ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

গুড়ের ফোঁটা (ভাবনার সূত্রপাত)

গল্পটা কোনো বইয়ে স্থান পেয়েছিলো কি-না কিংবা আদৌ কোনোভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছিলো কি-না – জানা নাই। অনেক গল্পই এভাবে মুখে মুখে স্থান কাল ও পাত্র-ভেদে পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিতভাবে হাজারো মানুষের মনে গেঁথে আছে। সেই অর্থে গল্পটা হয়তো অনেকেরই জানা। তবুও গল্পটা আমার নিজের মতো করে একবার আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চাই।

আমরা কম-বেশী প্রায় সবাই জানি মানব ইতিহাসের সাথে শয়তান ও শয়তানের প্ররোচনায় মানব-সমাজে অপকর্ম সংঘটিত হবার বিষয়টি ধর্মশাস্ত্র, গল্পকথা, রুপকথা ও উপকথায় বিভিন্নভাবে বদ্ধমূলে গেঁথে আছে। যেখানে সব অনাচারের মূলে শয়তান চরিত্রটির সফল উপস্থিতি ও বিচরণের বিষয়টিই মুখ্য। ধরা যাক মূল শয়তান বা শয়তানের ওস্তাদ আমাদের এই দেশেই কোনো একটা এলাকায় আস্তানা গেঁড়ে তার রাজত্ব পরিচালনা করেন। ধরে নেই বেড়া বাজারে শনির গলি নামক কোনো দুর্গম গলির মুখেই ওস্তাদ শয়তানের আস্তানা। রোজ সকালে তিনি আরাম কেদারায় হুক্কার নল হাতে নিয়ে বারান্দায় বসেন আর একে একে সব সাগরেদ শয়তানরা আসতে থাকে দিবসের কর্ম শুরুর আগে ওস্তাদের পদধূলি নেয়ার ও পরামর্শ-বুলি শোনার জন্য। তারপর তারা বেরিয়ে পড়ে কর্ম হাসিলের উদ্দেশ্যে। নিয়ম মতো প্রতিদিন সন্ধ্যায় তারা ওস্তাদের কাছে ফিরে আসে এবং কর্ম-বিবরণী পেশ করে তারপর বাড়ী ফিরে যায়। এটাই নিয়ম।

রোজকার মতো আজ সকালেও ওস্তাদ শয়তান বারান্দায় এসে বসতে না বসতেই দুইজন পুরনো ও অভিজ্ঞ সাগরেদ ওস্তাদ-এর সামনে এসে নত মস্তকে দাঁড়ালো।  ওস্তাদ মুখ দিয়ে ঈষৎ সাদা ধোঁয়া নির্গমন করতে করতে বললেন, কি-রে আজ তোদের দু’জনের কর্ম পরিকল্পনা কি, বল তো’! গোঁফ ওয়ালা এবং তুলনামূলক লম্বা সাগরেদটি বলল, হুজুর, আমি আজ যাবো পাটের গুদাম এলাকায় আর (একটু বেঁটে ও শুকনো মতো সাগরেদকে দেখিয়ে ) ও’ যাবে তাঁতি পাড়ায়। ওস্তাদ একটা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন এমন সময় তাঁর নজরে পড়লো সাগরেদ দুইজনের পিছনে নত মস্তকে নিরবে আরো একজন দাঁড়িয়ে আছে যাকে তিনি আগে দেখেছেন বলে ঠিক মনে করতে পারছেন না। একটু বিরক্তি নিয়ে ওস্তাদ লম্বা সাগরেদটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ আবার কাকে তোরা সংগে করে নিয়ে এলিরে! বেঁটে সাগরেদটি এক কদম এগিয়ে এসে বলল, যদি অনুমতি দিতেন তাহলে ওকে আমরা একটু কাজ-কর্ম শেখাতাম, হুজুর! ছেলেটাকে বাপ বাড়ী থেকে খেদিয়ে দিয়েছে। শয়তানের ওস্তাদ ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বিড়বিড় করে বললেন, দেখ তোরা যদি শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে পারিস – আমার আপত্তি নেই। তবে, কাজের কাজ করে ফিরতে হবে বলে দিচ্ছি। ইদানিং তোরা বড় কোনো কলহ ঘটাতে পারছিস না (দাঙ্গা-হাঙ্গামা-র কথা না হয় বাদই দিলাম)। ঠিক আছে, তাহলে সন্ধ্যায় ফিরে আয় দেখি কে কেমন ছিঁড়ে ফিরিস। শেষের কথাটা একটু রাগত স্বরে বলেই ওস্তাদ আস্তানার ভিতরে ঢুকে গেলেন।

