ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

তিন সাংবাদিকরে পিটাইয়া তক্তা বানাইয়া ফেলছে মহামান্য পুলিশ। যা একবারেই ঠিক হয় নাই। এত কষ্ট করে এত ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে একটি আন্দোলনের সংবাদ উনারা সংগ্রহ করছিলেন এই জ্যৈষ্ঠের এত্ত এত্ত গরমে। আর তাদেরই কিনা এরকম মাইরটা মারলো পুলিশ। নাহ! মানা যায় না এক্কেবারেই মানা যায় না। হাজার হলেও সবসময় বদলে যাওয়া রূপের পত্রিকা- প্রথম আলো বলে কথা! অবশ্য এর ফলে সাথে সাথে আলোচিত ৯ জন পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে! আমি নিশ্চিত ব্যাপারটি এখানেই শেষ হবে না। এর জন্য প্রথম আলোর আরও রমরমা সংবাদের জন্য দেশবাসী সিট বেল্ট বেধে বসে থাকুন। আসিতেছে…

একটু কষ্ট করিয়া আমার মতন আমজনতার একটি বোকা প্রতিক্রিয়া জানবেন সাথে সাথে, এ জন্যই প্রকাশ করলাম আমার ব্লগ পৃষ্ঠায়।

সাংবাদিক-গন ভালো কিছুই করেন এ কথা অনস্বীকার্য তা ঠিক আছে। উনারা যেমন সঠিকটি বলবেন, ঠিক তেমনি ভুলটাও ধরিয়ে দিবেন। এই সমনীতিই তো হওয়া বলে মনে করি। তাই বলে সব কিছুই যে ভালো হয় আর সব সংবাদপত্রই যে সঠিকভাবে সংবাদ উপস্থাপন করে দেশ, দশের, জাতির জন্য। তার প্রমান তো প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই হার্টবিট থেমে যায় শিরোনাম দেখে। আমি বোকা জনতা আমি আমার মতনই বুঝলাম। পুলিশের সে কর্মকর্তারা এরকমই বোকা অথবা গর্দভ অথবা পাগল যে সাংবাদিকদের বর্তমান ক্ষমতা জেনেও এ ধরনের একটি কাজ করবে!!!! একজন দুজন না তিন তিনজন সাংবাদিকরে পিটাবে!!!

দেশে ঘটনা না ঘটলে তো পত্রিকা মানুষ পড়ার আগ্রহই হারিয়ে ফেলবে। তাই সংবাদপত্র অথবা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার দরকার সব খবর। সেখানে দুর্ঘটনা , চমক, অরাজকতা, নেগেটিভ সংবাদ সর্বোপরি ব্রেকিং নিউজ না দিতে পারলে সময়ে সময়ে। দর্শক থুক্কু পাঠক যে তা খাবে না অথবা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। হয়ে যাবে সবকিছু নিরামিষ। তাতে উনাদের বারোটা বাজবে বৈ পোয়াবারো কিছু হবে না। তা উনারা জানেন বলেই সবসময় জ্বালাময়ী কিছু উপস্থাপন এর তালে থাকেন বেশিরভাগ সংবাদপত্র। অবশ্য এতে দোষের কিছু নেই। আমরা যা খাবো তাই তো উনারা খাওয়াবেন! আফসোস আমরা যা পাই তাই খেয়ে নেই! হয়ত অভাবী বলেই।

গত সোমবার থেকে দেশে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউশনগুলোতে দিনের পর দিন একটি ভুল গুজব নিয়ে এত্ত এত্ত ঘটনা , অরাজকতা, বাস ভাংচুর, রাস্তা অবরোধ, লোকজন মানে সাধারণ মানুষদের জান তেজপাতা করে দিচ্ছে তারা। এমনকি শ্রমিকদের সাথে ছাত্রদের মারামারি পর্যন্ত দেখতে হচ্ছে আমাদের এ নিয়ে। পলিটেকনিকগুলোর ছাত্রদের সে তথাকথিত আন্দোলন যে ভুল, তা নিয়ে দেশের বেশিরভাগ পত্রিকাগুলোই কিছু লিখছে না। তবে উনারা এ নিয়ে যে সব বাজে ঘটনা ঘটছে সেগুলো ঠিকই উল্লেখ করছে।

অবশ্য আজকে দেখলাম একটি টিভি চ্যানেল দায়সারা গোছের একটি নিউজ করেছে শিক্ষা সচিবের দু’তিন লাইনের বক্তব্য। ভাগ্যিস তাও রিপোর্টটি দেখেছি। যেখানে উনি বলছিলেন- পলিটেকনিক এর ইঞ্জিনিয়ার-গন দেরকে সেকেন্ড ক্লাস থেকে থার্ড ক্লাস পদমর্যাদায় নামানো হবে না।

আফসোস সংবাদপত্রগুলো এ নিয়ে তেমন কোণই মাথা ঘামালো না! আজকে বেশ কয়েকটি পত্রিকা ঘেঁটে দেখলাম, এ নিয়ে তেমন কোণ সংবাদ প্রকাশিত হয় নি। সংবাদপত্রগুলো আমাদের উপকার করেন সবসময়। উনারা আমাদের সবসময় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এই যে পলিটেকনিকগুলোতে যে বিশৃঙ্খলা চলছে যার ভুক্তভোগী আমরাই। তা থামাতে উনাদের সহযোগিতা নেই কেন? এ প্রশ্নের উত্তর কে দিতে পারে আমায়?

আমি একজন বোকা জনতা জানতে চেষ্টা করছি- আজকেও কিন্তু সে পলিটেকনিক নিয়েই ঘটনা। আজকে পুলিশ যে কোন কারণেই হোক সাংবাদিক পিটিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। নয় নয়জনের চাকুরী চলে গিয়েছে। তা নিয়ে আগামীকালের সে পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠা হয়ত নিউজ ছাপবে। এর আগে এই ফালতু আন্দোলনের কারনে যে মানুষটির ট্রাক অথবা নিজস্ব বাহন ভাংচুর করা হল। যে মানুষগুলো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছুতে পারলো না সেকেন্ড ক্লাস মার্কা এই সব ভাবী ইঞ্জিনিয়ারগুলোর ফালটু কার্যক্রম এ। তাদের প্রতিরোধ করার জন্য অথবা সাধারণের জান-মাল রক্ষার জন্য যখন পুলিশ সে ছাত্রদেরকে থামানোর চেষ্টা করেছে কষ্ট করে। তাদের কি বাহবা প্রাপ্য না?

পলিটেকনিক এ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের এ অরাজকতা যে ঠিক না, তা নিয়ে বলবো কি আমি-আপনি শুধু? সংবাদ তো দেয়ার কথা সংবাদপত্রেরও। তাই তো নিয়ম বলে জানি। যেভাবে আমরা প্রতিদিন অন্যান্য সংবাদ পাই। তার মানে কি উনারা চাইছেন সংবাদ আর অরাজকতার ছবি!!! তাই কি কিছু বলছেন না এ ভুল আন্দোলনের পক্ষে?

আমরা শুধু মুদ্রার একপিঠই দেখি। অন্য পিঠও দেখতে হয় বৈকি! না হয় যে আমি একচোখা!

ফার্ষ্ট ক্লাস গুজব