ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

আমাদের বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিবেক, মূল্যবোধ ইত্যাদি ধীরে ধীরে কেমন জানি সেকেলে শব্দে পরিণত হচ্ছে । আর কিছুদিন পর হয়ত আমাদের অভিধানে এ শব্দ গুলোর প্রয়োজনীয়তাই তেমন থাকবে না । আমরা যা কিছু শিখছি তা আমাদের পূর্ব পুরুষ বা অভিভাবকদের নিকট থেকে, অনেকটাই অনুকরণে –অনুসরণের মাধ্যমে । কিন্তু আজ আমাদের অভিভাবকদের কি ভাবে আমরা অনুসরণ করব? করেই বা কি আমরা শিখব ? যেখানে মা বাবা আজ সন্তানের মঙ্গল না ভেবে শুধু তাঁর নিরাপত্তা খুজে অর্থনৈতিক ভিত্তির মাধ্যমে । আর্থিক সামর্থ আজ নৈতিক চরিত্রের চেয়েও বেশী গুরুত্ব পাচ্ছে ,যা ছোট বেলায় দেখেছি বিপরীত। কিন্তু কেন? এর কারন কী? মুক্তবাজার অর্থনীতি , বিশ্বায়ন বা আধুনিক সভ্যতা –ইত্যাদি কি এর কারন? এগুলোর প্রভাব হয়ত আছে , কিন্তু আমার মনে হয় –সবচেয়ে বেশী দায়ী দুর্নীতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ব্যবধান থেকে সৃষ্ট শ্রেণী ক্ষোভ এবং স্ব স্ব ধর্মীয় মূল্যবোধহীনতা বা ধর্মীয় ধারনায় বিশ্বাসের দুর্বলতা এর প্রধান কারন ।

দুর্নীতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থনৈতিক পরিবর্তন আমাদের বিবেক বা মূল্যবোধকে কিভাবে প্রভাবিত করছে ? একই সমাজে বাস করা সমশ্রেণীর দুজন মানুষকে ভাবুন ,এক সময় একই মর্যাদায় পড়াশুনা সহ জীবন ধারন করেছে , কর্মজীবনে দুজন দুই ক্যাডারে চাকুরী পেলেন –বেতন ভাতা সুবিধাও একই । কিন্তু একজন কর্মজীবনে ঘুষের মাধ্যমে গাড়ি বাড়ির মালিক অন্যজন সাধারন জীবনে । দুজনের সন্তানও পড়ছে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ,কিন্তু ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে জীবন মানে ।একজনের সন্তান একই স্কুলে যাচ্ছে –নিজের বাবার দামী গাড়িতে ,অন্যজন পাবলিক পরিবহনের অপেক্ষায় রাস্তায় বৃষ্টিতে ভিজছে অথবা প্রচন্ড রোদে পুড়ছে। এখানে বাচ্চা দু-জনের মানসিক বাস্তবতা ভিন্ন হতে বাধ্য কিনা? সে প্রশ্নের উত্তর পাঠকের কাছে রইল ।এখানে সাধারন জীবন যাপন কারী সৎ কিন্তু গরীব/ সাধারন, আর অন্যজন অসৎ কিন্তু সামর্থশীল/ অসাধারন । বর্তমান সমাজ সৎ -সাধারণকে বলে অযোগ্য অথবা বোকা, আর অসৎ বা সামর্থশীলকে বলে সফল মানুষ ,এমনকি পরিবার সদস্যদের কাছেও অর্জনের বৈধ অবৈধতার প্রশ্ন আজ অবান্তর । তাহলে এখানে মূল্যবোধ –বিবেক ইত্যাদির ভুমিকা কি ? প্রয়োজন কি ? এক সময়( ৮০ দশকেও ) সামাজিক ভাবে সৎ মানুষের মুল্যায়ন ছিল ,অসৎ কে ঘৃনা করত, কিন্তু আজ তা বিপরীত । অবশ্য আজ সামাজিক ব্যবস্থাও নাই বললেই চলে যা তখন ছিল । এই বাস্তবতা আমাদের কাছে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে ৯০ পরবর্তী আমলে যা আজ প্রতিকার প্রতিরোধের পর্যায়ে ।

স্ব স্ব ধর্মীয় মূল্যবোধহীনতা বা ধর্মীয় ধারনায় বিশ্বাসের দুর্বলতা আমাদের বর্তমান বাস্তবতার জন্য কিভাবে দায়ী? স্ব স্ব ধর্মীয় মূল্যবোধ আমাদের জীবন বাস্তবতায় একান্ত অপরিহার্য একথা আজ আমরা ভাবছি না ,কেননা এখন আমরা আমাদের জীবনের অনেক সহায়তা পাচ্ছি বিজ্ঞানের কল্যাণে ,পারস্পরিক সহযোগিতার স্থান আজ ক্রমেই প্রয়োজন হীন হয়ে পড়ছে ,তেমনই ধর্মীয় ধারনাও আমাদের মনে মানসিকতায় দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।পাপ বোধ এবং পাপের ফল প্রাপ্তি নিয়েও আমাদের মানসিক ধারনা ক্রমেই অস্পষ্ট হচ্ছে ,তাই আজ আমরা অন্যের অধিকার নষ্টে পাপ এবং পাপের ফল ভুগতে হবে একদিন তাও ভাবছি না, বরং নিজের দখলে নিতেই সচেষ্ট হচ্ছি, নিজের ভোগের জন্য আজ আমাদের পাপবোধও পরিবর্তিত । তাই আসুন আমরা আমাদের স্ব স্ব ধর্মীয় ধারনাকে নিজের মধ্যে ধারন-পালনে মনোযোগী হই এবং বিবেক মূল্যবোধের দ্বারা পরিচালিত হয়ে –ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্থায়ী সুখ শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজেদের ভুমিকা, নিজেরা পালনে ব্রতি হই এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের শুধু উচ্চ শিক্ষিত না করে বিবেক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিজেদেরকে বিবেকবান করে তুলি ।শুধু উচ্চ শিক্ষিত না করে সুশিক্ষিত মানুষ করে গড়ে তুলি ।