ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হলেও মূলত চার জন জেনারেলের নির্দেশনায় বাংলদেশের রনাঙ্গনের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে।তারা হলেন জেনারেল এম এ জি ওসমান(সর্বাধিনায়ক/সেনাপ্রধান), মেজর জিয়াউর রহমান(জেড ফোর্সের অধিনায়ক),মেজর খালেদ মোশাররফ(কে ফোর্সের অধিনায়ক),মেজর কে এম শফিউল্লাহ্(এস ফোর্সের অধিনায়ক)।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই চার জেনারেলের মধ্যে কখনই কোন প্রকার মিল ছিল না,কিন্তু আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা তাজউদ্দিন আহমেদের বিচক্ষনতায় মুক্তিযুদ্ধ কোন বির্তকের মধ্যে পরেনি।কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি বাংলাদেশে এই চার জেনারেলের হাত ধরেই আমাদের দেশে অনেক বির্তকিত এবং আর্তকিত পরির্বতন সাধিত হয়েছিল।(ইতিহাঁস এর সাক্ষি) এই বির্তকের সূচনা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল ওসমানি,মেজর খালেদ মোশাররফ,মেজর কে এম শফিউল্লাহ্ এই তিন জনই মেজর জিয়াউর রহমানকে পছন্দ করতেন না।কিন্তু রনাঙ্গনের যুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমান অনেক বিচক্ষণ ও বীরযোদ্ধা ছিলেন এবং তিনি অপর দুই মেজর খালেদ ও শফিউল্লাহ্’র চেয়ে SENIOR ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান অনেকটা হুট করে কাউকে কোন কিছু না জানিয়ে জেড ফোর্স নামক একটি নিয়মিত ফোর্স গঠন করেন;উদ্দেশ্য নিজের নেতৃত্বে এবং নিজের মত করে যুদ্ধ পরিচালনা করা।এরই মধ্যে এই খবরটা জেনারেল ওসমানির কাছে পৌছানোর সাথে সাথে তিনি অতি ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং মেজর জিয়াকে গ্রেফতার করতে নির্দেশ প্রদান করেন।এই সমস্ত ঘটনা যখন তৎকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ এর কানে পৌছলে তিনি অতি বিচলিত হয়ে পড়েন এবং বুঝতে পারেন মেজর জিয়া ও জেনারেল ওসমানির মুখোমুখি দাড়ানোর ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনাকাঙ্খিত সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে।তখন তিনি অতি বিচক্ষনতার সাথে মেজর জিয়া,খালেদ এবং শফিউল্লাহ’র নামে তিনটি ফোর্স যথাক্রমে জেড,কে এবং এস ফোর্স গঠন করার মাধ্যমে অনাকাঙ্খিত ঘটনা রোধ করেন।আর এই ভাবেই মুক্তিযুদ্ধের তিনটি ফোর্স গঠিত হয়।

প্রকৃত ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়,এই জেনারেলের স্বমনয় না থাকার কারণে বাংলাদেশকে অনেক চরম মূল্য দিতে হয়েছে।