ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

আজকের (২৫-০১-২০১২) প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে প্রণব বল এর রিপোর্টটা। ঢাকার মোহাম্মদপুরের রাস্তায় কাঁদছিল একটা ৬/৭ বছরের মেয়ে দেখে মায়া হয় শিকলবাহা চট্টগ্রামের মো: সাহেদের। মেয়েটি নিজের নাম ইয়াসমিন আক্তার শান্তা ছাড়া আর কিছুই মনে করতে পারছিলনা। অসহায় মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান সাহেদ। ২০০৬ সালের ঘটনা, এর মধ্যে কেটে গেছে আরও ছয়টা বছর। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আনার পর সাহেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইয়াসমিনকে পরিবারের সদস্যের মতো করে লালন-পালন করছেন। সাহেদকে সে মেজ ভাইয়া বলে ডাকে। সাহেদের মাকে ডাকত আম্মু। ইয়াসমিন পশ্চিম পটিয়া এজে চৌধুরী স্কুলের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। এত দিন মা-বাবা বা অন্য কারও স্মৃতিই তার মনে পড়েনি।

গত ডিসেম্বরে সাহেদের দুই বছরের ভাইপো পুকুরের পানিতে ডুবে যাচ্ছিল। এ সময় ইয়াসমিন দৌড়ে গিয়ে তাকে পুকুর থেকে তুলে নেয়। শিশুটিকে পানি থেকে তোলার পর ইয়াসমিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর জ্ঞান ফিরলে সে তার স্মৃতি ফিরে পায়। স্মৃতি ফিরে পেয়ে ইয়াসমিন মা-বাবার নামসহ চেনাজানা অনেকের কথাই বলছে। ইয়াসমিন জানায়, তার বাবার নাম রাকিবুল হাসান ওরফে রকি। তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। তার মায়ের নাম রিয়া মুন্নী। তিনি ছিলেন চিকিৎসক। সে জানায়, তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। তারা ঢাকায় থাকত। সে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ত। ইয়াসমিনের কিরণ নামে তার এক বন্ধু ছিল, কিরণের বাবার নাম সুমন। বাবা মার সাথে ইয়াসমিন লঞ্চে চাদপুর যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় বাবা মা কে হারায়। এক পুলিশ তাকে তার বাবা মার সাদা কাপড়ে মোড়া লাশ দেখায়, তার পর তাকে রেখে চলে যায়।

ইয়াসমিন এখন চাঁদপুর ও ঢাকায় যেতে চায়, ফিরে যেতে চায় তার স্বজনদের মাঝা। ইয়াসমিনের জন্য আমাদের প্রার্থনা সে ফিরে পাক তার স্বজনদের।

আমার এই পোস্ট যদি কোন ভাবে ইয়াসমিনকে তার স্বজন দের মাঝে ফিরে যেতে সামান্য সাহায্য করে তবে এই পোস্ট দেওয়া সার্থক মনে হবে।

প্রথম আলোর প্রনব বল এর রিপোর্টটা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।