ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

স্বাধীনতার সাড়ে তিন বৎসরের মাথায় আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতি জাতীয় নেতা শূন্য হয়েছে ১৯৭৫ সালে যা আজও পূরণ হয়নি।

জাতীয় নেতার যে সকল বৈশিষ্ট থাকা দরকার তার অনেক কিছুই আজ আমাদের দেশের বর্তমান নেতাদের মধ্যে অনুপস্থিত। এর মধ্যে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে বিশ্বাস। এমনকি দলীয় প্রধানের প্রতি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিশ্বাসও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। আর জাতীয় নেতা তো আরো বেশী ব্যাপক বিষয়। একজন জাতীয় নেতা শুধু নিজ দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারেন না, তিনি জাতীয় স্বার্থের প্রস্নে অন্য প্রতিপক্ষ দলের আস্থাশীল থাকবেন যেমনটা ছিলেন- শেরেবাংলা, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, সোহরাওয়ারদি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, সৈয়দ নজরুল, তাজ উদ্দিন আহম্মদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামান সাহেবরা। বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কিন্তু মাওলানা আব্দুল হামিদ খান নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেননি বরং পাকিস্তানিদের বিরোধিতা করেছেন জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায়। এমনকি বঙ্গবন্ধু নিজেও ‘৭২ পরবর্তী শাসক থাকাকালীন একাধিকবার জাতীয় সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ছুটে গিয়েছেন মাওলানার সাথে পরামর্শ করতে আর এখন এক দলের প্রধান অন্য দলীয় প্রধানের মুখ দেখতেও রাজী নন, এমনকি বড় দল দুটির প্রধান একে অপরকে চোর লুটেরা দুর্নীতিবাজ বলে যাচ্ছেন যখন তখন। জাতীয় নেতা শূন্য এই দেশে আমরা কি জাতীয় নেতার দেখা আর পাব না? তাঁদের মৃত্যুর সাথেই কি মৃত্যু হয়ে গেছে রাজনৈতিক আদর্শের? আর কতকাল আমাদের জাতীয় রাজনীতি থাকবে জাতীয় নেতা শূন্যতায়?