ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

দৈনিক কালের কন্ঠের ০৪এপ্রিল তারিখের কাজী হাফিজ সাহেবের একটি ফিচার পড়ে নিজেকে ও দেশের মানুষদের গর্বিত মনে করছি। ফিচারটি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (আনমিস) এ নিয়োজিত ক্যাপ্টেন ফেরদৌসী কাশেম উপর লিখিত তার পেশাদারী দক্ষতা, মনোবল ও চ্যালেঞ্জিং বিষয়কে নিয়ে সাহসিকতা পরিচয়ের মনমানসিকতা গড়ার স্পৃহাকে কেন্দ্র করে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (আনমিস) নিজস্ব ম্যাগাজিন ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস মিশন ইন সুদান’- এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় ‘ওমেন ইন আনট্র্যাডিশনাল জবস’ বা ‘অপ্রথাগত কর্মে নারী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।
ক্যাপ্টেন ফেরদৌসী কাশেম এবং তাঁর সহকর্মীরা আনমিস- এর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র ডিমাইনিং প্লাটুনের সদস্য। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিন সুদানের রাজধানী জুবাতে পৌছেন তাঁরা। সুদানের মাফাওতে ১৩ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ৪০টি মাইন অপসারণ প্লাটুন কাজ করছে। এলাকাটি জুবা থেকে ২০কিলোমিটার দুরে। মাইন অপসারণের পর এলাকাটি মৎস্য ও পশু মন্ত্রণালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ক্যাপ্টেন ফেরদৌসী একজন প্রকৌশলী : মাইন অপসারণ কাজে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা অর্জনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, এর আগে নির্মাণকাজের অনেক অভিজ্ঞতা পেয়েছি। এখানে (সুদানে) মাইন অপসারণকাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতেই এসেছি। এক কর্মদিবসে ভোর সাড়ে ৬টায় জুবা থেকে রওনা হয়ে সকাল সোয়া ৭টায় মাফাওতে পৌছে কিভাবে ক্যাপ্টেন ফেরদৌসী তাঁর দলের সঙ্গে কাজ শুরু করলেন তার বর্ণনাও রয়েছে প্রতিবেদনটিতে। তাঁকে উদ্ধ্বত করে বলা হয়েছে, মাইন অপসারণের কাজটি চ্যালেঞ্জিং ও ঝুঁকিপূর্ণ। ফেরদোসীর নেতৃত্বাধীন দলটি তাঁর ওপরই নির্ভরশীল । দলের সদস্যরা যখন মাইন অপসারণের সংকেত পান তখন তাদের মধ্যে যাতে আতঙ্ক তৈরি না হয় সেজন্য ফেরদৌসী তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ান । এটা তাঁর জন্য খুব বড় দায়িত্ব । ওই দিন ক্যাপ্টেন ফেরদোসীর দল কোনো মাইনের সন্ধান পায়নি, তবে দুটি অবিস্ফোরিত গোলা পেয়েছিল । স্থানীয় এক ব্যক্তি ১৭৫ মিলিমিটার মর্টারের গোলার সন্ধান জানিয়েছিল । ফেরদৌসীর দল সেটিকে বিস্ফোরিত করে । জুবার জেবেল কুজার এলাকায় যেখানে জাতিসংঘের নতুন অফিস নির্মাণ হচ্ছে সেখানে ১৭ মিলিমিটার রকেট পাওয়া গিয়েছিল, সেটাও তাঁরা নিস্ক্রিয় করেন ।

বাংলাদেশে কোনো মাইন না থাকায় (বাংলাদেশ মাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ, তাঁর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর ল্যান্ড মাইনের মজুদ ধ্বংস করা হয়) সুদানে যাওয়ার আগে ক্যাপ্টেন ফেরদৌসীর এ কাজে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ছিল না । প্রশিক্ষণ আর পুঁথিগত বিদ্যা পুঁজি করেই সুদানে এ দুঃসাহসিক কাজে নেমেছেন তিনি ।

ক্যাপ্টেন ফেরদৌসী বলেন, ‘আমি যখন মাঠপর্যায়ে কাজটি শুরু করি তখন আমার এই চিন্তা ছিল যে, সামান্য ভুল হলেই জীবন হারাতে হবে । কিছু সময় বিষয়টি আমাকে উদ্বিগ্নও করেছে । কিন্তু এখন আমি আস্থাবান ।’ মেয়েদের এ পেশায় বেশী করে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, মাইন অপসারণ অন্য যেকোনো কাজের মতোই একটি কাজ । একাজে দরকার ধৈর্য এবং আস্থা । এ দুটি বিষয় যদি তৈরি হয় তাহলে এটা করা সম্ভব ।