ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বিশ্বজিতের মৃত্যু এ দুসপ্তাহ টক অব দা কান্ট্রি
যারা মেরেছে, ছাত্রলীগের গুন্ডাপান্ডা যারা তাকে বোমা ছুড়ে মারা শিবীর কর্মি ভেবেছিল। এদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে, শাস্তি হবেই।
বিশ্বজিতের বেশিরভাগ আঘাত তেমন গুরুতর ছিলনা। পোষ্টমর্টেম রিপোর্টে এ ব্যাপারটি সমর্থিত হয়েছে। কিছু পত্রিকার রিপোর্টে গুরুতর বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের পোস্টমর্টেম রিপোর্টের নথিপত্র অনুসন্ধান করে দেখা গেছে।
বিশ্বজিৎ দাসের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ডা. মাকসুদুর রহমান। রিপোর্ট নম্বর ৪৬৭/১২। রিপোর্ট তৈরির তারিখ ১৫ই ডিসেম্বর/২০১২। এই মৃত্যুকে স্পষ্টভাবে HOMICIDE – মানে ‘হত্যাকান্ড’ বলা হয়েছে,
রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, পিঠের ডান পাশে ৩ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও দেড় ইঞ্চ প্রস্থের একটি ছুরি (চাপাতি) জাতীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাম পা থেঁতলে গেছে। মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। তার দেহে ২৩টি আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়, এর একটি আঘাত ছিল গুরুতর, প্রায় ৩ইঞ্চি গভীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আঘাতে তার বগলের নীচে জখমের ফলে তাঁর শরীরের একটি বড় ধমনী কাটা পরে। এই আঘাতেই রক্তক্ষরনে সে মারা যায়।

অতচ বেশীরভাগ পত্রিকা লেখে
“ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বিশ্বজিতের দেহে কোন চাপাতির আঘাত নেই”

ইত্তেফাক লেখে
বিশ্বজিতের শরীরে কোন কোপের চিহ্ন নেই! (চেপে গেল ‘দেহে ২৩টি আঘাতের চিহ্ন’ কথাটি)

এর নাম সাংবাদিকতা! দেশে আন্ডার মেট্রিক সাংবাদিক যে বেড়ে গেছে এটাই তার প্রমান।
সাংবাদিক হয়েও জানেন না পোস্ট মর্টেম কিংবা যে কোন ইনজুরিনোট নেয়ার সময় কয়েকটা টেকনিক্যাল জিনিষ বিবেচনা করা হয়। যেমন আঘাতের সংখ্যা, আঘাত গুলো কোথায়, কতটা গভীর এবং ইনজুরি সৃষ্টিতে কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে অর্থাৎ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি জাতীয় না ছুরি জাতীয়। ধারালো না ভোতা, কত ইঞ্চি গভীর খত এর সঙ্গে লিখবেন কোন ধমনী বা হাড় কাটা পড়েছে কি না ইত্যাদি। তাঁর চোখের সামনেও যদি ঘটনাটি ঘটে থাকে তারপরও তিনি রিপোর্টে সেই অস্ত্রের নাম (চাপাতি, রামদাও, বন্দুক) লিখতে পারেন না। লিখবেন বুলেটের আঘাত, বা ধারালো বা ভোতা অস্ত্রের আঘাত।

কতিপয় জার্নালিষ্ট হামলে পড়ছে, এমন করে লেখছে যে…… মানুষের মনে হয়, চাপাতির কোপের কথা না লিখে খুনীদের সেভ করার চেষ্টা করছে দলিয় ডাক্তার! আশ্চর্য! তারা কি জানেনা যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেছে ক্ষতস্থানের ব্যাপকাতা দেখে শাস্তির পরিমান নির্নয় হওয়ার কারন নেই।

যেভাবে বিশ্বজিত আক্রান্ত হয়ে মারা পড়লো
দ্বিতীয় দিন হরতালে শিবিরের চোরাগুপ্তা হামলা ঠেকানোর জন্য অন্যান্ন পয়েন্টের মত ভিক্টরিয়া পার্ক অঞ্চলে জবি ছাত্রলীগের কিছু ছাত্র লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে মোতায়েন ছিল, সেদিন ঢাকায় আরো কয়েক ডজন লাঠিধারী এন্টিপিকেটার ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন ছিল। হঠাৎ এক শিবির পিকেটার জটলার সামনে একটি ককটেল (বোমা) ছুড়ে দৌড়ে গলির ভেতর ছুটে পালাতে থাকে। ছাত্রলীগের গুন্ডারা ধর ধর বলে গলির ভেতর ছুটে যায়, হতভাগ্য বিশ্বজিত সেই গলিতে হাটছিল, হঠাৎ ধর ধর চিৎকার শুনে সেও ভয়ে দৌড় দেয়, মারমুখি জটলাটি বিশ্বজিতকে বোমাবাজ ভেবে পিটুনি শুরু করে দেয়, একজনের হাতে চাপাতি ছিল, সম্মিলিত আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে যায় বিশ্বজিতের শার্ট, এতে দ্রুত রক্তক্ষরন হতে থাকে। বিশ্বজিত পিটুনি খেতে খেতে দোতালা থেকে নিচেও নামে। আপাত দৃষ্টিতে এইসব আঘাত মোটেও গুরুতর ছিল না, কারন সে একবারও লুটিয়ে নিথর হয়ে পরেনি। হামলাকারিরা চলে গেলে পর অনেকক্ষণ রক্তক্ষরনে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর সে বসে পরে পানি চেয়েছিল, একজন একগ্লাস পানি এনে দিয়েছিল। এর পর সঙ্গা হারায়।

অবহেলায় মৃত্যু?
সেখানে প্রায় ২০ জন সাংবাদিক ও ৩০ জন ফটোসাংবাদিক ছিলেন। হামলাকারিরা চলে যাওয়ার পরও এই সাংবাদিক নামের মানুষ! রা তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যাবস্থা করেন নি। রক্তদান তো দুরের কথা। সাংবাদিকদের সাথে মাইক্রবাস ও অগনিত মটরসাইকেল ছিল। একটি মটর সাইকেলে খুব কাছের ন্যাসানাল হাসপাতালে নিতে পারতো, বা না পারলে অন্তত রিক্সাচালকের সাথে যেয়ে হাসপাতালে ডাক্তারকে বলে রক্ত দেয়ার ব্যাবস্থা করতে পারতো। তারা বিশ্বজিতকে ফেলে রেখে চলে যায় অনেক্ষন পড়ে থাকার পর এক দয়ালু রিক্সা চালক তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এতে ৪০ মি লাগে, হাসপাতালে আধা ঘন্টা ফেলে রাখা হয়, কারন ইমারজেন্সিতে কোন ডাক্তার নেই। বিশ্বজিত তখনো জীবিত। এরপর ডাক্তার এলে রিক্সাওয়ালাকে সেলাইন ও রক্ত কিনে আনতে বলা হয়, রিক্সাওয়ালার কাছে অল্প টাকা ছিল। সে সুধু একটা সেলাইন কিনে আনে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ রক্ত দেয়ার কোন ব্যাবস্থা না করায় কিচ্ছুক্ষন পর বিশ্বজিত বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। রিক্সা চালকের সাথে দুএকজন সাংবাদিক বা যে কেউ থাকলে বিশ্বজিতকে দ্রুত রক্ত দিয়ে বাচানো সম্ভব ছিল।

আমার দেখা মাত্র তিনটি পত্রিকা ময়নাতদন্তের বিবরন সঠিক ভাবে ছেপেছে।
মানব জমিন
বাংলাদেশ প্রতিদিন
সমকাল