ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

গত ২০/৪/২০১২ ও ২১/৪/২০১২ ইং তারিখে দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠে সাংবাদিক মানিক দাসের দুইটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। রিপোর্ট দুইটিতে উল্লেখ করা হয় জনৈক বাদল খলিফার নিকট একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি আছে যাহা জনৈক রফিক দেওয়ানের নিকট হইতে বাদল কৌশলে মেরে দেয়।

পত্রিকাটির ২০/৪/২০১২ ইং তারিখে কোড়ালিয়ায় কষ্টিপাথরের মূর্তিকে কেন্দ্র করে দু’মাস ধরে সংঘর্ষ চলছে শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী কথিত কষ্টি পাথরের মূর্তিটির মালিক রফিক ও তার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাহার মেয়ের কাছ থেকে কৌশলে মুর্তিটি নিয়ে আসে এবং ঢাকার এক পাচার কারীর নিকট বিক্রির জন্য দাম ঠিক করে।ঢাকার চক্রটি বাদলকে মূর্তি দেখাতে বললে বাদল মূর্তি দেখানো যাবেনা বললে চক্রটি বাদলকে একটি মেগনেট দেয় এবং বাদল মেগনেটটি মূর্তির গায়ে স্পর্শ করে নিয়ে আসে এবং মেগনেট প্রমান করে যে আসলে মূর্তিটি কষ্টি পাথরের তাই পাচারকারী চক্র বাদলকে বায়না বাবদ ৩৫০০০০.০০ টাকা প্রদান করে, সেই টাকার ভাগ বাটোয়ারো নিয়ে রফিক ও বাদল গ্র“পের মধ্যে দু’মাস ধরে সংর্ঘষ চলছে।

২১/৪/২০১২ ইং তারিখে একই পত্রিকার একই সাংবাদিক এর কোড়ালিয়ায় কষ্টিপাথরের মূর্তি নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে রাত ভর পাহারা শিরোনামে সংবাদের মূল বক্তব্য অনুযায়ী রফিক মূর্তিটি বাদলের কাছে রাখে এবং পুরান বাজারের কোন এক সনাতন পার্টির কাছে বিক্রির লক্ষ্যে ৮০০০০০.০০ (আট লক্ষ) টাকা বায়না নিয়ে তাকেও মূর্তিটি প্রদান করা হয়নি। সালিশের মাধ্যমে ৫ (পাঁচ লক্ষ্য) টাকা ফেরত প্রদান করা হয় এবং বাকী ৩ (তিন) লক্ষ্য টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে রফিক ও বাদলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। যা এখনো অব্যাহত।

প্রিয় পাঠক দুইটি রিপোর্টের মূল বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে যেখানে টাকার অংক এবং মূর্তিটির অবস্থান এবং বিক্রি করার জন্য ক্রেতার সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেয়া হয়েছে, যদি মনে করি রিপোর্টার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেছেন তাহলে প্রশ্ন জাগে

১. দু’ মাস ধরে শহরের প্রান কেন্দ্রে সংঘর্ষ ঘটলেও থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি বা কোন লোক হতাহত হয়নি এতে করে নিঃসন্দেহে বলা যায় সংঘর্ষের ঘটনাটি কল্পনা প্রসূত।
২. প্রথম রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় ঢাকার পার্টির কাছে বায়না বাবদ ৩৫০০০০.০০ (তিন লক্ষ্য পঞ্চাশ হাজার) টাকা গ্রহন করা হইয়াছে আবার ২য় রিপোর্টে উল্লেখ করা হইয়াছে পুরান বাজারের পার্টির নিকট হইতে ৮০০০০০.০০ ( আট লক্ষ) টাকা গ্রহন করা হইয়াছে যাহার মধ্যে ৫০০০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ্য) টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।
৩. কোন পার্টিকেই মূর্তিটি দেখানো হয়নি কেন?

