ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

নেতা আজকাল একটি সাধারণ শব্দে পরিণত হয়েছে। তাই তো কেউ সত্যিকারের নেতা আবার কেউ সিসকে নেতা অর্থাৎ নামে আছে কাজে নাই।

যাইহোক, নেতা কোন সাধারণ মানুষের কাজ নয় এরা বিশেষ শ্রেণির মানুষ। কেউ কেউ এদেরকে পাগলও বলে থাকে। তবে নেতা কোন সাধারণ পাগল নয় বিশেষ ধরনের পাগল। সাধারণ পাগলরা ১০ এর বাহিরে থাকে আবার নেতাও ১০ এর বাহিরে থাকে, তবে পার্থক্য হল সাধারণ পাগলরা ১০ এর বাহিরেই থাকে আর নেতা ১০ কে ১১ তে পরিণত করতে পারে। তাই নেতা হয়ে উঠে অসংখ্য মানুষের সমন্বয়ে একজন বিশেষ মানুষ।

নেতা প্রচলিত অযু‌ক্তিক বিষয়কে না বলতে পারে, সেক্ষেত্রে বিরোধিতা যত প্রবলই হোক না কেন। যেমন পৃথিবীর সমস্ত নবী-রাসূলগন প্রচলিত সমাজকে না বলেছেন আর একত্ববাদ, সাম্য, সম্প্রিতি, ভালোবাসা এবং মানবীও সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) যখন নবী হয়ে আসেন তখন মক্কায় ৩৬০ জন খোদা ছিলেন কিন্তু তিনি একজনকেও মানেননি। তাই নেতা হতে হলে সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে অন্তর দিয়ে বুঝতে হবে।

প্রতিজন নেতাই হন নিজস্ব ব্যক্তিত্ব গুনে স্বতন্ত্র, যদিও উদ্দেশ্য একই হয়। যেমনটা আমরা দেখতে পাই হযরত উমর ও হযরত আলী (রাঃ) এর মাঝে। হযরত উমর (রা.) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং প্রধান সাহাবীদের অন্যতম। উমর ইসলামি আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ছিলেন। ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার কারণে তাকে আল ফারুক (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেয়া হয়। আমিরুল মুমিনিন উপাধিটি সর্বপ্রথম তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। পক্ষান্তরে মুসলিম জাহানের চতুর্থ ও শেষ খলিফা ছিলেন হযরত আলী (রা.)। তিনি ছিলেন একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। বদর যুদ্ধে বিশেষ বীরত্বের জন্য মুহাম্মদ (সা) তাকে “জুলফিকার” নামক তরবারি উপহার দিয়েছিলেন। খাইবারের সুরক্ষিত কামুস দুর্গ জয় করলে মহানবী তাকে “আসাদুল্লাহ” বা আল্লাহর সিংহ উপাধি দেন। হযরত আলী (রা.) একজন জ্ঞানী ব্যক্তিত্বও ছিলেন, তাই আমরা তাঁর অসংখ্য বাণী দেখতে পাই।

সফলতাকে আর দশজন যেভাবে চিন্তা করেন নেতা সেভাবে চিন্তা করেন না। নেতার কাছে সফলতার মানে হল মুক্তি, সাধারণ মানুষের মুক্তি। এ মুক্তি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের, কুসংস্কার এর বিরুদ্ধে সংস্কার এর। নেতা ভালবাসে মানবতাকে, ভালবাসে সৃষ্টি ও স্রষ্টাকে কে। তাইতো নেতা কোন সাধারণ মানুষ নয় অসংখ্য মানুষের সমন্বয়ে এক মহৎ পাগল।

মোঃ মশিউর রাহমান, ব্যাংকার।