ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশে আজ জাতীয় নেতা শূন্য, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট । দুই বড়দলের আশ্রিত কতিপয় দুর্নীতিবাজ আমলা, জালিয়াত ব্যবসায়ী, বাটপার রাজনীতিজীবি পালাবদলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গত ২০ বৎসর যাবৎ । অথচ ১৯৯০সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এদেশের গন মানুষ অংশ নিয়েছিল কিছু লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে । তার মধ্যে অন্যতম ছিল – যোগ্যতার ভিত্তিতে নাগরিক অধিকার পাবার নিশ্চয়তা , দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন, বিচার, ন্যায় ভিত্তিক সমাজ পাবার । কিন্তু ঘটেছে উল্টা । ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদেই পতিত স্বৈরাচারের সহায়ক দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন দেয়া হয়- কেবল লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল। এমনকি তৎকালীন ডাকসু ভিপি জিএস এর নেতৃত্বে পবিত্র ডাকসুতে বসে স্বৈরাচারের বিভিন্ন পর্যায়ের সহায়কদের একবার কালো তালিকা তৈরি এবং নগদ টাকা ,দামী গাড়ি ,ফ্ল্যাট ,বাড়ির ঘুষের বিনিময়ে সাদা তালিকা তৈরির মাধ্যমে স্বৈরাচারের ধারাবাহিকতা রক্ষার কাজটি করে প্রকাশ্যভাবেই । সেখান থেকেই শুরু হয় –অর্জনই যোগ্যতার ধারনাটি , নৈতিকতা বিবেক মুল্যবোধের পতন শুরু হয় যা আজ মহামারী আকার ধারন করেছে মাত্র ।

স্বৈরাচার আমলে দুর্নীতি, যা ছিল লাখ লাখ, গণতন্ত্রের আমলে তা কোটি কোটি থেকে এখন পৌছেছে হাজার হাজার কোটি টাকায় । স্বৈরাচারের আমলেও রাষ্ট্রীয় স্তম্ভ বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতিদমন কমিশন, পিএসসি ছিল গ্রহণযোগ্য ,সৎ ,দক্ষদের দখলে যা এখন দুই পালাবদলের সময়ে অসৎ দুর্নীতিবাজ আঞ্চলিক, আত্মীয় বা দলীয় কর্মী সমর্থকের ভাগ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিণত। বাড়ির দারোয়ান , গাড়ির ড্রাইভার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীরা আজ দেশের চালকের আসনে দুই উত্তরাধিকারী নেত্রীর যেনতেন ভাবে ক্ষমতা দখলের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে । এমনকি আমাদের জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোও আজ তাঁদের দলীয় , আত্মীয় ,আঞ্চলিক অনুগতদের উপার্জনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে , যার ফলে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ অপহরণ মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি, উঁচুতলার পতিতা সরবরাহের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার খবর দেখি দৈনিক পত্রিকার প্রকাশিত খবরে , ভর্তি আর সীট বানিজ্য এখন প্রকাশ্য এক দুর্নীতির নাম । আজ এই বাস্তবতা কেউ কি অস্বীকার করতে পারবেন ? না পারবেন না । তাই আসুন তাঁদের ক্ষমতা দখলের অসুস্থ রাজনীতির বাইরে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেদের ভুমিকা রাখতে সোচ্চার হই ।

আমাদের দেশ আমাদেরই দায়িত্ব এর ভাল মন্দ চিন্তা করার তাই আসুন আওয়াজ তুলি –“ উত্তরাধিকার নয় , যোগ্যতাই হবে নাগরিক অধিকার ভোগের একমাত্র মানদণ্ড ।“ জনতার বিজয় অনিবার্য ।

মন্তব্য ০ পঠিত