পুরনো সাগরেদ দুইজন এ-ওর দিকে একটু ইতস্তত তাকিয়ে নতুন সাগরেদটিকে সাথে নিয়ে রওয়ানা হলো কাজের উদ্দেশ্যে। হাঁটতে হাঁটতে ওরা এসে থামলো গুড়পট্টি-র মাথায় (মানে বাজারের যে অংশটায় এক সারিতে অনেকগুলো গুড়ের দোকান তার মাথায়)। উত্তর দিকে মাটির বড় বড় কোলা বা গুড়ের হাঁড়ি সারি দিয়ে সাজানো আর দক্ষিণ পাশে কয়েকটা কলার দোকান, একটা ছোট হোটেল আর কয়েকটা মুড়ি-মুড়কির দোকান। এখান থেকে পূর্ব দিকে পাটপট্টি বা পাটের গুদামগুলো আধা-মাইলের মতো হবে আর তাঁতি পাড়াও প্রায় আধা-মাইলই হবে পশ্চিম দিকে। বাজার তখনো ঠিক জমে ওঠেনি (মানে লোক সমাগম তখনো তেমন একটা বাড়েনি)। লম্বা মতো গোঁফ-ওয়ালা সাগরেদ শয়তান বেঁটে পুরনো শয়তানকে তাঁতি পাড়ার দিকে রওয়ানা দিতে বলল আর নতুন মানে আজকেই দলে-ভেরা ছেলেটিকে গুড়ের দোকানের সামনে একটা খালি টুলের উপর বসিয়ে রেখে পাটের গুদাম এলাকার দিকে মানে পূর্ব দিকে হাঁটা দিল। যাবার সময় বুঝিয়ে বলে গেলো, যেহেতু তুই আজ নতুন সেহেতু তোর কাজ হলো বাজারে আসা হরেক রকম বা নানান কিসিমের মানুষগুলোর গতিবিধি একটু খতিয়ে দেখা। এটা হলো শয়তানির বর্ণমালা শেখার মতো কিংবা ক্রিকেট খেলার আগে পিচটা একটু দেখে নেয়া আর বলটা নেড়েচেড়ে দেখার মতো। আর যদি ছোটোখাটো অপকর্মের সুযোগ পাস তাহলে করে ফেলিস গা বাঁচিয়ে। নতুন ছেলেটি পায়ের বুড়ো আঙুলের মাথা দিয়ে মাটি খুঁটতে খুঁটতে একটু মনমরা হয়ে টুলের উপর বসে রইলো।

 

সন্ধ্যায় রোজকার নিয়ম মাফিক এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনজন আবার মিলিত হলো শনির গলিতে ঢোকার মুখে মানে ওস্তাদ শয়তানের আস্তানায় ঢোকার গলির মাথায়। তিনজনই মাথা চুলকাতে চুলকাতে আপাত তন্দ্রাচ্ছন্ন ওস্তাদের সামনে এসে নত মস্তকে দাঁড়ালো। ওস্তাদের মনে হয় ওদের উপস্থিতি টের পেতে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু দেরীই হলো। কিঞ্চিত লাল চোখ জোড়া মেলে তিনি যখন তাকালেন নতুন ছেলেটা আড় চোখে এক পলকের জন্য দেখে সাথে সাথেই একটু ভীতভাবে নামিয়ে নিলো চোখ। বাকি দু’জন ওস্তাদের এই চেহারা ও আচরণে অভ্যস্ত। ওদের কোনোই প্রতিক্রিয়া নেই এসবে।