পাঠক উল্লেখিত সংবাদের কারনে বাদল খলিফার জীবন বিপন্ন। বাদল খলিফা একজন খেটে খাওয়া মানুষ। স্থানীয় ভুমিদস্যুদের সহিত তাহার পৈত্রিক ভিটা মাটি সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় সুকৌশলে তাহার বিরুদ্ধে একটি গুজব রটিয়ে অপসাংবাদিকদের সহিত মিলিত হয়ে তাহাকে গ্রাম ছাড়া করেছে তাহাদের নির্বিঘ্ন অপকর্মের জন্য। বাদল খলিফা উল্লেখিত সংবাদের একটি প্রতিবাদ সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রেরণ করেছেন কিন্তু পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাহা প্রকাশ করে নাই কোন এক অজ্ঞাত কারনে। কি সেই অজ্ঞাত কারন তাহা জানতে আপনাদের জোড়ালো মন্তব্য কামনা করছি।

পাঠক আসুন দেখি বাদল খলিফার প্রেরিত প্রতিবাদলিপি :

বরাবর

বার্তা সম্পাদক
দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠ।
বিষয়: “কোড়ালিয়ায় কষ্টিপাথরের মূর্তি নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে রাতভর পাহারা” বিষয়ক প্রকাশিত সংবাদের অংশ বিশেষের প্রতিবাদ।

জনাব
যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, গত ২০/৪/২০১২ ও ২১/৪/২০১২ ইং তারিখে চাঁদপুরের স্বনাম ধন্য দৈনিক পত্রিকা দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে জনাব মানিক দাস কর্তৃক প্রদত্ত বিষয়োল্লিখিত খবরের প্রতি আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। উক্ত খবরটি পুরো পুরি সত্য নহে। উক্ত ঘটনা প্রচলিত কাহিনীটি স্থানীয় ভুমিদস্যুদের প্রচারিত একটি গুজব মাত্র যাহার সত্যতা মানিকদাসের দুইদিনের দুইটি রিপোর্ট বিশ্লেষন করিলে পাওয়া যাবে, যেখানে মূর্তি পাওয়া এবং লেন দেনের পারিমান সহ স্ববিরোধী বক্তব্য আসিয়াছে। আমি মনে করি এত রিপোর্টারের কোন দোষ নেই কারন যেহেতু এই টি একটি গুজব সেহেতু যে যেভাবে পেরেছে সেভাবে ঘটনা বর্ননা করিয়া আত্মতৃপ্তি লাভের সুযোগ লইয়াছে। এই গুজবের কারনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে লোভ ও আতংক সৃষ্টি হয়েছে যার নিরসন হওয়া প্রয়োজন।

আমার পৈত্রিক বসতবাড়ি এলাকার ৯১ নং কোড়ালিয়া মৌজার ৬১৬ দাগের ১০ শতাংশ জমিতে বায়না ও দখলি সূত্রে মালিক নামিয় একটি সাইনবোর্ড টানাই কিন্তু জমির প্রকৃত মালিক জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেয় কিন্তু আমার বায়নার টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করে, ইহাতে আমার সহিত তাহাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। উক্ত মৌজার ৭১৫ দাগে ৭৮ শতক জমি বিক্রির জন্য খরিদ্দার ঠিক করা ও জমির প্রকৃত অবস্থান নির্নয় করার জন্য কুদ্দুছ ব্যাপরীর ছেলে জাকির এর সহিত আমার পারিশ্রমিক বাবদ ৬০০০০.০০ (ষাট হাজার) টাকার মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক আমি সার্ভেয়ার ফজলু মাষ্টারকে এনে জায়গা মাপতে গেলে দেখতে পাই উক্ত জমি নদীর পাড় থেকে ৬১০ ফুট পশ্চিমে নদীর মাঝখানে অবস্থিত। কিন্তু সার্ভেয়ার সহ নানা বিষয়ে আমার কিছু অর্থ ব্যয় হওয়ায় আমি জনাব জাকিরকে আমার প্রাপ্য মজুরী দিতে বলায় তিনি বলেন নদীর মাঝখানে যে জমি তার জন্য আমি কোন টাকা খরচ করব না, ফলে আমি আমার পাওনার জন্য বিষয়টি হোটেল মালিক সমিতিতে জানালে তাহাদের মাধ্যমে আমার কমিশনার তাহার ছোট ভাই বদু মাঝির মাধ্যমে জাকিরকে ডেকে ৫০০০.০০(পাচ হাজার) টাকা প্রদান করেন। ইতিমধ্যে কিছু দুষ্কৃতিকারী প্রচার করে যে ৭১৫ দাগের জমিতে রাডার আছে, এবং বিষয়টি বিভিন্ন ভাবে ডালপালা গজাতে থাকে। আমি কর্মস্থল হতে আসার পথে কমিশনার চান্দা মাঝি আমাকে জিজ্ঞেস করেন বাদল তোর নিকট নাকি পিলার আছে, একদিকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছি অন্য দিকে একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এই ধরনের কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে যাই এবং তাহাকে বলি আপনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এইরকম একটা কথা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন বলে আমি চলে আসি।

