ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

রামুর ঘটনা বাংলার ইতিহাসে এক কালিমা যা দেশের গন্তীয়ে পেরিয়ে ছাপ ফেলেছে বিশ্ব পরিমন্তলে। এ আগুন কখন আবার কাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খাড় করবে তা বিধাতাই ভাল জানেন। রামুর ঘটনার পর থেকেই সরকার পক্ষ আর বিরোধী পক্ষের পরস্পর দোষারোপ মিশ্রিত বক্তব্য আড়ালে প্রকৃত দোষীরা যে নিরাপদ আশ্রয় খুজে নিচ্ছে তা কি আমাদের সরকার ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা বোঝেন না।
এদেশ অতীত থেকেই মুসলমান হিন্দু, বেৌদ্ধ, খৃষ্টান ও অন্যান্য ধর্মালম্বীদের আবাসভূমি। স্বাধীনতার সময় সংখ্যালঘু হিসেবে হিন্দু সম্প্রদায় যে আগুনের স্বীকার হয়েছে তা ইতিহাস হয়ে আছে। যে অপরাধে আজ রামুর নিরিহ বেৌদ্ধরা সাম্প্রদায়িকতার আগুনে পুড়ল তার পিছনে কি আমরা মুসলমান দায়ি না যারা আর একজনের ঘরে আগুন লাগিয়ে বেহেশত বাসি হতে অপার হয়ে বসে আছি তারা দায়ি। কেন কোন কারনে এরকম করা হলো। রামুর বৌদ্ধরাকি বাংলা মায়ের সন্তান না? আমাদের স্বাধীনতায় কি তাদের অবদান নেই। আজ যে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার চলছে তাদের মধ্যে কি কেউ হিন্দু, বৌদ্ধ বা খৃষ্টান আছে।
রামুর ঘটনা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যতটা করা হয়েছে তা একেবারে দায়িত্বহীন বলা চলে না। কিন্তু বিরোধী দল কি করল? তারা তদন্তের নামে যে নাটক করল তা দ্বারা তারা ক্ষমতালিপ্সু একটি জনবিচ্ছিন্ন দল তা কি প্রমান করে না। নাকি এধরনের ঘটনা তাদেরকে রাজনীতি ও বিরোধিতা করার সুযোগ করে দিল। তারা কি বুঝল না সাম্প্রদায়িকতার যে আগুন লেগেছে তা যদি নির্লিপ্ততার পানি দ্বারা নিভাতে চেষ্টা করি তবে এর আগুনে সবাই একদিন আবারও জ্বলতে হবে। ইতিহাস কখনও কাউকে ক্ষমা করে না। বিরোধীদল (বিএনপি) এর উচিত ছিল এব্যাপারে সরকার যাতে কোন রুপ ভূল না করে তা ফলোআপ করা এবং সঠিক পদক্ষেপ নিতে সরকারকে বাধ্য করা।
যাই হোক হিন্দু , বৌদ্ধ, খৃস্টানরা এদেশে যারা জন্মছে তারা এদেশেরই সন্তান। সাম্প্রদায়িকতার আগুন আমাদের বন্ধনে ক্ষত সৃষ্টি করলেও ভালবাসা, সহমর্মিতা আর সহযোগীতার হাত অচিরেই সে ক্ষত সারিয়ে বলে আমার বিশ্বাস।