ওস্তাদ একটু জড়ানো কিন্তু বলিষ্ঠ গলায় নিরবতা ভেঙে প্রশ্ন ছুঁড়লেন, তাহলে কে কি ছিঁড়েছিস সারাদিন বলতো শুনি! স্বভাবতই লম্বা ও গোঁফ ওয়ালা সাগরেদটি সবসময়ই আগে আগে থাকে। প্রথমে সেই বলল, হুজুর, আমি যখন পাটের গুদাম এলাকায় গেলাম, দেখলাম আফজাল শেখের গুদাম ঘরের সামনে তিনটা ট্রাক লোড হচ্ছে (মানে কুলিরা পাটের গাঁট গুদাম থেকে মাথায় করে এনে ট্রাক বোঝাই করছে আরকি)। আমি একটা বিড়ি ধরিয়ে আশপাশের অবস্থা বুঝে ট্রাকের পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় আধা-বোঝাই একটা ট্রাকে বিড়িটা ছুড়ে দিয়ে খানিক দূরে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম। পাঁচ মিনিট যেতে না যেতেই ট্রাকের সমস্ত পাটে আগুন জ্বলে উঠলো দাউ-দাউ করে। আগুন ছড়িয়ে যখন গুদামের দিকে এগোচ্ছে ঠিক তখনই সমস্ত কুলি কিভাবে পানি আর বালু ছিটিয়ে আগুনটা নিয়ন্ত্রণ করে নিভিয়ে ফেললো। শুধু আধা-বোঝাই পাট সহ একটা ট্রাক পোড়াতে পেরেছি, হুজুর! আসলে অনেক কুলি ছিলো তো, হুজুর, তা না হলে পুরো গুদামেই আগুন জ্বলতো আজ। আফজাল শেখের গুদাম তো পুড়তোই সেই সাথে পুরো পাটপট্টির সব গুদামই পুড়ে ছাই হতো। একটুর জন্য মিস হয়ে গেলো, হুজুর! আরেকবার ট্রাই মারতে হবে। এটুকু বলে ওস্তাদের চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝলো, হুজুরকে সে খুশী করতে ব্যর্থ হয়েছে। বুঝেই মাথা নিচু করে রইলো। ওস্তাদ টলায়মান মাথাটা ঘোরালেন বেঁটে শয়তানের দিকে। বেঁটে সাগরেদ এক নিঃশ্বাসে বলে দিলো, হুজুর আমি শুধু ফরিদ খোনকার-এর সুতোর গুদামে পঞ্চাশটা ভোলা ইঁদুর ছেড়ে দিয়েছি; এর বেশী আর কিছুই করতে পারি নাই। আমাকে মাফ করে দেন আজকের মতো। বেঁটে শয়তান হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ওস্তাদের পায়ের কাছে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। ওস্তাদ শয়তান সম্পূর্ণ নিরব। খানিকক্ষণ পর ওস্তাদ শয়তান বিড়বিড় করতে করতে নিরবতা ভেঙে বললেন, পুরনো ছুঁচো দুইটা-তো ছিঁড়ে একেকটা বোঝা বেঁধে নিয়ে এসেছে; তুমি কিছু করতে পেরেছো? বলে মুখটা ঘোরালেন নতুন মানে আজকেই প্রথম শয়তানের দলে যোগ দেয়া ছেলেটার দিকে।

