেন না:….যত বার তারা যুদ্ধের আগুন জালায়, ততবার আল্লাহ তা নিভান, এবং তারা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন না।(সুরা:মায়িদা,৬৪)

যখন মতভেদ চরম পর্যায়ে যায় তখন ও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগে বিশ্ববাসীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। বিশ্ববাসীরা তখনই যুদ্ধে যাবে যখন শত্রু আক্রমন শুরু করে, যখন যুদ্ধই এক মাত্র উপায়, শুধু তখনই মুসলিমরা, নিজেদের যুদ্ধে জড়াবে ।যদি তারা (যুদ্ধ থেকে) বিরত হয়,তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (সুরা বাকারা ১৯২)

আমরা যদি হযরত মুহাম্মদ (সা:) জীবনী ভাবলো ভাবে পর্যবেক্ষণ করি তাহলে এই সত্যই প্রকাশ পায় যে, যখন কোনো উপায় থাকতো না , তখনই কেবল যুদ্ধকে একটি রক্ষণাত্মক কৌশল হিসাবে প্রয়োগ করা হতো । রাসুল(সা:)এর কাছে সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে আল্লাহ’র ওহি আসে ।ওহি আসার প্রথম তেরো বছর মুসলিমরা , সংখ্যালঘু হিসাবে মক্কায় পৌত্তলিকদের অধীনে ছিলো,তখন মুসলমানরা টাকা পয়সা লুট হওয়া থেকে শুরু করে শারীরিক , নির্যাতনে মারা যায় অনেক মুসলমান ।এই দীর্ঘ তেরো বছর মুসলিমরা সংঘর্ষের পথ এড়িয়ে চলে,এবং, সবসময় এই মূর্তি পূজারীদের বলতো শান্তির পথে চলতে, যখনই কাফেরদের অত্যাচার অসহনীয় হলো, মুসলিমরা মক্কা ছেড়ে ইয়াথরিবে চলে যায়,যার বর্তমান নাম মদিনা বলে জানি।নবী (সা:)যখন মদিনায় হিজরত করেন,
তখন তার নাম দেয়া হয় মদিনাতুন্নবী বা নবীর শহর বলা হয় (সংক্ষেপে মদিনা) মদিনার পরিবেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল।

এবং মুসলমানেরা সেখানে নিজেদের আইন প্রতিষ্ঠা করে। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যপারটি খেয়াল বুঝা যায় যে নিজেদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লোভ ও, মুসলিমদেরকে মক্কার কলহপ্রিয় শত্রুদের বিরুদ্ধে অস্র ধরতে উত্সাহিত করতে পারেনি।নবী(সা:)তখনই কেবল, যুদ্ধের প্রস্তুতি মুসলমানদের নিতে বললেন যখন ওহি আসলো ,যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হলো তাদেরকে, যারা আক্রান্ত , কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে ,আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করতে পুরোপুরি সক্ষম, তাদেরকে ঘর বাড়ি থেকে অন্যায় ভাবে বের করা হয়েছে শুধু এই জন্য যে তারা বলে,আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ,(সুরা হাজজ ৩৯-৪০)

যুদ্ধের ওহি অবতীর্ণ হওয়ার পর মুসলমান ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষ হয় ,কিন্তু একটি কথা লক্ষের বিষয়, যে মুসলমানরা যুদ্ধের জন্য কখনই প্রচারণা দেয়নি ।বরং নবী(সা:)সবার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য, তাদের সাথে সন্ধি চুক্তি করেন , যা হুদায়বিয়ার সন্ধি নামে খ্যাত। এই চুক্তির সময় নবী(সা:)কাফেরদের প্রায় , সব দাবি ই মেনে নিয়েছিলেন .চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে আবারও শত্রুতা শুরু করে যে দল ,তারা ছিল কাফেরেরাই,মুসলিমরা নয়।

আল্লাহ মুসলমানদেরকে যুদ্ধ করার অনুমতি দিলেন আত্মরক্ষার কৌশল হিসাবে।অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি বা যুদ্ধের সময় কোনো রকম, বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে মুসলমানদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয়:…যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ,তোমরাও আল্লাহর নির্দেশীত, পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো,কিন্তু সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘন কারীদের ভালবাসেন না,(সুরা বাকারা ১৯০)
আজ জামাতি ধর্মের লোকেরা যে জিহাদ বা যুদ্ধ নাম দিয়ে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, তা হলো কোরান বিরোধী,তারা কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে,যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তারা কি নন মুসলিম,তারা কথায় কথায় মুসলিমদেরকে নাস্তিক বলে মুনাফেক বলে কাফের বলে, তারাই বা কোন জাতি যে নবীজি (সা:) -এর আমলের মুসলিমদের চেয়ে তাদের মর্যাদা কি বড়? নাকি তারা ইসলাম সম্পর্কে জামাতি ধর্মের চেয়ে কম জানত? জামাতি ধর্মের লোকেরা কোরান মানে , তবুও, কিন্তু .থেকে যায়, তারা কিছু মানে লোক দেখানোর জন্য, উপরে ধর্মের দাবীদার, ভেতরে ক্ষমতার লোভ,এমনটি যদি নাই হতো,তাহলে এখানে যে কয়টি আয়াত এর উল্লেখ করা হয়েছে, তার একটির সাথে ও কি তাদের মিল রয়েছে কি ?আজ তাদের মতো জঙ্গি মতবাদের কারণে সহজ সরল মানুষ অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে, যাদের ব্রেইন ওয়াশ হয়ে গেছে,জানিনা তারা এই পথ থেকে ফিরে আসতে পারবে কি না।যাদের ব্রেইন এখনো ঠিক আছে তারা যেন, জামাতি ধর্মের লোকদের ছায়ায় ও না যায়।কারণ জামাত শিবির কে শয়তানের সিং এর মতো দেখায়,আর সেই সিং দিয়ে ই তারা ইসলামের ১২ টা বাজানোর জন্য পাগল প্রায়,.যারা জামাত শিবির কে ইসলামিক দল হিসাবে ভাবেন,তারা যেন ইসলামের অবমাননা করেন, তাই জামাত শিবির হতে সাবধান,তারাই সেই শয়তানের সিং যারা ইসলাম কে জঙ্গি বাদের নাম দিয়েছে,অন্যান্য ধর্মের লোকেরা আজ মুসলিম নাম শুনলেই শিয়রে উঠে,কেন? ইসলাম তো শান্তির ধর্ম ,তাহলে মানুষ ভয় পায় কেন,বাঙালি মুসলিম জাতিদের কাছে আমার প্রশ্ন থাকবে, জামাতি ধর্মের লোকেরা আসলে কি চায়,প্লিজ একটু ভেবে দেখবেন কি।