ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

স্বাধীনতার ৪৪ বছর পূর্ণ হলো। এই দিনটাকে উদযাপন করার জন্য চলেছে নানা আয়োজন। আসলে লড়াই, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কোন কিছু পেলে তার স্বাধটাই আলাদা। আর তা যদি হয় স্বাধীনতার মত কোন বিষয় তা হলে তো কোন কথাই নেই। স্বাধীনতাটা ছিনিয়ে আনার জন্য ৩০ লক্ষ বাঙ্গালি তাদের বুকের পবিত্র তাজা রক্তগুলো বাংলার জমিনে ঢেলে দিয়ছিল। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানদের মায়া ত্যাগ করে সেদিন তারা ঘর ছেড়েছিল। তাদের সেই আত্নত্যাগের বিনিময়ের আমরা পেয়েছি আজকের এই স্বাধীনতা। প্রায় ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমহানিও হয়েছিল স্বাধীনতার জন্য। কাজেই এর মূল্যটা আমাদের সবার কাছে অনেক বেশি।
কিন্তু এই স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও আমার মনে হছে কোথায় যেন অপূর্ণতা রয়ে গেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে বাস করেও মানুষ আজ নিরাপত্তা হীনতায় ভোগে। ঘর থেকে বের হয়ে গেলে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তাটুকু নেই। মারা যাচ্ছে কত মানুষ। কেউ গুম হচ্ছে, কেউ খুন হচ্ছে। কেউ ঝুলে মরছে, আবার কেউ ডুবে মরছে। মরছে অভিজিৎ , বিশ্বজিতের মত মানুষ। মরছে জিহাদ-নিরবের মত শিশুরাও। এদেশ যেন আজ মৃত্যুপুরী। তবুও ক্ষমতাশালীরা নির্বিকার। যারা মরছে তারা যেন এদেশের নাগরিক নয়, মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছে। দুর্নীতি আজ ওদের নেশায় পরিনত হয়েছে। শিরায়-উপশিরায় ঢুকে গেছে দুর্নীতি আর অনিয়ম। কে কার চেয়ে বেশি অনিয়ম করতে পারে এই প্রতিযোগিতায় আজ ব্যস্ত ওরা। সারাধণ মানুষরা আজ দিশেহারা। আমরা হারিয়ে ফেলেছি আমাদের ভোটাধিকার। বাড়ছে বেকারত্বের হার। চাকরি পেতে গেলে লাগে মামু-খালু অথবা লক্ষ লক্ষ টাকা। দেশের বিশাল বেকারত্বকে না কমিয়ে সরকার ৪-৫% লোকের বেতন বৃদ্ধি করে। এটা কোন স্বাধীন দেশের চিত্র হতে পারেনা। এই স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দেননি। আসুন আমরা একসাথে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাটাকে সোনার বাংলায় পরিনত করি।
জয় হোক মেহনতি মানুষের। জয় হোক ১৬ কোটি বাঙ্গালির।
জয় হোক ১৬-ই ডিসেম্বরের।