ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

বেশ অনেক বছরটা পার করে দিয়ে অবশেষে সফলতার মুখ দেখলাম। প্রথম যখন চেষ্টা করছিলাম সময়টা বেশ ভালো ছিল না। অনেক প্রশ্ন নিয়ে যখন সিনিয়র কারও কাছে উত্তর খোজার জন্য যেতাম। বেশ ঘটা করেই উনারা আমাকে বুঝিয়ে দিতেন। আমিও মাথা নেড়ে নেড়ে ‘সবকিছু নিরবে শিখতে পেরেছি’ বলে প্রকাশ করতাম। কঠিন কোন থিসিস অথবা গবেষনালব্ধ ফল নিয়ে এই মুহুর্তে আর ভাববো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।শুধুই শিখবো। জানার এখনও অবশ্য অনেক অনেক বাকি। পৃথিবীর মহৎ এবং সফল মানূষগন তো বলেনই যে- আমি এখনও শিখছি। আর আমি না হয় কোন ছাড়!

দেশে এবং দেশের বাইরে যারাই আমরা একটু সচেতন এবং বিশ্বস্ততা নিয়ে ভালোবাসা নিয়ে দেশকে নিয়ে ভাবি। তারা সবাইই যে একই কাতারে পরি না তা ভাবতে গেলেই মন কেদে উঠে। আসলেই তো দেশকে নিয়ে ভাবনার অনেক লোক আছে। যাদের জোর আমার আপনার চেয়েও অনেক বেশি। সে রকম লোকই বেশি, তাই নয় কি?

এক লোক সারাক্ষন বিধাতাকে সামনে রেখে জপতে থাকে বিধাতার নাম। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে লোকটিই অসাধারন কিছু খারাপ কাজ করে। আর এক লোক বিধাতাকে শুধু মনে মনেই ডাকে। কিন্তু কোণ খারাপ কাজই সে করেনি। আমরা সাধারনত কাকে সবচেয়ে ভালো এবং ধর্মভিরু লোক মনে করবো?

এ দেশে পাচ বছর বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে মন্ত্রী পদমর্যাদা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার, আলবদর এর নেতৃত্বদানকারী একজন লোক দাবড়িয়ে বেড়ায় সারা দেশটি! তখন আমাদের কারোই গায়ে লাগে না। কেউ হয়ত ঘুনাক্ষরেও বলে না- “এই লোকটি সে মানূষটিকে খুন করেছে- যে কিনা তার প্রিয় স্বদেশভুমির জাতীয় পতাকাটি ধারন করেছিল বলে।“

এক লোক দুর্নীতি করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। সারাক্ষন সে দুর্নীতি উতখাতের বুলি আউরায়। আর তার পরবর্তী প্রজন্ম একটার পর একটি উচ্চ পদে আসিন হয়ে সে ধারা বজায় রাখে। তখন আমাদের কিছুই হয় না! আর একজন সাধারন রিকশাওয়ালা ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে সে উচ্চপদে আসিন লোকটির চকচকে গাড়িকে সাইড দিতে দেরি করাতে হয়ত- তাকে খেতে হয় একটি চড়, প্রচন্ড চড়! সে গরিব লোকটি হয়ত তার ঘরে থাকা পড়ুয়া সন্তানটির কাছে লুকিয়ে ফেলে সে অপমান! তখন মানবতা হারিয়ে যায় আসলেই। যারা আমরা তা দেখি সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। আমরা কি তার প্রতিবাদ করি বা করতে পারি?

বছরে শত শত কোটি টাকা কর ফাকি দেয়া একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারী কর্মকর্তা কিছু বলতে গেলে, সে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার মতন একটি প্রথম শ্রেনীর দৈনিক পত্রিকার উপ-সম্পাদক জ্বালাময়ী কলাম লিখেন! আর এ দেশেরই একজন মন্ত্রী দশ টাকা কর দেয়ার কথা বললে আমাদেরই গা জ্বলে যায়! বলেন তো আমরা কোথায় যাই অথবা যাচ্ছি? বিদেশে থাকলে তো অটোমেটিক ট্যাস্ক কর্তন এর বিরুদ্ধে তো কেউ কখনও কথা বলেন নি!

এখন শহীদ মিনারে মানববন্ধন আর সমাবেশ এর লাইন ধরে যায়। এই তো গতবছর শহীদ মিনার এ একদঙ্গল লোক যাচ্ছে তাই করে নগ্ন উল্লাস করলো একুশে ফেব্রুয়ারীর দিনটিতে! কই তখন তো কেউ তেমন করে মানববন্ধন করে অথবা সমাবেশ করে বলেন নি- কেউ যেন আর সাহস না করে এই শহিদ মিনারকে লাঞ্ছিত করার। যারা বলবেন তারা নিজেরাই যে মাঝে মাঝে জুতা পায়ে নিয়েই বেদিতে উঠে পরেন! আমরা তা সবসময় খেয়াল রাখি কি? আর সুদুর জাপান থেকে লোকজন এসে ঝাড়ু নিয়ে নেমে পড়ে এই আমাদেরই শহীদ মিনার পরিস্কার রাখতে হয় কিভাবে তা দেখিয়ে দেয়ার জন্য! তখন কি আমাদের গায়ে অপমানের বোঝা গায়ে জ্বালা ধরায় নি?

খোদ বিচারিক আদালতে এর আগেও দেখেছি টিভি ফুটেজে পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের নামে গাড়ি পোড়াচ্ছে আর ককটেল আর আগুন জ্বালাচ্ছে। আমরা বাসায় বসে বসে মুরগীর রান চিবূই আর নিজে সে বিপদসংকুল জায়গায় নেই বলে শোকরানা আদায় করি।

একজন মহা-অপরাধী কুখ্যাত রাজাকার ও মানবতাবিরোধী হিংস্র নেতাকে কয়েদ বন্দি করা হয়। তার জন্য নাকি দেশে রেড এলার্ট এর মতনও জারি করতে বাধ্য হয় সরকার! মিছিল করে পুলিশকে পেটায়! আমরা বসে বসে আঙ্গুল চুষি আর লেবেঞ্জুস খাই! আর মুখে বুলি আউরাতে থাকি-“এ বিচার যেন নিরপেক্ষ হয়!“

দিন বদলাক আর আমরাও বদলে যাই। তাই তো বলি- আসুন সবাই মিলে মানবাধিকার এর প্রশ্নে, দেশে যেন মহামান্য মানবতাবিরোধী বন্দিদের উপর সরকার সুবিচার করে সে প্রত্যাশা করি। দেশ, জাতি ও সমাজের মঙ্গল করি!!!!!!

দেখেছেন, শেষে এসে আমিও কিভাবে বদলে গিয়েছি!