ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

আজ ২৬-শে মার্চ, আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। আমাদের স্বাধীনতার জন্য সেদিন হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল সহজ-সরল মানুষগুলো, যাতে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চিন্তে থাকতে পারে। শিশুর ঘুমানোর জন্য মায়ের কোল নিশ্চিত করতে সেদিন যুদ্ধে গিয়েছিল সদ্য বিবাহিত মানুষটাও। কত ছেলে তার বৃদ্ধ বাবা-মা কে ছেড়ে, কত ভাই তার বোনকে ছেড়ে সামিল হয়েছিল দেশ মাতৃকার টানে। নিজের জীবন দিয়ে আগামীর জন্য রচনা করেছে সোনালি সকাল। কত মা যে সন্তানহারা হয়েছে, কত বোন ভাই হারা হয়েছে, কত স্ত্রী স্বামী হারা হয়েছে তার হিসাব মেলাও দায়।

দেশকে ভালবেসে শত্রুর বিরুদ্ধে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল সহজ-সরল নারীগণ। দেশের জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য তারা জীবন দিয়েছেন। হারিয়েছেন সম্ভ্রম। বিনিময়ে আমরা স্বাধীন হয়েছি, পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়েছি। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়ে গেল। মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। যারা আছে তারাও বৃদ্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু মরে যায়নি নরপশুরা, বুড়ো হয়নি সেই শকুনের দল। এখনো সমাজের আনাচে-কানাচে ঘুরছে হায়েনারা। স্বাধীন হয়েও আমরা পরাধীন, পরাধীনতার নাগপাশ যেন আস্তে আস্তে বড় আকার ধারণ করছে।

প্রতিদিন খুন হচ্ছে, গুম হচ্ছে। নিশ্চয়তা নেই নিষ্পাপ শিশুদের। আজ জিহাদ মরছে তো কাল নিরব মরছে, পরশু রাজন। খুন হচ্ছে সাগর-রুনি, গুম হচ্ছে ইলিয়াসরা। সম্ভ্রমহারা হচ্ছে তনুর মত মেয়েরা। এক তনু নয়, প্রতিদিন নির্যাতিত হচ্ছে শত শত তনু। চারদিকে শুধু অনিশ্চয়তার ডামাডোল। মৃত্যুর রোনাজারিতে দিনকে দিন ভারি হচ্ছে বাংলার আকাশ-বাতাস। কিন্তু কে করবে এর বিচার? কি নিশ্চয়তা দিবে স্বাধীনভাবে পথচলার?

তনুর এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ড আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আমাদের মুক্তি কোথায়, স্বাধীনতা কথা দুরে। কতটা অসহায় আমাদের নারীসমাজ! তনু হত্যায় আরো একবার কলঙ্কিত হলো মার্চ, আরো একবার কলঙ্কিত হলো স্বাধীনতা। এভাবে আর কত! আর কত সম্ভ্রম হারালে মুক্তি পাব, আর কত প্রাণ দিলে আমরা স্বাধীন হব?

একাত্তরে যারা মানবতাকে পদদলিত করেছিল তাদের বিচার হচ্ছে। আমরা আর একাত্তরের পুনরাবৃত্তি চাইনা, চাইনা কোন শকুন আবার তনুদের উপর হামলে পড়ুক। তনুকে যারা ধর্ষণ অতপর হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই, আর কোন তনু যেন নির্যাতনের শিকার না হয়।