ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

“ মানুষের যতগুলো অনুভূতি আছে তার মাঝে সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি হচ্ছে ভালোবাসা। আর এই পৃথিবীতে যা কিছুকে ভালোবাসা সম্ভব তার মাঝে সবচেয়ে তীব্র ভালোবাসাটুকু হতে পারে শুধুমাত্র মাতৃভূমির জন্যে। যারা কখনো নিজের মাতৃভূমির জন্যে ভালোবাসাটুকু অনুভব করেনি তাদের মতো দুর্ভাগা আর কেউ নেই। আমাদের খুব সৌভাগ্য আমাদের মাতৃভূমির জন্যে যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল তার ইতিহাস হচ্ছে গভীর আত্মত্যাগের ইতিহাস, অবিশ্বাস্য সাহস ও বীরত্বের ইতিহাস এবং বিশাল এক অর্জনের ইতিহাস” লেখক জাফর ইকবাল এর ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বইটির উদ্ধৃত লাইনগুলো অসাধারণ এক অনুভূতির পরশ বুলিয়ে দেয় যেন। আসলেই তো মাতৃভূমির জন্য তীব্র ভালোবাসাটুকু অসাধারণ অনুভূতিই তো বটে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই তার নিজস্ব সংস্কৃতি অথবা দেশ নির্ভর পরিচয় নিয়েই বড় হয়ে উঠে অথবা থাকতে চায়। আমাদের ভৌগলিকভাবে সে অধিকারটুকু এমনিতেই অর্জিত হয়ে যায়নি। জাতিগত ভাবে আমরা ১৯৭১ সালের এর আগ পর্যন্ত নিজের মতো করে বলতে পারিনি বিশ্বব্রক্ষান্ডে যে- আমি বাংলাদেশি। এ মাতৃভূমির পরিচয়, যেখানে আমি আমার ভাষায় কথা বলবো, আমি আমার নাগরিক অধিকার নিজের মতো করে উপভোগ করবো। সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার মানুষগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু এক অন্যরকম নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর জন্যে। মাতৃভূমিকে ভালোবাসার অপূর্ব এক দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিল তৎকালীন এ দেশের আপামর স্বাধীনতাকামী মানুষদের। অত্যাচারী হিংস্র পশ্চিম পাকিস্তানীদের কাছ থেকে অধিকার হিসেবে সে সর্বোচ্চ স্বস্তির জায়গা ‘আমার দেশ বাংলাদেশ’ এই বাক্যটিকে বাঙালীর অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশপ্রেমের চেতনায় ভরা, নিজস্ব ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যে বলিয়ান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্স জোট নিরপেক্ষ সন্মেলনে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো যার সাথে সাক্ষাতের পর বলেছিলেন- “ আমি হিমালয় দেখিনি। কিন্তু আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়। এভাবেই আমার হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে।”

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপারায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা শেখ সাহারা খাতুন যাকে আদর করে ‘খোকা’ বলেও ডাকতেন। তিনি শুধু যে একজন আলাদা স্বতন্ত্রের ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, তিনি যেন একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। একাধারে বিদ্রোহী, অন্যায়ের সাথে আপোষহীন, স্বপ্নের ঠাসা বুননে একজন মানুষ, একজন স্থপতি একটি জাতির। আত্বত্যগি একজন মানুষ, অবিশ্বাস্য সাহসী ও বীরত্বের অপরিসীম একটি পূর্নাঙ্গ ইতিহাসও বলা যায় নির্ধিদ্বায়। আর এর সব কিছুরই স্বাক্ষর রেখেছিলেন বাঙালি ‘জাতির পিতা’ বলে যাকে আমরা সম্মান জানাই, যাকে সাধারণ মানুষ ‘বঙ্গবন্ধু’ নামীয় ভালোবাসায় সিক্ত একটি নাম উপহার দিয়েছিল সবসময়ের জন্য।

মানুষের অধিকার আদায়ে শান্ত এবং বলিষ্ঠ কণ্ঠের অধিকারী শেখ মুজিব সবসময় সোচ্চার ছিলেন। ১৯৩৯ সালে যখন তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলের ছাত্র ছিলেন, অকুতোভয় শেখ মুজিবের নেতৃত্বে এ বছরই বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসা তদানীন্তন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পরবর্তীতে বাংলার প্রধানমন্ত্রী শের এ বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী কাছে বিদ্যালয়ের ভাঙ্গা ছাদ সংস্কার এর দাবী বহনকারী ছাত্রদের নেতৃত্ব দিয়ে শুরু বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বর্নাঢ্যময় প্রতিবাদী জীবন।

