ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

এই দেশটা শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়ার বাবা আর স্বামীর । আমরা তাদের তাঁবেদার প্রজা মাত্র । এই দুই নারী নেত্রী যোগ্যতায় দলের বা দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেননি , এসেছেন উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতায়। স্বাধীনতার পরে অল্প সময় যেতে না যেতেই এক দলীয় শাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তুলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বাকশাল । যেখানে মানুষের প্রত্যাশা ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের । এমনকি স্বাধীন দেশের প্রথম সৃষ্টি হওয়া গণতান্ত্রিক দল জাসদকে দমনে ব্যবহার করা হয় রক্ষী বাহিনীকে , কথিত আছে প্রায় ৪০ হাজার জাসদ কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল শাসক দলের ক্ষমতায় টিকে থাকতে । ১৯৭৪ সালে কালো আইন খ্যাত বিশেষ ক্ষমতা আইন -১৯৭৪ পাস করা হয় ভিন্ন মতকে দমনের জন্য অথচ সে সময় রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য তেমন কিছুই করেনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার । কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট যেখানে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের সদস্যদের । ক্ষমতার পালা বদল ঘটে , সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হয়ে ক্ষমতায় স্থায়ী হতে ১৯ টি সামরিক অভ্যুথান সামাল দিতে গিয়ে অসংখ্য সেনা সদস্যকে নির্বিচারে হত্যা করেও ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে পারেনি জিয়াউর রহমান । ৩০মে ১৯৮১সালে সহকর্মী সামরিক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হন জিয়া এবং ১৯৮২সালের ২৪ মার্চে দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করে আরেক সামরিক শাসক হোসাইন মোঃ এরশাদ ।

ক্ষমতায় এরশাদ স্থায়ী হতে রাজনীতির উচ্ছিষ্ট নেতা ,দুর্নীতিবাজ আমলা , ৭৫এর খুনি ,যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়েও টিকতে পারেনি ।১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে স্বৈরাচার খ্যাত এরশাদের পতন হয় । দেশে গণতান্ত্রিক সরকার আসবে ,আসবে সুশাসন এমনটাই প্রত্যাশা ছিল জনগণের !! কিন্তু কি ঘটেছে আমাদের জনগণের ভাগ্যে ?

জনগণের ভাগ্যের বদল না ঘটলেও দুই নারী উত্তরাধিকারী নেত্রীর অনুগত চোর বাটপার , দালাল ও সমাজের নষ্টভ্রষ্টদের ভাগ্য বদল ঘটছে !! কয়টি উদাহরণ দেব ? দিয়ে কি হবে ? তবে এটুকু বলতে পারি সকল স্তরের খারাপদের জয়জয়কার চলছে । বাড়ি গাড়ি ব্যাংকে নগদ টাকা সবই পাওয়া যায় এই দুই নারীর তাঁবেদারিতে যা আজ স্বীকৃত সত্যে পরিণত ।

যে দুর্নীতির অভিযোগে স্বৈরাচার খ্যাত এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল এদেশের জনগণ সেই দুর্নীতি কি শেষ হয়েছে নাকি দুর্নীতি আজ মহামারী আকার ধারন করেছে দুই উত্তরাধিকারী নেত্রীদের বদৌলতে ! যে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল এরশাদের বিরুদ্ধে তা কি আজ নেই নাকি আত্মীয়তা আর আঞ্চলিকতা আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে নতুন রূপে আবির্ভূত ?

এরশাদ নারীর ক্ষমতায় নের লক্ষ্যে সংসদে ৩০ জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন যা ছিল তৎকালে বিতর্কিত ৩০সেট অলংকার হিসেবে এবং সেই সময় নারীদের রাজনীতিতে আগমনে যৌনতার গন্ধ খুজে পায় এবং এরশাদের চরিত্রের সাথে তার একটা সংশ্লিষ্টতা বের করার চেষ্টায় লিপ্ত হয় রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহল, যদিও এমন কিছু পাননি, কিন্তু গণতন্ত্রের আমলে দেশের নারী শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইডেন মহিলা কলেজে যা ঘটছে বা ঘটানো হচ্ছে শুধুমাত্র কতিপয় দলীয় আত্মীয় , আঞ্চলিক ব্যক্তির অর্থ বিত্ত বানানোর প্রয়োজনে । এমনকি দুর্নীতি আজ আমাদের সমাজ ও যৌথ পারিবারিক ব্যবস্থাকেও ভেঙ্গে দিচ্ছে ,যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধররা হারাচ্ছে মৌলিক মূল্যবোধের শিক্ষা ,উৎসাহিত হচ্ছে অনৈতিকতার পথে । এমনকি দুর্নীতি আজ আমাদের শ্রেণী বৈষম্যতা বাড়িয়ে চলছে প্রতিনিয়ত যা আমাদের মধ্যে শ্রেণী ক্ষোভের জন্মদিচ্ছে, যা আমাদের বিবেক মূল্যবোধকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং প্রাপ্তি বা অর্জনই যোগ্যতার ধারনাকে প্রতিষ্ঠিত করে চলছে । তাই আজ এই দুই নারী উত্তরাধিকারী নেত্রীর ব্যক্তিগত ক্ষোভ, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হাতিয়ার আমরা হতে চাই না । আমরা চাই সুশাসন , জনগণের ক্ষমতায়ন এর সরকার –যেখানে থাকবে জবাবদিহিতা ও সচ্ছতা যেমনটা ঘটেছিল ১/১১ সরকারের সময় । তাই আর নয় ১/১১ ,এবার আসুক ২/২২ যার বাতাসে উড়িয়ে নেবে দুর্নীতি দুঃশাসন এবং দুই নারী উত্তরাধিকারের আত্ম- অহংকার ।যেখানে থাকবেনা দলীয় ,আত্মীয় বা আঞ্চলিকতার মত ক্যান্সার ,যোগ্যতাই হবে নাগরিক অধিকারের একমাত্র মানদণ্ড ।