ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

শিরোনামের লাইনটি একটি টিভি চ্যানেলের নিজস্ব প্রচারনামুলক বিজ্ঞাপন। দেশে যে হারে ককটেল, গুলি আর ভাংচুরের আওয়াজ হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের লাইনটি আমি অধমের আপাতত মনে ধরেছে। পড়াশুনায় কাচা আমি, বিজ্ঞানের একটি সূত্রও মনে পড়ছে- যে কোন ক্রিয়ারই একটি প্রতিক্রিয়া আছে। শাহবাগের ক্রিয়ায়ও স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তবে শাহবাগের ক্রিয়া হচ্ছে অহিংস আর তার বিপক্ষের প্রতিক্রিয়া সহিংস। নিন্দুকেরা বলে- পার্থক্য শুধু অ এবং স!

আমার মতন শাহবাগের এক্কেবারে পেছনের সারির কেন প্রথম সারিরও অনেকেই বলবেন। গত বছর দু অথবা অনেক বছরেও যাদের সাথে দেখা হয়নি। তাদের সাথে হটাৎই দেখা হয়ে গিয়েছে শাহবাগে। কেউ গিয়েছেন প্রতিবাদে, কেউ গিয়েছেন সামিল হতে, কেউ গিয়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কিছু করার অভিপ্রায়ে, কেউ গিয়েছেন একান্তই দেখতে- কি হচ্ছে শাহবাগে। এতো এতো মানুষের ঢল বলে দেয়, কিছু না কিছু আছেই শাহবাগে। শাহবাগে প্রতিদিন না গেলে পেটের ভাত হজম না হওয়া আমি অধম অবশ্য বলতে পারি- সে কিছু টি কি? শাহবাগ একটি নেশা। দেশকে ভালবাসার নেশা, দেশ বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার নেশা, অসাম্প্রদায়িক মানসিকতাকে সবার উপরে রাখার মানসিকতাকে ঝালিয়ে নেয়ার নেশা। আমি শাহবাগের নেশায় এক্কেবারে বুদ হয়ে আছি।

দেশকে ভালবাসার নেশায় একাত্তরে নিজের জীবন বিপন্ন করেও পতাকাকে উঁচু করে রেখেছে, এরকম নজির আছে ভুরি ভুরি। সে নেশায় নিজের ঘড়-বাড়ি ফেলে মানুষ নিজের জীবনের মায়াকে ভুলে পারি জমিয়েছিল অনিশ্চিত স্বাধীনতা যুদ্ধে। সে পতাকাকে উঁচুতে এবং কলংকমুক্ত করতে যখন শাহবাগে গন-জামায়েত ন্যায্য বিচার পাবার আশায় মানুষ। তখন আরেকটি একাত্তরের মতন বিভীষিকা চারিদিকে ঘটাচ্ছে সে একাত্তরের পরাজিত শক্তিরাই।

জামাত-শিবির যা করছে, তা যদি এখন সাধারণ মানুষ শুরু করে জামাত-শিবিরের উপর। তখন কি তা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে? আমি বলি- হবে না। ওরা শুধু শুধু সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালাচ্ছে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করতে! এরকম অনেক ভয়ানক পরিস্থিতি আমরা বাংলাদেশীরা মোকাবেলা করেছি। ইতিহাস তাই বলে, জিতেছে সবসময় মানবতা।