১৯৪৭ এ বি,এ পাশ করে ৪৮ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন শেখ মুজিব। সে বছরেরই ২৩ শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের দেয়া ঘোষণা- পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তার প্রতিবাদ স্বরূপ বাঙালীর রাষ্ট্র ভাষা বাংলা হবে এই অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র- রাজনীতিবিদদের নিয়ে “ রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই” বলে আলোড়ন তুলেন বঙ্গবন্ধু। সে সময় শাসক গোষ্ঠীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার পরিণামে গ্রেফতার এবং কারাবরণ করেন তিনি। ১৯৪৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় এর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ন্যায্য দাবী আদায়ের সংগ্রামে একাত্বতা ঘোষণার ফল স্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে জরিমানা করে। আপোষহীন তরুণ শেখ মুজিব তা দিতে বিরত থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নের জবাবে, তার অংশগ্রহণ ন্যায্য এবং সঠিক পথেই ছিলেন বলে নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পরবর্তীতে এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ছাত্রত্ব কেড়ে নেয়। অন্যায়ের সাথে আপোষহীন শেখ মুজিব তবু তার অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েন নি। নিজ ছাত্রত্ব বিসর্জন দিয়ে হলেও বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের পক্ষেই তার অবস্থান অনড় রাখেন তিনি।

১৯৫২ সালে সরকারীভাবে ঘোষণা হয়- উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা। সে সময় জেলে থাকা সত্ত্বেও সেখানে থেকেই প্রতিবাদ করেন বঙ্গবন্ধু। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে জেলে থেকেই একটানা তের দিন না খেয়ে অনশন পালন করেন তিনি। জনগন কতৃক নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে ১৯৫৫ সালের ২৫শে আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদে বলিষ্ঠ কণ্ঠে বাঙালীর ইচ্ছের কথা নির্ভয়ে এবং অকপটে বলেছিলেন তিনি। তিনি অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন নিজ দেশের মানুষের কল্যাণ আনয়নে। শাসন নির্ভর হিংস্র পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষণে ক্ষণে জাগিয়ে তুলেছিলেন স্বাধীনতাকামী বাংগালীদের। একটি স্বাধীন বাংলাদেশ দেখার স্বপ্নে বিভোর সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর এগিয়ে চলার সংগ্রামে সর্বদা নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। পূর্ব বাংলার পূর্নাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন এর অধিকার আদায়ে ১৯৬৯ সালে তারই ঐতিহাসিক সৃষ্টি ‘ছয় দফা’ এর জন্য তাকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আসামির কাঠগড়ায় দাড় করানো হয়। পরবর্তীতে জনগণের দুর্বার আন্দোলনের মুখে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের আহ্বানে অনুষ্ঠিত একটি সর্বদলীয় সম্মেলনে মুজিব তাঁর ছয়-দফাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চাহিদাগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তা প্রত্যাখ্যাত হলে সম্মেলন থেকে বের হয়ে আসেন প্রতিবাদী শেখ মুজিব। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর এক জনসভায় মুজিব ঘোষণা করেন যে এখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে “বাংলাদেশ” নামে অভিহিত করা হবে-” একটা সময় ছিল যখন এই মাটি আর মানচিত্র থেকে “বাংলা” শব্দটি মুছে ফেলার সব ধরণের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। “বাংলা” শব্দটির অস্তিত্ব শুধু বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আজ ঘোষণা করছি যে, এখন থেকে এই দেশকে পূর্ব পাকিস্তানের বদলে “বাংলাদেশ” ডাকা হবে” মুজিবের এই ঘোষণার ফলে সারা দেশে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ এবং সামরিক কর্তারা তাঁকে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে মূল্যায়িত করতে শুরু করেন। মুজিবের বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিগত আত্মপরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে সমর্থ হন এবং কার্যত ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ২০০৪ সালে বিবিসি’র বাংলা রেডিও সার্ভিসের পক্ষ থেকে সারা বিশ্বে যে জরিপ চালানো হয়, তাতে মুজিব “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী” হিসেবে বিবেচিত হন।

পরবর্তীতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণকে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহবান জানান। প্রায় বিশ লাখ স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীর সামনে উনি বলে উঠেন সে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বেলিত ভাষণ- “ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। বঙ্গবন্ধুর সে ঐতিহাসিক ভাষণ যা উনি দিয়েছিলেন রেসকোর্স বর্তমানের সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে আরও বলে উঠেন- “আমি যদি হুকুম দিবার না’ও পারি। তোমাদের যার যা কিছু আছে তা নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়বা। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।“