গত ২৮/৩/২০১২ ইং তারিখে রাত অনুমান ১ ঘটিকার সময় জনৈক নান্নু মোল্লা, জয়নাল মাতাব্বর, আকবর মাতাব্বর, খালেক দেওয়ান সহ স্থানীয় ভুমিদস্যুদের একটি দল শতাধিক লোক নিয়ে আমার বাড়ীতে রাডার / মূর্তি / পাওয়া / গনেশ / কালি খোজার জন্য তল্লাশী করে এবং সারা রাত আমাকে আটকিয়ে রেখে আমার বাড়ীতে ঘরে সর্বত্র তল্লাশী চালায়। তাহাদের আক্রমানাত্মক ভুমিকা দেখে আমার প্রতিবন্দী সন্তান ও স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং দুস্কৃতিকারীরা আমার একটি পানির মটর চুরি করে নিয়ে যায়। পরদিন আমি বিষয়টি কমিশনারকে অবহিত করি তিনি আমাকে বলেন তোর কয়শত মটর লাগবে তুই শুধু আমার সাথে থাক আমি বিষয়টা দেখছি। কমিশনার বিষয়টির কোন মিমাংসা না করলে আমি তখন বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে কয়েকজনের নিকট পরামর্শ চাইলে বিভিন্ন জনে বিভিন্ন মত পোষন করায় আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরি এবং পরদিন পুলিশ এসে আমার বাড়ি তল্লাশী করলে আমি ভিত হয়ে পড়ি। ইতিমধ্যে দুষ্কৃতিকারী মূর্তি না দিলে আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করতে থাকে এবং বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন গ্র“প পাহারা বসায় এতে আমি নিরাপত্তা হীন হয়ে অন্যত্র নিরাপদ স্থানে অবস্থান করি।

বর্তমানে কি ঘটছে বা হচ্ছে তাহা আমি জানিনা এবং এর সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি একজন নিরিহ মানুষ, আমার পিতার ক্রয়কৃত ১৮ শতক জমির মধ্যে ৬ শতক জমি বিক্রিলব্ধ টাকা থেকে ১২০০০০.০০ টাকা নিয়ে আমার বাড়িতে ঘর তৈরীর কাজ করি যাহা টাকার অভাবে অসমাপ্ত অবস্থায় আছে। আমার প্রথম সন্তান প্রতিবন্ধী, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। আমরা কখনো কোন মানুষের কোন ক্ষতি করি নাই। আমার মা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী নার্স এখনো মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমার বড় ভাই ৯০ দশকের একজন ছাত্রনেতা হয়েও কোন প্রকার অবৈধ উপার্জনের চেষ্টা করেন নাই এবং পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের বসত বাড়ী রাস্তা নিয়ে পার্শ্ববর্তীদের সাথে অনেক ঝামেলা চললেও আমরা কখনো কোন ঝামেলায় জড়িত হইনি।

বর্তমানে উক্ত গুজবের কারনে আমাদের পরিবার এর সবাই দারুন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আপনার পত্রিকার মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট নিকট আকুল আবেদন সরেজমিনে তদন্ত করে দোষী ব্যাক্তিদের যেন বিচার করা হয়। আশা করি দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠ তার চিরাচরিত অভ্যাস মোতাবেক সত্যের জন্য সংগ্রামে নিরলস থাকবে।

বিনীত নিবেদক
ফোরকান উদ্দিন বাদল খলিফা