ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

সেইদিন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলো গোটা বিশ্ব যখন বাংলাদেশ নামক আরেক টি দেশের জন্ম হলো। পৃথিবীর বুকে ১৬ই ডিসেম্বর যখন লাল সবুজ পতাকা নিয়ে আর্বিভুত হলো। দুনিয়া জুড়ে তখন অনেক দেশে চলে আসা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিসংগ্রাম চলছিল, ভিয়েতনাম ও প্যালেষ্টাইনের কয়েক যুগ ধরে চলে আসা মুক্তিসংগ্রাম আলোচিত ছিল গোটা বিশ্ব জুড়ে। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ শুরু করার মাত্র নয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে বিজয় পতাকা উড়াতে সক্ষম হয়েছিলো।

উপরের কথা গুলো এক লপ্তে বলে ফেলা স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা যার কোন পরিকল্পনা ছিলো না, অর্থ্যৎ বাংলাদেশী নিরিহ মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়া একদল কা-পুরুষ অস্ত্র হাতে কোন আওয়াজ ছাড়া এক ধ্বংসলীলায় যেভাবে মেতে উঠেছিলো, আমাদের পক্ষে প্ল্যান প্রোগ্রাম করে তাদের প্রতিহত করার মতো সময় ছিলো না তখন। সে যাই হউক, আগে যা হয়েছে, তা আমাদের জন্য একটা ইতিহাস হয়ে থাকলো। আসুন এবার একটু দেখি স্বাধীনতার ৪০ বছর পর আমাদের প্রতিক্রিয়া কি? (এভারেজ সাধারণ মানুষের কথায় এখানে তুলে ধরেছি)

স্বাধীনতার ৪০ বছর পর এখন প্রশ্ন জাগে কেন আমরা স্বাধীন হলাম? কেমনে স্বাধীন হলাম? এই স্বাধীনতা আমাদের কি দিয়েছে? মূলতঃ স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার মূল ধারণাটিই হচ্ছে, এই স্বাধীন মুল ভু-খন্ডের মধ্যে সকল জনগোষ্ঠী ও মানুষের মৌলিক যে চাহিদার যথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্তান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতির নিশ্চিতকরণ এখনও যেমন আগে ছিল তেমনই রয়ে গেছে। তাই দুঃখ করে বলতে শোনা গেছে, এই স্বাধীনতা দিয়ে আমি কি আমার লজ্জা ঢাকতে পারছি? নাকি আমার ছোট ছোট ভাই বোনকে ঠিকমত দুবেলা ভাত খাইয়ে ঠিকঠাক মতো রাখতে পারছি? এই টা এখন একটা বিশাল প্রশ্ন। অনেক’কে বলতে শুনছি যে, স্বাধীনতা যা অর্জিত হয়েছে তা কখনও অর্থবহ স্বাধীনতা নয়। এই স্বাধীনতা লোক দেখানো স্বাধীনতা, এই স্বাধীনতা গরীবকে গরীব আর ধনীকে আরও ধনী বানাবার স্বাধীনতা, তাই এই বিজয় দিবসে তারায় বেশী আনন্দ উদযাপন করে যারা এর থেকে লাভবান হয়েছে। আজ দেশের আশি ভাগ মানুষ স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসের ছুটি ভোগ করে কিন্তু বিজয় দিবসের যে ডাক সে ডাক তাদের কানে আর পৌছায় না। পঙ্গু মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছিলাম যিনি ঢাকা শহরে ভিক্ষা করে পরিবার চালান, আর যুদ্ধাপরাধীরা জাতীয় পতাকা গাড়িতে লাগিয়ে বীরদর্পে রাজপথে আগে পিছে গার্ড অফ অনার নিয়ে বুলেট প্রুফ গাড়ীতে চলাফেরা করে, তাই বলতে চাই, এই বিজয় আমাদের সকলের বিজয় কখনই নয়, এই বিজয় হয়েছে শাসক শ্রেনীর। এই বিজয় শেখ হাসিনার, এই বিজয় খালেদা-এরশাদ আর ধর্ম ব্যবসায়ীদের, যুগে যুগে যারা রাজনীতি করে যাবে, করে যাবে তাদের সন্তানরা, দলের চামচা’রা আর পাতি/আতি/কিছু নেতা’রা কেননা যুদ্ধের চার দশক পার হওয়ার পর ও আমরা যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে শুরু হওয়া ‘বিচার’ নামক প্রহসন ও লোক দেখানোর নাটক দেখে আসছি, ঠিক তেমনি আগামীতেও এইসব থেকে ফায়দা আদায় যে হবে না তার কি কোনো গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে? মনে হয় না।