ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

লিখেছেনঃ আব্দুল্লাহ আল হাদী, সিফাত মোহাম্মাদ আরেফীন, শাহাবুদ্দীন আহমেদ, শুভ্র রায়, মাঈনুল হাসান, বিশ্বজিত ঘোষ, এ আর এম মাসুম

গত ২৫শে মে, ২০১১ তারিখে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, স্বনামধন্য বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট ড জাফর ইকবাল “প্রথম আলো” তে “ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ও আমরন অনশন” শীর্ষক রচনায় যে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের পথ দেখিয়ে আমাদের চলমান আন্দোলনের যৌক্তিকতা সবার সামনে তুলে ধরেছেন তার জন্য স্যারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু উক্ত লেখার প্রতিক্রিয়ায় গত ৩০শে “প্রথম আলো” তে আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলী যে খোড়া যুক্তি উপস্থাপন করেছেন তা আমাদেরকে হতবাক করেছে।

বাবা দিবস মা দিবস কবে জিজ্ঞাস করলে আমরা অনেকেই বলতে পারবো না। কখন উদযাপনও করিনি। কিন্তু প্রত্যেকে জোর গলায় বলতে পারবো, আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। তা প্রকাশের জন্য ঘটা করে অনুষ্ঠান করতে হয় নি। ভাবতে অবাক লাগে আমাদের শিক্ষকরা যে আমাদের ভালবাসেন তা সংবাদ মাধ্যমে এসছে। তাদের ভালবাসা জানাবার স্থান দেখে আমরা হতাশ হয়েছি। ক্যাম্পাসে গেলে এখনও যে তারা মুখ ফিরিয়ে নেন আমরা তা কাউকে বলতে পারি না বা বলার প্রয়োজন মনে করি না। তবে কি এটা শুধু মিডিয়াতে প্রচারের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে?

শিক্ষকদের অবগতির জন্য বলতে চাই, আমরা আকর্ষনীয় বেতন(!!) বা ভাল চাকরীর বাজারের (!!) জন্য দাবি করছি না। একটা ডিগ্রি মানে একটা মূল্যবোধ, একটা উন্নত পাঠ্যক্রম। যা একটি বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে তথা একটা জনগোষ্ঠীকে দেশের খাদ্য শিল্পবিকাশে স্বাবলম্বী করবে। আমরা চাচ্ছি সিলেবাসে বাকি পরিবর্তন এনে ডিগ্রির পরিবর্তন, সেটা বি এস সি অনার্স থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং। বিভাগের নাম কি হলো তা মূখ্য বিষয় নয়। সুতরাং আমাদের বিভাগটি টি টেকনোলজী না হলেও আমাদের দাবিটি শাবিপ্রবি এর সাথে হুবহূ এক।

প্রসংগত উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও সিলাবাসের সাথে আমাদের আকাশ-পাতাল ব্যবধান। উক্ত বিভাগ দুটি পুষ্টি বিজ্ঞান ভিত্তিক এবং ফুড সায়েন্স এখানে সামান্য অংশ মাত্র। এ কারনে তাদের বিভাগের নামের ক্ষেত্রে পুষ্টি অংশটুকু আগে। আমাদের বিভাগটি ফুড টেকনোলজী ভিত্তিক এবং এটি পড়াতে সে সামান্য নিউট্রিশন লাগে তা পড়ানো হয়। কিন্তু আশ্চার্য ব্যাপার হল, কোন এক বিচিত্র কারনে বিভাগে অধিকাংশ নিউট্রিশনের শিক্ষক নেওয়া হয়েছে।

আমাদের শিক্ষকরা যে কমিটির লিষ্ট দেখিয়েছেন তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে । কিন্তু ব্যপারগুলো কি এমন ছিল যে আমাদের শিক্ষকরা সম্মত আছেন কিন্তু মিটিং এর সিদ্ধান্ত এসছে যে দাবিটি অযৌক্তিক?? মোটেও না। ভাবতে কষ্ট হয়, যে এখনও পর্যন্ত আমাদের কোন শিক্ষক স্বীকার করেন নি যে তারাও চান যে তাদের ছাত্রদের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদান করতে।

