ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

বাবা সরকারি চাকুরি করতেন এবং সেই সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বড় হয়েছি। বেশ কয়েকটা শহর, মফস্বল শহর, ছোট /অতিছোট শহরে কেটেছে আমার ছেলেবেলা আর ছাত্র জীবন। যে শহর গুলোর অন্তত কিছু স্মৃতি মনে আছে সেগুলো: বরিশালের কলসকাঠী, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, মতলব, পটুয়াখালী, মেহেরপুর ও ঢাকা। নিজের চাকরির সুবাদে থেকেছি নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা এবং ঢাকা। আমার দেশের বাড়ী সাতক্ষীরা শহর, যদিও সেখানে ছেলেবেলা, চাকরি জীবন বা অবসর জীবনে কখনই স্থায়ী ভাবে থাকা হয়ে ওঠেনি। প্রায় ৬০ বছরের এই জীবনে ৩৬৫ x ২ = ৭৩০ দিন থেকেছি কিনা সন্দেহ। এছাড়া বিভিন্ন কারনে বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটা শহরে গিয়েছি। ছেলেবেলায় নড়াইলে থেকেছি দুই বার। ক্লাস ওয়ার থেকে ফোর পর্যন্ত পড়েছি দিলরুবা গার্লস স্কুলে (বর্তমানে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়) এবং বি কম পাশ করেছি নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে। দুই বার থাকার কারনে বা জীবনের সব থেকে সোনালী সময়ের অনেকটা কাটানোর কারনে অথবা অন্য যে কোন কারনে নড়াইল আমার সব থেকে প্রিয় শহর। শুধু আবেগ নয় নড়াইল আসলেই খুব সুন্দর একটা শহর। চিত্রা নদী শহরের পাশদিয়ে একে বেকে বয়ে চলে গিয়েছে। নদীটা এতই সুন্দর না দেখলে বিশ্বাস হবে না।

নড়াইল শহর দুই ভাগে বিভক্ত নড়াইল ও রূপগঞ্জ। আগে নড়াইল ও রূপগঞ্জ আলাদা দুইটা অংশ ছিল এখন শহর বড় হয়ে দুই অংশ এক হয়ে গিয়েছে। নড়াইলের প্রধান সড়কটিও খুব সুন্দর। জেলা প্রধানের বাসা থেকে গোরস্থান পর্যন্ত রাস্তার পাশে ছিল বিশাল বিশাল দেবদারু গাছের সারি। এখনো কিছু গাছের অস্তিত্ব রয়ে গিয়েছে।

২০০৯ এর কোরবানি ঈদের পরদিন সাতক্ষীরা থেকে নড়াইল বেড়াতে গিয়েছিলাম সাথে ছিল আমার দুই ভাই আর আমাদের পিচ্চিরা মোট ১০ – ১১ জন। নড়াইলের এক সময়ের তুখোড় শিল্পী ও সঙ্গীত গুরু বাবু শুভাশিষ বাগচী আমাদের জন্য সুন্দর এক নৌভ্রমণের ব্যাবস্থা করেছিলেন আর বৌদির কল্যানে নৌকায় করার জন্য ছিল বৈকালিক নাস্তার আয়োজন। বিকালে নৌকায় চিত্রা নদীতে বেড়ানো এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা, সুযোগ থাকা সত্বেও যদি নৌকায় করে চিত্রায় না বেড়ান তবে বঞ্চিত হবেন রোমাঞ্চক এক অনুভুতি থেকে। চিত্রা নদীতে পেতে পারেন আর এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা, ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা। এই নদীতে এখনো জেলেরা ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরে, যদি ভাগ্য ভাল থাকে তবে সে দৃশ্যও দেখতে পারেন। এখন চিত্রার পাড়ে ভ্রমণবিলাসীদের জন্য একটা resort ও হয়েছে যেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে যাওয়া যায়। নড়াইলের জমিদার বাড়িও খুব নাম করা। যদিও এখন কিছুই নেই। অনেক বড় আর সুন্দর ছিল, আমাদের যে স্বভাব নিজেদের ঐতিহ্য নিজেরাই রক্ষা করতে পারিনি। এখন দেখলে শুধু দুঃখ বাড়ে। কেবল মাত্র একটা মন্দির আর চিত্রা নদীর ঘাট অবশিষ্ট আছে। যারা নড়াইলে যাননি তারা যদি কোন দিন নড়াইলে বেড়াতে যান তবে বুঝবেন নড়াইল কেন আমার প্রিয় শহর।

অনেক দিন আগে সানন্দায় মানষ সরোবরের উপর একটা ভ্রমন গাইড পড়েছিলাম, লেখাটা এত প্রাণবন্ত ছিল যে মনে হচ্ছিল চোখের সামনে মানষ সরোবর দেখছি এবং এখনও ভাবি, ইস্! যদি মানষ সরোবরে বেড়াতে যেতে পারতাম। আমি একেবারেই ভাল লিখতে পারিনা তাই আমার লেখা পড়ে কারো মনে নড়াইল বেড়াতে যাবার সাধ জাগবে সে আশা একেবারেই করিনা। তবুও আমার লেখা পড়ে কারও মনে যদি নড়াইল সম্বন্ধে সামান্য আগ্রহ জন্মে তবে নিজেকে ধন্য মনে করব।

ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্যের একটা YouTube link –