ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

সৃষ্টিকর্তা মানুষ কে দুই ভাগে সৃষ্টি করেছেন, এক ভাগে আছেন নারী আর অন্য ভাগে আছেন পুরুষ। এ বিভক্তি শারীরিক গঠনে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সক্ষমতায়। দুই জাতিকে পৃথক ভাবে চেনার জন্য দুটি নাম। দু’জন এমনভাবে তৈরি যাতে একজন অন্যজনের উপর নির্ভরশীল থাকে।

নারী বললেই অনেকের দৃষ্টিতে ভেসে আসে কিছুটা দুর্বল আর পরনির্ভরশীল মানুষের প্রতিছব্বি, যদিও বাস্তবে দু’জনই দু’জনের উপর নির্ভরশীল। তাইতো কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেনঃ

‘কোন কালে একা হয়নি ক জয়ী পুরুষের তরবারী
প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয় লক্ষী নারী’।

নারীর অপর নাম প্রেরণা। প্রেরণা হলো একটি মানসিক চালিকা শক্তি যার কারণে মানুষ একটি উদ্দীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে। নারীবিহীন পুরুষ কি কল্পনা করা যায়! বাল্যকাল কাটে মায়ের কাছে, যৌবন যায় বউয়ের কাছে, আর বৃদ্ধকাল সে তো যায় মেয়ের কাছে। প্রতিটি ধাপেই দেখা যায় পুরুষের প্রেরণার সঙ্গী হয়ে থাকে একজন নারী।

নারী সহযাত্রী। কোথায় যাবে তুমি, যেথায় পাবেনাকো কোন নারী। নারী সর্বত্র পুরুষের সাথী হয়ে থাকে। কি যুদ্ধ, কি মানবসেবা নারী সর্বত্র বিরাজমান। তাইতো নারী হল সহযাত্রী।

নারী মা। মা হচ্ছে নারীর পূর্ণ প্রকাশ, যিনি গর্ভধারণ, সন্তানের জন্ম তথা সন্তানকে বড় করে তোলেন। আবারো বলতে হয় কাজী নজরুল ইসলাম এর কবিতাঃ

‘হেরিলে মায়ের মুখ
দূরে যায় সব দুখ,
মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান,
মায়ের শীতল কোলে
সকল যাতনা ভোলে
কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান’।

পৃথিবীর সকল পুরুষের জন্ম হয়েছে মায়ের গর্ভে, তাইতো মায়ের অপর নাম নারী। অর্থাৎ যেজন সেবিছে নারী, সেইজন সেবিছে মাকে।

নারী সম্পদ। নারীর কারণেই সম্পত্তির মূল্য বেরে সম্পদে পরিণত হয়। তাই তো আমরা দেখতে পাই নারী স্বর্ণকে গহনা হিসাবে ব্যবহার করে বলেই স্বর্ণের এত দাম! একই ভাবে পুরুষের পাশে নারী আছে বলেই পুরুষ ক্ষণজন্মা। তাইতো খুব সহজেই বলা যায়, নারী সেতো সম্পত্তি নয় সম্পদ। তাই নারী এক অনন্য জাতি যার সংস্পর্শে মানবতা মুক্তি পায়।

নেপলিয়নের এক মহান উক্তি ‘তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দেব’। আর সৃষ্টিকর্তা, সে তো বেহেস্তই দিয়ে রেখেছেন নারীর কাছে।

মোঃ মাশিউর রহমান, ব্যাংকার