ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

শুনেছি এমন একটি আইন এখনও বিদ্যমান- কোন যানবাহনের চালকগন যদি কোণ দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন এবং তার ফলে কেউ যদি আহত হয়। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া ব্যাক্তি চাইলে “এটেম্পট টু মার্ডার” এর মামলা করতে পারেন সে চালকের বিরুদ্ধে। আর যদি সে দুর্ঘটনায় সে ব্যাক্তি মারা যান। তাহলে নাকি চালকের বিরুদ্ধে দুর্ঘটনার মামলা হয় ! ফলে চালকগন নাকি দুর্ঘটনাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তিকে মেরেই চলে যান! খুন এর মামলার চেয়ে যে দুর্ঘটনার মামলা অনেক ভালো। তাই বাধ্য হয়ে চালকগন এরকম করে থাকেন সাধারনত ( শোনা কথা আমার, অবশ্য বিচার করি নাই)। এরকম অনেক আইনই হয়ত এখনও বিদ্যমান এ সময়ে, যা প্রচলিত সময়ের বেমানান। এক্কেবারেই বেমানান।

আমাদের দেশের একমাত্র বৃহত বিরোধী দল এই সময়ে এসে ঠিক সে চালকের মতনই কান্ডকীর্তি ঘটিয়ে একটি লোককে মেরে ফেললেন! মৃত ব্যাক্তিটি আর কেউ নন –জনাব ইলিয়াস আলী! ধরে নিন যে বা যারাই ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে। তারা নিশ্চয়ই আমাদের মহামান্য বর্তমান মিডিয়ার বদৌলতে সব সংবাদ এবং কার্যক্রম দেখছেন এবং শুনছেন নির্বিগ্নে। এ অবস্থায় একজন পাগলও খুন এর মামলায় পড়তে চাইবেন না। যেখানে ভিকটিমকে মেরে ফেললেই অনেক প্রমান আর থাকবে না। মৃত ব্যাক্তির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করবে খুব বড়জোর। এর বেশি কিছুই আর করতে পারবে কি কেউ? এ দেশে মেরে ফেললেই তো অনেক কিছুর সুবিধা পাওয়া যায় যেখানে! এক্কেবারেই হতাশাজনক!!!

এরপর নাকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল সহ আরও বেশ অনেকজন নেতা নিখোঁজ। হরতাল পরবর্তী মামলায় গ্রেফতারের পরওয়ানা ঝুলে থাকার কারনে তাদের নাকি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় সরকারী বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও নাকি উনাদেরকে খুজে পেতে ব্যর্থ! মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আগাম জামিন নেয়ার জন্য রাস্তা ক্লিয়ার করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবি সমিতিসহ বেশ কিছু প্রবীন আইনজীবি এ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন- পুলিশ কেন হাইকোর্ট চত্বরের বাইরে!

এই মাত্র খবর পেলাম পত্রিকা মারফতই, বিএনপি নেতা ফখরুল সহ মামলায় ঝুলে থাকা অন্যান্য নেতারা এখন সুপ্রিম কোর্ট ভবনে। ভাগ্যিস উনাদের খুজে পাওয়া গিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো পুলিশ উনাদের গ্রেফতার করতে পারবে না। কারন আর কিছুই না হাইকোর্ট ভবন থেকে নাকি আসামিদের গ্রেফতার করা যায় না!!!

কী দরকার ছিল সরকারের মামলা করার আর বিরোধী দলের মামলার খেলায় ঝুলে থাকার! তবুও, ভাগ্যিস উনাদের খুঁজে পাওয়া যাবে এখন!