ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

“ঘটনাটার শুরুই যেন করেছে পুলিশ। আর এখন পুরো লন্ডন পুড়ছে। তিন দশকের মধ্যে এমন দেখেনি কেউ। দাউ দাউ জ্বলছে ফার্নিচার, কাঠ পুড়ে কয়লা হয়ে যাচ্ছে, পুড়ছে বাচ্চাদের বাচ্চাদের পড়ার ঘড় ও পুতুল। আগুনে মোবাইল ওয়্যারহাউজ জ্বলছে। লন্ডনের লুটেরারা সব নিয়ে গেছে। সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে নবীন বনিক থেকে শুরু করে শতবর্ষের পুরোনো বনেদি ব্যবসা ও বাড়ি। গতকাল তা ছড়িয়ে পড়েছে বিলেতের দ্বিতীয় শহর বার্মিংহাম ছাড়াও নটিংহাম, উইলবার হ্যাম্পটন ও ব্রিষ্টল অবধি। সামনে অলিম্পিক, আর একি অবস্থা! কে এ শহর রক্ষা করবে?”- লন্ডন থেকে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক শামীম আজাদ এভাবেই বলছিলেন একটি পত্রিকায়।

কোথায় লন্ডন আর কোথায় বাংলাদেশ। সাগর-মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যেতে হয় সে সুদূরের দেশটায়। সেখানে কেউ মারা গেলেই কি আর যুদ্ধ লাগলেই কি! আমাদের এই দেশের তো আর ক্ষতি নেই। তবে কেন আর এই ভেবে চিন্তায় মাথা খারাপ করবো। ওখানেই কত মানবাধিকার লঙ্ঘন দেখার বড় বড় সংস্থা আছে। আছে বিশ্ব কাঁপানো সর্বশ্রেষ্ঠ পুলিশ সংস্থা ‘ইন্টারপোল’। তাহলে তো আর সমস্যা হওয়ার কথাই না। তবে ব্যপারটি হাসির হলেও, তা যে ঘটেছে তা আমরাও দেখছি এবং শুনছি! দাঙ্গা-হাংগামা হচ্ছে, লুটতরাজ হচ্ছে। খবরে প্রকাশ পুলিশের গুলিতে আহত একজন মারা গিয়েছে। আরও কয়জন এরকম নিরীহ অথবা অপরাধী মারা যায় অথবা সর্বস্বান্ত হয় তা না হয় সময়ের কাছেই ছেড়ে দিলাম। পুরো ব্যাপারটি হয়ত আমার মতো একজন সাধারণ বাংলাদেশির কিছুই যাবে-আসবে না। কারন স্বাভাবিক জীবনধারায় সময় হয়ে উঠে না বিধায় নিজের দেশের অনেক বিষয়ই তো আড়াল হয়ে যায় ভাবনা থেকে। বিদেশ বিভূঁইয়ে থাকা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা আমাদের বাংলাদেশিরা (ওদের ভাষায় অভিবাসী) যে ভয়ে-আতঙ্কে-চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় আছেন। তা তো নির্দ্বিধায় বলা যায়। হতে পারে তারা সে দেশের এখন নাগরিক, গন্ধে-বর্ণে-ধর্মে তারা বাংলাদেশী।

লেখক শামীম আজাদের লিখাটির এই ক’টি লাইন পড়ে মনটা আরও খুব খারাপ হয়ে গেলো।

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তাদেরই রক্ষা করে, যারা তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। এ সরকার অভিবাসীদের বন্ধু না, ভিন্ন রঙের মানুষকে এরা সমান চোখে দেখে না। ত্বকের রং ঘন হলেই তাদের তরুণদের যখন তখন ‘স্টপ এন্ড সার্চ’ করে হাজতে পাঠায়।

এখন পর্যন্ত বাঙালী-অধ্যুষিত এলাকা বলতে বেথনালগ্রিনের টেসকো পর্যন্ত লুট হয়েছে। শুনছি আমাদের হোয়াইট চ্যাপেলের সোনা ও শাড়ির দোকান লুট করতে পারে। আগে থেকেই আমরা ইংলিশ ডিফেন্স লীগের বর্নবাদী কার্যক্রমের হুমকির মুখে ছিলাম। আজকের দিন আমাদের জন্য বড়ই দুশ্চিন্তার। এত বড় কাণ্ড হয়ে গেলো, প্রধানমন্ত্রী হলিডে থেকে টুঁ শব্দ করেননি

তার মানে কি সভ্য ইংল্যান্ড এর বর্ণবাদী একটি লুকানো ক্ষত এখন তা দগদগে ঘা হিসেবেই দেখতে হবে! আরও স্পষ্ট হবে সে দেশের অভিবাসী নাগরিকদের অবস্থানের টালমাটাল অবস্থা। সে প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয়ই খুঁজছে এখন ইংল্যান্ড এ বসবাসরত বাংলাদেশিরা! যারা যার অবস্থান থেকে নিশ্চয়ই তারা ভাবছেন অবশ্যই। খুব একটা সুখপ্রদ সে ভাবনাগুলো যে না। তা বিচার করতে তো টেলিভিশন এর ঝকঝকে সংবাদই যথেষ্ট। একটু আগেও দেখছিলাম বাংলাদেশি একটি টিভি চ্যানেলে- গত রাতে বাংলাদেশ অধ্যুষিত এলাকায় রাতভর ভাংচুর, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ! অবশ্যই ক্যামেরার বাইরেও অনেক কিছু হচ্ছে। যা আড়ালই থাকবে হয়ত। কুড়ে কুড়ে খাবে কোণ ভুক্তভোগী অভিবাসীদের। স্বইচ্ছেয় ঘটানো যে কোন অরাজকতা অবশ্যই ভয়ংকর হয়। আর যদি থাকে সেখানে সুবিধাভোগী কোন গোষ্ঠী, তাহলে সেখানে কি হতে পারে। তা তো কারোই অজানার বিষয় না! আমরা অপেক্ষায় রইলাম জানার- আসলেই এই ঘটনার জন্য দোষী কে? আর মানবতা লঙ্ঘন এর মতো অপরাধ আসলেই কে করেছে অথবা করছে। ইংল্যান্ড এর সরকার নাকি দাঙ্গা-ফ্যাসাদ ঘটানো লোকজন? সে প্রশ্নের উত্তর জানার প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়েই থাকলাম অপেক্ষায়। সভ্য দেশে কে ঘটাচ্ছে এইসব অসভ্য কাজ-কারবার? কে দেয় দেখি এর উত্তর সরকার নাকি মানবাধিকার সংস্থা নাকি অরাজকতা ঘটানো গোষ্ঠী।

সহমর্মিতা জানাচ্ছি এই ভীতিকর অবস্থার সম্মুখীন যারা হচ্ছেন, বিশেষ করে ভুক্তভোগী বাংলাদেশিদের জন্য। সভ্য ইংল্যান্ড এর মতো জায়গায়, সে দেশের নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতায় দেখি আর কি কি হয়।

***
ফিচার ছবি: http://www.dailytelegraph.com.au,