নতুন ছেলেটা মাথা নিচু করেই বলতে শুরু করলো- অপরাধ নেবেন না, হুজুর! আপনার দলে আজকেই আমার প্রথম দিন। ওনারা দুইজন যখন গুড় পট্টিতে আমাকে বসিয়ে রেখে যার যার কাজে চলে গেলেন আমি তখন দিশেহারার মতো হয়ে পড়েছিলাম একেবারে। একটা গুড়ের কোলা-র পাশে আমি টুলের উপর বসে এদিক ওদিক দেখছিলাম আর ভাবছিলাম, কি করা যায়। ভেবে ভেবে যখন কোনো কুল-কিনারা পেলাম না তখন ভাবলাম, খুব ছোট হলেও একটা কিছু তো করেই ফিরতে হবে। অগত্যা গুড়ের কোলা-র গায়ে লেগে থাকা এক ফোঁটা গুড় ডান হাতের তর্জনীর ডগায় লাগিয়ে উল্টো পিঠে মানে রাস্তার দক্ষিণ দিকের ছোট্ট হোটেলটা-র দরোজার পাশেই বাঁশের খুঁটিতে মাটি থেকে হাত দেড়-দুই উপরে কাজলের টিপ দেওয়ার মতো করে ছোট্ট একটা গুড়ের ফোঁটা দিয়ে আবার এসে টুলটায় বসে ওই দিকে এক নজরে তাকিয়ে রইলাম। এই পর্যন্ত বর্ণনা শুনে পুরনো দুই সাগরেদ শয়তান ফিক করে হেসেই ফেললো। কিন্তু বিচক্ষণ ওস্তাদ শয়তান সম্ভবত বেশ খানিকটা উৎসুক দৃষ্টি নিয়েই ধমকে উঠলেন- চুপ থাক, দাঁত কেলিয়ে হাসবিনা; ওকে বলতে দে’! বলো, তারপর কি হলো! বলেই খুব আগ্রহ নিয়ে নতুন ছেলেটার দিকে মনোযোগ দিলেন। ছেলেটা বলল- এর পর আমি নিজে – দেখা ছাড়া আর কিছুই করি নাই, হুজুর!  ওস্তাদ বললেন, কি দেখলে সেটাই বলো! ওস্তাদের আগ্রহ ও মনোযোগের মাত্রা যেনো আরো বেড়ে গেলো মনে হয়। নতুন ছেলেটা আবার বলতে আরম্ভ করলো- গুড়ের ফোঁটা দিয়ে আমি এপাশে এসে টুলের উপরে বসতেই দেখলাম একটা বড় মাছি এসে খুঁটিটার যেখানে আমি গুড়ের ফোঁটা দিয়েছি তার আশে পাশে ওড়া উড়ি করছে। একটু বাদেই দেখি তিনটা মাছি। ভন ভন করে মাছিগুলো যখন উড়ছে মাটি হেকে হাত দেড়-দুই উপরে ঠিক তখন একটা বিড়াল হোটেলের ভিতর থেকে এসে খুঁটিটার গোঁড়ায় বসলো উপরের দিকে তাকিয়ে। মনে হলো গুড়ের ফোঁটা-কে ঘিরে মাছিদের এই ওড়া উড়ি-তে বিড়ালটা খুব মজা পেয়েছে। মাছি গুলোকে লক্ষ্য করে টিনের চালের উপর থেকে বাঁশের খুঁটি বেয়ে নেমে এলো দুইটা বড় সাইজের টিকটিকি। বিড়ালের উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে গেলো যেনো। নাগালের বাইরে থাকায় বিড়ালটা উপরের দিকে লাফ দিয়ে দিয়ে খামচি দিয়ে টিকটিকিগুলোকে ধরার চেষ্টা করতে লাগলো। এমন সময় এপাশ থেকে একটা কুকুর বিড়ালের এই বিষয়টা দেখতে পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দুই পা দিয়ে বিড়ালটাকে মাটিতে শুইয়ে চেপে ধরল। পাশেই বড় কড়াইয়ে মোটামতো যে লোকটা জিলাপি ভাজছিলো সেই লোকটা নিজেদের