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। মূল ঘোষণার অনুবাদ নিম্নরূপ:
“এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক। ”

প্রায় নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত হল আমাদের বিজয়। আমরা হয়ে উঠি স্বাধীন। বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘বাংলাদেশ’।
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর কয়েকটি উক্তি যা কখনও ভুলে যাওয়ার নয়-

“স্বাধীনতা অর্জন মানে শুধুমাত্র পতাকা উত্তোলনের অধিকার অর্জন করাই নয়। জনগণের বেচে থাকা এবং সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও স্বাধীনতারই অংশই।“

“বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছে যে তারা একটি বীরের জাতি, তারা জানে কিভাবে তাদের অধিকার অর্জন করতে হয় এবং মানুষের মতো বেচে থাকতে হয়।“

‘আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন বাঙালী বেচে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে এই স্বাধীনতা হারাতে দেবে না। ইতিহাসে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে টিকে থাকবে। পৃথিবীতে এমন কোন শক্তি নেই যা বাংলাদেশকে পদানত করে রাখতে পারে।“

“যারা আইন ও বিচার মেনে চলে না তারা একটি মহান জাতি হওয়ার আশা করতে পারে না।“

“অন্যের ধার করা সম্পদের উপর ভিত্তি করে কোন জাতি আত্মনির্ভরশীল এবং মহান জাতি হওয়ার আশা করতে পারে না।“

নিজ মহিমায় উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধু সহজেই মানুষ কে বিশ্বাস করতেন। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি কখনও ভাবেননি বাংগালীদের মধ্যে কেউ তার শত্রু। যে মানুষটি আজীবন বাঙ্গালীর স্বপ্ন প্রতিষ্ঠায় ত্যাগী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। যখন তিনি সব বাধাকে অতিক্রম করে স্বাধীন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ব্যস্ত। ঠিক সময়েরই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালো রাত্রিতে একদল বিপথগামী উচ্চাভিলাসী সেনা কর্মকর্তার তাণ্ডব এবং পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র ও রোষানলের স্বীকার হন বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবার। একে একে তারা হত্যা করে বঙ্গবন্ধু এবং তার স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, পুত্র শেখ রাসেল, পুত্র শেখ জামাল, পুত্র শেখ কামাল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল এবং পারভিন জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি, তাঁর অন্ত:সত্তা স্ত্রী আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নীপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, কর্নেল জামিল, রিন্টু খান, সিদ্দিকুর রহমান, সৈয়দ মাহবুবুল হক। বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারকে হত্যা করে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায় সে সময়ের কুচক্রী ১৫ই আগস্টের আত্বস্বিকৃত খুনিরা। মুছে ফেলতে চায় বাঙ্গালীর প্রাণপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে। ইতিহাস তা হতে দেয় নি। তা হবারও নয় কোনদিন। অন্যায়কারী শাসকগোষ্ঠী, অত্যাচারী পাকিস্তানীরা যেখানে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে সাহস পায় নি। নির্লোভ যে মানুষটিকে কতশত চেষ্টাই না করেছে তারা তাদের পক্ষে নেয়ার জন্য, কতটা অত্যাচারই না সহ্য করতে হয়েছিল যে মানুষটিকে। যিনি কিনা জীবনের সবচেয়ে রঙ্গিন সময় তরুণ বয়সের বেশির ভাগ সময়েই জেলে কাটিয়েছিলেন এ দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষায়। হাসিমুখে বরন করেছিলেন দিনের পর দিন বছরের পর বছর কারাবরণ। সে মহান মানুষটির হত্যাকাণ্ডে যারাই জড়িত ছিলেন। এ জাতি তাদের ক্ষমা করবে না কোনদিন। ইতিহাসের কুচক্রী নরঘাতকদের তালিকায় ঘৃণার সাথে উচ্চারিত হবে সে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া প্রতিটি হত্যাকারীর নাম। সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি দেশকে নেতৃত্ব শূন্য করে, একে একে যেন কেড়ে নিয়েছিল বাঙ্গালীর স্বপ্ন, আশা,ভালোবাসাকেও। যা কখনও পূরণ হবার নয়।

জনগণকে আশা এবং ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখা, জনগণের স্বপ্নকে বাস্তবিক রূপ দেয়া, জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেকে উজাড় করে দেয়া, আমৃত্যু অন্যায়ের সাথে আপোসহীন সে অবিসংবাদিত মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মহাপ্রয়াণের দিনে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।

তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া, বঙ্গবন্ধু ওয়েবসাইট