ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

স্বপ্ন-হীন জীবন পার করেছেন এমন মানুষ খুঁজেই পাওয়া যাবে না, সে যে শ্রেণীরই মানুষ হোক। মানুষের আবার শ্রেণী আছে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণী, কিছু কিছু ক্ষেত্রে চতুর্থ শ্রেণীও। আমি অধম নিজেকে শেষের পর্যায়েই রাখি। এবার আসুন প্রথম শ্রেণীর মানুষ কারা তা জেনে নেই। কেউ কেউ হয়ত বলে ফেলবেন এরই মধ্যে- প্রথম শ্রেণীর মানুষ থুক্কু নাগরিক হচ্ছে দেশের মন্ত্রী-গন মানে ভিভিআইপি, এরপর আসবেন আমলাগন-ভিআইপি, এ দুয়ের মাঝখানেই আছেন সিআইপি, এর উপরেও এক শ্রেণীর মানুষ থুক্কু নাগরিক আছে দেশে- অতি উচ্চ ধনিক শ্রেণীর এক প্রকার ঘরকুনো টকটকে দেশের রসগোল্লা। মজার ব্যাপার হল সে টকটকে রসগোল্লা টাইপের নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে নির্লজ্জ যদি কেউ থেকে থাকে। তিনি আর কেউ নন- বাংলাদেশের পদ্মা আবুল। এরই মধ্যে তা প্রমাণিত। মাঝে মাঝে অবাক লাগে, আবুল আবার রাজনীতি করে কেমনে, তখন ভাবি আমি অধম- টাকা থাকলে করা যায় এখন যেমনে, আমরাও জানি তেমনে!

বাসে ঢাকার বাইরে যাচ্ছি, যমুনা থুক্কু বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার সময় সহযাত্রী বন্ধুকে বলে উঠলাম- দেখেন দেখেন পদ্মা সেতু! আমার কথা শুনে আশেপাশের দুচার সিটের যাত্রীরাও দেখলাম মুখ টিপে হেসে উঠলো আর আরেকটু ভালোভাবে দেখতে লাগলো জানালার বাইরে দিয়ে- ইহাই কি পদ্মা সেতু! যাই হোক বেশ কিছুক্ষণ পর আমার সহযাত্রী বন্ধুটি বলে উঠলো- আপনি কি জেনে শুনে বলেছেন তা? আমি বললাম- হ্যাঁ আমি জেনেশুনে বলেছি তা। কারণ পদ্মা সেতু কবে দেখবো তার তো কোন গ্যারান্টি নাই, তাই এই সেতুকেই আপাতত পদ্মা সেতু বলে ভেবে নিলাম। আপাতত দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই। এ কথা শুনে আমদের সাথে থাকা অপর দুজন সহযাত্রী বন্ধুরাও হেসে উঠলেন। পদ্মা সেতু নিয়ে এভাবেই মানুষ হেসে উঠে, তা যদি আবুল থুক্কু মহা আবুল থুক্কু সাবেক যোগাযোগ ব্যবস্থায় কালিমা লাগানো এ আমলের একমাত্র মহা আবুল জনাব আবুল হোসেন বুঝেও একটুসখানি লজ্জা পাইতো। তার পরিচালনায় গত তিনবছর যাবত দেখা মহা-সিনেমার আপাতত শেষ খবরের অংশগুলো নিশ্চয়ই দেখেছেন এরই মধ্যে। ‘শাহনামা’ একটি বিখ্যাত সৃষ্টি। যা শতাব্দীর পর শতাব্দী এভাবেই তার উৎকৃষ্টতা এবং বিশুদ্ধতা বজায় রাখবে পাঠক মহলে। আমাদের মহা আবুল তার পদ্মা বিষয়ক (আবুলনামা) সৃষ্টি করেও বাংলাদেশের ইতিহাসের (মহা আবুল) বলে নিজেকে সৃষ্টি করেছেন। তাই বা কম কিসে!!!

সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অসত্য অভিযোগ ও কতিপয় পত্রিকার অপপ্রচার পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নকে স্থগিত করে দিয়েছে। আমি কোনো অন্যায় ও অনিয়ম করিনি—যাতে পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল হতে পারে। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজিতে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন আটকে গেল। এটা আমার জন্য যেমন বেদনাদায়ক ও অস্বস্তিকর, তেমনি দেশের জন্য চরম ক্ষতির কারণ।’
(আজ পত্রিকায় এক বিবৃতিতে আবুল-নামার আবুল উপরোক্ত কথাগুলিও বলেছেন)।

ফলাফল:
পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি দিয়ে সরকারের সব অর্জন বিসর্জন হয়ে গেলো, আবুল আবুলের মতনই বহাল তবিয়তে রইল!!!

বিঃ দ্রঃ- লজ্জার মার্সিডিজের চেয়েও ইজ্জতের ঠেলাগাড়ি ভালো। চতুর্থ শ্রেনীর নাগরিক হিসেবে আপাতত আমার লজ্জার পদ্মা সেতুর চেয়ে ট্রলারেও পদ্মা পার হওয়া ভালো।