ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

Teachers line for receiving Exam Scripts of JSC

গত ১৯/১১ তারিখে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে গেলাম স্কুলের কাজে। কাউকে রুমে পেলাম না কারন সকল অফিসার ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ জে.এস.সি পরীক্ষার খাতা বিতরন সভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন। বক্তৃতা শেষ হলো বেলা ২ টায়। এক সচিব সাহেব বললেন মাননীয় শিক্ষকগণ আপনারা ক্ষুধার্থ। আর ক্ষুধার্থ মানুষ কোন কথা ভালভাবে শুনতে চায় না তাই আমি ও আপনাদেরকে বেশী কিছু বলবো না। এই বলে তিনি ২০ মিনিটের বক্তিমা দিলেন। অবশেষে খাতা নেবার পালা। সব শিক্ষকগণ হাতে বস্তা নিয়ে লাইন ধরে দাঁড়ালেন। সে এক দীর্ঘ লাইন। রিলিফের লাইনের মতো। ক্ষুধার্থ, ক্লান্ত শিক্ষকগন দাড়িয়ে আছেন খাতা নেবার অপেক্ষায়। সকলের মুখে বিরক্তির ছাপ। কিন্তু কিভাবে হবে , কে করবে এ বিরক্তির অবসান।

শিক্ষকদের এই লাইন দেখে খুব খারাপ লাগলো। আমি নিজে একজন শিক্ষক। তাই হয়তো এমন লেগেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ কি পারতো না সন্মানিত শিক্ষকদেরকে একটু সন্মান দেখাতে? তারা কি পারতো না স্যারদেরকে একটু নাস্তা দিয়ে খাতাগুলোকে আগে থেকে প্যাকেট করে বন্টন করতে? পারতো নিশ্চয়ই পারতো। পারলো না কারন সন্মান দেখাতে পয়সা খরচ হবে। কি দরকার পয়সা খরচ করার এ ছা পোষা শিক্ষকদের জন্য। এরা তো ডাকলেই আসে।এদের দিয়েই তো সরকার পায়খানা গননা, মানুষ গননা, ভোটার তালিকা ইত্যাদি ইত্যাদি করিয়ে সরকার বাহবা নিচ্ছে। এদেরকে তো সহজেই সব কাজে লাগানো যায়। এরা যে শিক্ষিত মুজুর। সামান্য বেতনের সাথে স্যার কথাটা বললেই এরা সন্তুষ্ট। এদের থাকতেই নেই ডাক্তার, ইনজিনিয়ার , ব্যাংকার, ব্যবসায়ী আর রাজনীতিজীবিদের মতো জীবন নির্বাহ করার ইচ্ছা। এরা শুধু অবহেলা, অপ্রাপ্তি, অতৃপ্ততা আর অনিশ্চয়তাকে সম্বল করে মানুষের ছেলে মেয়েদের শিক্ষা দিয়ে যাবেন।

সকল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন তারা যেন শিক্ষক সম্প্রদায়কে নিয়ে এরূপ তামাশা না খেলন। বেতন দিতে না পারেন পুলিশ পেটা করবেন না। ন্যূনতম সম্মানটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেন আন্তরিক ভাবে।