বিড়ালকে এভাবে আক্রান্ত হতে দেখে হাতের দুই হাত লম্বা গরম চামচটা দিয়ে কুকুরটার ঘাড়ে মারলো একটা বাড়ি। কুকুরটা তো কেঁউ কেঁউ করে চেঁচিয়ে উঠল। দেখলাম ঘাড়ের ছাল উঠে গেছে পুড়ে। এপাশ থেকে কুকুরের মালিক এক গুড়ের দোকানী হাতের কাছের একটা বাঁশের লাঠি হাতে দৌড়ে গিয়ে হোটেলের ওই মোটা লোকটার মাথায় মারলো কষে দুই তিনটা বাড়ি। লোকটাতো মাথা ফেটে রক্ত ঝরাতে ঝরাতে এলিয়ে পড়লো। এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর পাশ ও দক্ষিণ পাশের দোকানদারদের মাঝে তুমুল মারামারি বেঁধে গেলো। অনেক লোক আহত হয়েছে, জিলাপি ভাজা মোটা লোকটা ওখানেই মারা গেছে; কুকুরটা মরেনি ঠিকই কিন্তু কুকুরটাকে মারার অপরাধকে কারণ দেখিয়ে গুড়ের দোকানীরা হোটেল মালিক উৎপলের বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্ট কালের জন্য গুড়ের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আমি চলে এসেছি হুজুর! শুধু একটা গুড়ের ফোঁটা দেওয়া ছাড়া আমি আর কিছুই করতে পারি নাই সারাদিন! আমাকে প্রথম দিনের মতো মাফ করে দেবেন! এ পর্যন্ত বলতেই ওস্তাদ শয়তান আরাম কেদারা থেকে উঠে নতুন ছেলেটার কাছে এসে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, তোমার মতো লোকই তো আমার দরকার। তুমি প্রথম দিনেই অপকর্ম সংঘটনে যে পারদর্শিতা দেখালে তুমিই পারবে আমার শয়তানির রাজত্ব সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে। এই তোরা দুইজন শোন ও’ আজ থেকে আমার আস্তানায় আমার সাথেই থাকবে।  ওর বাপ বাড়ী থেকে খেদিয়ে দিলেও আমি ওকে আগলিয়ে রাখবো।  যা, তোরা কাল সকালে সময়মতো চলে আসিস। বলে নতুন ছেলেটিকে নিয়ে ওস্তাদ শয়তান আস্তানার অন্দরে ঢুঁকে গেলেন হাসতে হাসতে।

গল্পের এখানেই শেষ। কিন্তু ভাবনার সূত্রপাত এখান থেকে। গল্পটা কারো কাছে নিছক ছোটগল্প, কারো কাছে রস রচনা বা রম্যগল্প আবার কারো কারো কাছে হয়তো কিছুই না এটি। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট যেটাই বলিনা কেনো সবখানেই এই রকম গুড়ের ফোঁটা দেয়ার মতো অপকর্মে পারদর্শী এবং তাদের মদদ দিয়ে আগলিয়ে রাখার মতো ওস্তাদ শয়তানের সংখ্যা নিছক কম নয়। সমস্ত অশান্তির মূলে রয়েছে এইসব গুড়ের ফোঁটা দেয়ায় পারদর্শী ও তাদের মদদ দাতারা। এরা গুড়ের ফোঁটা দিয়ে দুই পক্ষের বিবাদ বাঁধিয়ে অধিকাংশ সময় উভয়পক্ষ হতেই ফায়দা হাসিল করে চলে। যতদিন আছে গুড়ের ফোঁটার দিন ততদিন শান্তি আসবেনা পরিবারে, সমাজে, দেশে এবং গোটা দুনিয়ায়।