ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আজ সকালে কাজে বেরিয়েছিলাম জরুরী কাজ সারতে আগ্রাবাদে। তখন সকাল ১০ টা। রাস্তাঘাট মোটামুটি ফাঁকা। সামান্য কয়েকজন পুলিশ টহল দিচ্ছিল। হঠাৎ হই চই এর শব্দ শুনে পিছন ফিরে তাকাতেই দেখলাম মাত্র ৮ থেকে ১০ জন যুবক রাস্তায় চলমান গাড়ির উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পুরা এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। আর সেই সময় সেইখানে হাজির হওয়া দুটি দোতলা বাস থামিয়ে একটিতে আগুন ধরিয়ে দিল। অল্পক্ষণ পরেই পুলিশের আরও একটি ভ্যান আসল এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করল। মুহূর্তেই অফিসগামী ও পথচারীরা দিক বিদিক ছুটল আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে। সে এক অসহায় অবস্থা।

উপরোক্ত দৃশ্যের সাথে ইসলাম অবমাননার প্রতিবাদ স্বরূপ ডাকা হরতালের যথার্থতা কি খুজে পাওয়া যায়? নাকি কারনে-অকারনে ডাকা তথাকথিত হরতালের চিরাচরিত দৃশ্য। আমরা আল্লাহর সেরা সৃষ্টি। মহানবী (সঃ) এর জন্ম লগ্ন থেকে ইসলাম বিরোধের স্বীকার। আল্লাহর রসুল বার বার আমাদেরকে সতর্ক করেছেন ইয়াহুদি ও নাছারাদের সাথে লেন-দেন, উঠা-বসা ও সম্পর্কের ব্যাপারে। প্রিয় পাঠক একটু ভাবুন আজ আমাদের জীবন ব্যবস্থার কোন পর্যায়টি সম্পূর্ণ ইসলাম সম্মত এবং উল্লিখিতদের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত? ইসলামকে অবমাননা বা আঘাতের কারনে জনজীবন বিপর্যস্ত করে কোন পদক্ষেপ রাসুল(সঃ) এবং তার চার খলিফা ও তার উত্তরসুরীদের গ্রহন করার ইতিহাস খুজে পাওয়া যাবে না।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। সংঘাত যেখানে অনিবার্য সেখানে ছাড়া সংঘাত এর স্থান ইসলামে নাই। আল্লাহর রাসুল(সঃ) এ চর্চা কখনই করেননি। আজ যারা হরতালের নামে ত্রাস সৃষ্টি করে মহানবী(সঃ) এর অবমাননার প্রতিবাদ করছে তাদের এ চর্চা কতটুকু ইসলাম সম্মত। ইসলামের সবকিছুই হতে হবে ইসলামিক উপায়ে। এটা না করাই ইসলামকে বড় অবমাননা। আমাদের চর্চা যদি অ-ইসলামিক হয় তবে আমরাই বা ইসলামের অংশীদার হিসেবে কতটা দাবিদার!

আসুন আমরা ইসলাম সম্মত ভাবে প্রতিবাদ জানাই। আমাদেরকে দেখে যেন কিছু শেখে। সমালোচনার যেন সুযোগ না পায়। বিদ্যা, বুদ্ধি ও অর্থনৈতিক শক্তি অর্জনের মাধ্যমে আমরা যদি আমাদের শক্ত অবস্থান গড়তে পারি তবে পৃথিবীর কেউই সাহস পাবে না টু বাজে শব্দ করতে।