ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আজ এক চরম রাজনৈতিক সংকটে, কেননা দুই বড় দলের উত্তরাধিকারী নেতৃত্ব এবং তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকা কিছু দুর্নীতিবাজ দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা এবং যাবার জন্য যার যা খুশী করে যাচ্ছে ।
যেখানে ৯০ পূর্ব বাংলাদেশে ছিল স্বৈরশাসক –সেখানে আজ দেশে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার , কিন্তু দেশের জনগণের ভাগ্য বা তাদের অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থানের কোন পরিবর্তনই হয়নি, বরং বেড়েই চলেছে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ দুর্দশা। স্বৈরাচার আমলের নীতি বাস্তবায়ন চলছে গণতন্ত্রের নামে, সাথে যুক্ত হয়েছে আত্মীয়তা ,আঞ্চলিকতা নামক দুটি বিষয় যা স্বৈরাচারের আমলেও ছিল না । এমনকি স্বৈরাচারের আমলে দুর্নীতির মাত্রা ছিল আজকের তুলনায় নগণ্য, স্বজন প্রীতি এবং তাবেদারিও আজকের তুলনায় ছিল সহনীয় মাত্রায়। তাহলে আজকের এই গণতন্ত্র আমাদের প্রয়োজন কি ? দুই দল,দুই পরিবার , দুই উত্তরাধিকারী নেত্রীর এবং তাদের কতিপয় তাবেদার অনুগত, আঞ্চলিক, আত্মীয়ের ভাগ্য বদলের জন্যই কেবল এই গণতান্ত্রিক শাসনের প্রয়োজন !

১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক শাসনের সুচনা হয় -তা নামেই গণতন্ত্র, আচরণ কিংবা নীতিগত দিক থেকে গণতন্ত্র বলা যায় না। কেননা গণতন্ত্রে- হারজিত মেনে নিতে হয়, ক্ষমতা শেষে ক্ষমতা ছাড়ার মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হয়- যার কোনটাই দেখা যায়নি গত ২২ বৎসরে বরং ক্ষমতা ছাড়ার সময়ে ক্ষমতাসীনদের বিভিন্ন অপ-তৎপরতা আমরা দেখেছি। এমনকি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য বড় দুই দলের অনৈতিক প্রতিযোগিতাও আজ প্রকাশ্য রূপে- এক দলের সাথে পরাজিত যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, অন্যদের সাথে পতিত স্বৈরাচার। রাষ্ট্রীয় মূল স্তম্ভগুলো বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, পিএসসি, নির্বাচন কমিশন আজ তাদের দলীয় ক্যাডারদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, আর পুনর্বাসিতরা পাল্লা দিয়ে করছে দুর্নীতি আর বেড়েছে জন-হয়রানি ,যা কথিত স্বৈরাচার আমলেও ছিল না । শিক্ষাঙ্গন আজ ক্ষমতাসীনদের লাঠিয়ালের নিরাপদ আস্তানাই কেবল নয় বরং তা তাদের ভাগ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে , প্রকাশ্যই ঘটছে ভর্তি আর আবাসিক হলের সিট বানিজ্য – প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে । এমনকি গত ২২ বৎসরের গণতান্ত্রিক শাসনের আমলে ছাত্রদের শিক্ষার মান উন্নয়নের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি, বরং দলীয় বিবেচনায় অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে চলছে সার্টিফিকেট বানিজ্য যার ফলাফল অদূর ভবিষ্যতেই আমরা দেখতে পাব। দেশে গণতান্ত্রিক শাসন থাকলেও শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংসদগুলো ২২ বৎসর যাবৎ অচল করে রাখা হয়েছে, যা নীতি নৈতিকতা শিক্ষায় ভুমিকা রাখত এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই দিচ্ছে না , অথচ সামরিক শাসক –স্বৈরাচার খ্যাত জিয়া এবং এরশাদ আমলেও ৫ বার ডাকসু এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে । তাহলে আজকের এই নামধারী নীতি নৈতিকতাহীন গণতন্ত্রের প্রয়োজন কি ? দুই দল আর দুই পরিবারের সহযোগী কতিপয় দুর্বৃত্তের ভাগ্য বদলের জন্যই কেবল এই গণতন্ত্র নয় কি ? কি প্রয়োজন ছিল পাকিস্থান ভেঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশ বানানোর ? ২২ পরিবারের স্থানে ২২,০০০ পরিবার, বিদেশীদের স্থানে স্বদেশীদের অত্যাচার নির্যাতন আর লুটপাটের দৃশ্য দেখার জন্য কি আমাদের শহীদের আত্মত্যাগ ! ২লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির কি প্রয়োজন ছিল ? আজ ক্ষমতার জন্য যা খুশী করে যাচ্ছে দুই দলের তাবেদার অনুগত সমর্থকরা- যেখানে সাধারন মানুষ শুধু শঙ্কিতই নয় বরং নিরাপত্তাহীনতায় । কেন এই বাস্তবতা !

দেশের মাটিতে আজ কেন আমরা আতংকিত থাকব ? কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগাব? দুই দল, দলীয় সমর্থক এবং তাদের নেতানেত্রীরা কি এদেশের মালিক ! নাকি ১৬ কোটি সাধারন জনগণ ?
আজ দুই উত্তরাধিকারী নারী দেশকে কেউ বাবার ,কেউ স্বামীর উত্তরাধিকারী সম্পত্তি মনে করে যা ইচ্ছা করে যাচ্ছে, আমরা কি তাদের এই লুটপাট ,দুর্নীতি আর অপশাসনের শিকারে পরিণত হয়েই থাকব ! নাকি প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের শাসন কায়েমের লক্ষ্যে অন্যকোন শক্তিকে সমর্থন করব ?

দেশের বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য যেখানে প্রয়োজন হয় মাত্র ৫০০কোটি টাকা, যার জন্য শিক্ষকদের করা হয় লাঠিপেটা আর সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ৩৬০০কোটি টাকা নিয়ে যায় অখ্যাত হলমার্ক নামক এক প্রতিষ্ঠানের মালিক তানভীর, সেই দেশে এখনও গৃহযুদ্ধ না হওয়া এদেশের সাধারন মানুষের ধৈর্য আর সহনশীলতার কারন ছাড়া অন্য আর কি হতে পারে। তবে এ অবস্থা আর বেশিদিন চলবে বলে মনে হয় না , তাই আসুন আমরা গণতান্ত্রিক নামধারী দুই দলের উত্তরাধিকারী নারী নেত্রীকে বিদায় করার কার্যকরী ভূমিকার জন্য ঐক্যবদ্ধ হই এবং আওয়াজ তুলি-
উত্তরাধিকার , আত্মীয়তা বা আঞ্চলিকতা নয় –
যোগ্যতাই হবে সকল প্রাপ্তির মানদণ্ড।