ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 


আমরা আসলে কি চাই? চলমান দুই পরিবারের লুটেরা গণতন্ত্র? নাকি গণ-মানুষের গণতন্ত্র? আসলে আমরা সাধারণ মানুষ তাদের কাছে আজ অসহায়, তারা মানে রহমান এন্ড রহমান কোং এর কাছে। আমরা মনে করি- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান উভয়েই ছিলেন ব্যক্তিগত জীবনে সৎ এবং দেশপ্রেমিক, কিন্তু তাদের পারিবারিক উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া উভয়ে জীবিত থাকতেই দুর্নীতি আর দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। তারা ক্ষমতায় থেকে বাড়ি গাড়ীর মোহে পড়েছেন এটা সাধারণ জনগণের আজ অজানা নয়। বেগম খালেদা জিয়া ক্যান্টনম্যান্ট এর বাড়ি হারিয়ে ঈদের পূর্বে দেশে হরতাল ডেকে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলতেও দ্বিধা করেন নাই, অথচ জাতীয় তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির ডাকে গত ০৩/০৭/১১ইং তারিখে শুধু রাজধানীতে আধাবেলা হরতালে বিএনপি সমর্থন না দিয়ে বরং তাদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দেয়- এই হরতালে তাদের এবং তাদের জোটের শরিক দলের কোন সমর্থন ছিল না এবং নাই। এর কারণ কি? কারণ এদেশের জনগণ এবং জনগণের স্বার্থ দেখার চেয়ে ক্ষমতা এবং ক্ষমতায় নেয়ার প্রভুদের মনোরঞ্জনই বিএনপির বেশী প্রয়োজন। এদেশের জনগণ এখন বুজতে শুরু করেছে; জনগণকে আর বোকা বানিয়ে রাখা যাবে না। শেয়ার মার্কেটে লুট করা হলেও বিএনপি এর বিচারের দাবিতে একদিন হরতাল দেয়নি- কেননা সেখানে লুটপাটে খালেদা জিয়ার এককালীন নিরাপত্তা কর্মী মোসাদ্দেক আলী ফালু জড়িত বলে।

ইলিয়াস আলীর জন্য হরতাল করে তার গাড়ীর ড্রাইভারের জন্য কোন মন্তব্যও নাই বিএনপি সহ সকল বুদ্ধিজীবীদের। সুরঞ্জিতের এপিএস এর ড্রাইভার আজও নিখোঁজ, সাগর-রুনি হত্যা রহস্য আজও অজানা তাদের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য কিংবা সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ, আর অহরহ গুমের ঘটনায়ও আমরা প্রধান বিরোধী দলের কাছ থেকে কোন নির্দলীয় প্রতিবাদমূলক হরতাল বা আন্দোলন পাইনি। অথচ তারেক-কোকোর দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে হরতাল দেয় বিএনপি। তাহলে এদেশের সাধারণ মানুষের জন্য তাদের দুই পরিবারেরই কোন দায় দায়িত্ব আছে বলে মনে হয় না। এতেই বোঝা যায় তারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের জন্যেই হরতাল-বিক্ষোভ বা আন্দোলন করে। তাহলে তাদেরকে আমরা কেন বলব যে, তারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করে? কিংবা তারাইবা কিভাবে দাবী করে যে, তারা শুধুমাত্র জনগণের জন্যই কথা বলে? ভুল! সব মিথ্যা। ওরা কোনদিন সাধারণ মানুষের কথা ভাবেনি, ভাবে না, ভাববে না। ওরা কেবল ওদের জন্যই। আজকে যদি ওদেরকে টেক্কা দেয়ার মত নতুন কোন শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব ঘটে তখন দেখা যাবে দুই নারী মিলিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেছে। এটাই ওদের নীতি। যা আমরা স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে দেখেছি। অথচ এখন সাধারণ সংলাপের জন্যেই এই দুজনকে একত্রে বসানো কতই না কঠিন।

কোটি কোটি টাকা খরচ করে সংসদ অধিবেশন করা হয় আর সেখানে কেবল একে অপরের গিবত ছাড়া, কাজের কাজ কিছু হয় না। এসকল টাকা কার? জনগণের; একথা কখনই তারা ভাবে না। ম্যাডাম সাজেদা চৌধুরী একবেলা বাজার না করার আহ্বান জানিয়ে সাধারণ জনগণকে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা বললেন অথচ ম্যাডাম কি জানেন যে, সাধারণ মানুষ এক বেলার খাবার কেনার জন্য কত কষ্টই না করে! তাদের বোঝার কথাও না কারণ তারা তো আরাম-আয়েশের জীবন কাটায়। তাদের চলাচলের জন্য কখনো জ্যাম কিংবা লোকাল বাসের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় না। তাহলে তারা কিভাবে জনগণের বন্ধু হয়? তারা আমাদের বন্ধু নয়, তাই আসুন আমরা সাধারণ নাগরিকরা এসকল বাস্তব উপলব্ধি থেকে নিজেদের বাঁচার পথ খুঁজি এবং এদেরকে বয়কটের মাধ্যমে এদেশের দুই পরিবারের অপশাসন এবং রহমান এন্ড রহমান কোং কে বিদায় জানাই আর আমাদের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলি। জনতার জয় অনিবার্য।