বিভাগের শিক্ষকরা অসম্মতি জানালে আমাদেরকে নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের মেম্বাররা আলোচনায় বসেন। সেখানে তারা আমাদেরকে বুঝিয়ে ক্লাসে নিতে এসেছিলেন। কিন্তু আমরা আমাদের তথ্য যুক্তি উপস্থাপন করলে তারা আমাদের দাবি মেনে নেন এবং মেম্বাররা বলেন যে বিভাগের শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চাইতে। আমরা তাই করি কিন্তু তার পর দিন আমাদের বিভাগের শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন শুরু করেন।

একাডেমিক কাউন্সিল তাদের প্রতিশ্রুতি ভংগ করেছে শুধু মাত্র বিভাগের শিক্ষকদের কথা বিবেচনা করে। আজ ৬জন শিক্ষকের জন্য আমরা ৩০০জন ছাত্র-ছাত্রী চরম হতাশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি।আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে নিজেদের কথা চিন্তা করে শিক্ষকরা আমাদের ডিগ্রি দিতে চান না। ইউ জি স্যার মিটিং এর ১৬ জন সদস্যের মাত্র ৩ জন বিশেষজ্ঞ ছিলেন, বাকি সবাই ইউ জি সি মেম্বার। বিশেষজ্ঞগণ লিখেছেন যে, “প্রদত্ত সিলেবাসে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদান সম্ভব নয়। তবে সিলেবাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে ইঞ্জি ডিগ্রি প্রদান সম্ভব।” কোন কোন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজনীয় কোর্সের নাম উল্লেখ করে দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্র প্রচার করছে যে বিশেষজ্ঞদের মতে কোন ভাবেই ইঞ্জি ডিগ্রি প্রদান সম্ভব নয়। সিলেবাসের পরির্তনের কথা বিবেচনা হচ্ছে না কেন ?

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে অবর্ণনীয় অত্যাচার করেছে। ১৭ জনকে বহিষ্কার করে হয়েছে। আমাদের ১৩ জনকে বিনা কারনে ২১ দিন করে জেল খাটতে হয়েছে। ছাত্ররা নাকি নাইট গার্ডদের কাছ থেকে নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার চুরি করেছে। দ্রুত বিচার আইনে ৩টি মামলা দেয়া হয়েছে। এই কি তবে ভালোবাসার নমুনা ??
যখন সত্য প্রতিষ্ঠায় অপারগতা, যৌক্তিক দাবিতে অত্যাচার আর প্রতারিত হয়ে প্রচন্ড অভিমানে আমরা আমরন অনশন করি তখন আমাদের শিক্ষকরা বলে মাত্র ৪০-৪৫জন ছাত্র অনশন করেছে। এর থেকে কষ্টের আর কি হতে পারে?? অথচ তারা একবারও আমাদের দেখতে যান নি। ৩জনকে জরুরী অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। ৩২ জন গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইল হাসপাতালে এবং ৬০ জন অনশন স্থলে চিকিতসাধীন ছিল। বাকিদের কথা না হয় বাদই দিলাম। তাহলে এধরনের মন্তব্য কিসের জন্য তা বুঝতে কারো বাকি থাকার কথা না।

২৪শে মে অনশন ভাঙ্গানোর সময় আমাদের শিক্ষকরা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কথা দিয়েছিল যে, ডিগ্রি প্রদানে তাদের কোন আপত্তি নেই। একটি কমিটির মাধ্যমে আমাদের ডিগ্রি পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন করতে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করবেন। কিন্তু তারা সে অনুযায়ী চিঠি না পাঠিয়ে আমাদেরকে হতাশ করেছে।

ড জাফর ইকবাল স্যারের লেখায় জনগনের সামনে থেকে যে কালো পর্দা সরে গেছে, সবাই দাবিটির যৌক্তিকতা সম্পর্কে জেনেছে, সেটাই তাদের ক্ষোভের মূল কারন। আর তাদের প্রতিক্রিয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ষ্পষ্ট হয়েছে। সত্য চিরকালই সত্য। আমরা অপেক্ষায় আছি । বিধাতা যেন সকলের অন্তরচক্ষু উন্মোচন করেন।
আমাদের দিকে আপনার সহোযোগীতার হাত বাড়ানোর জন্য সকলকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

ধন্যবাদান্তে
শিক্ষার্থীবৃন্দ
ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়