ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

অনেকেই মনে করেন যত বেশি সন্তান তত বেশি দারিদ্র্য। বাস্তবে দেখা যায় যত বেশি অশিক্ষা তত বেশি দারিদ্র্য। প্রথমেই আমাদের দেখতে হবে শিক্ষা কি এবং কিভাবে? ‘শিক্ষা’ অতি সাধারণ এবং প্রচলিত একটি শব্দ হলেও এর মাহাত্ম অনেক ব্যাপক এবং বিস্তৃত। শিক্ষা তখনই ফলপ্রসু হয় যখন শিক্ষার উৎস হয় সৃষ্টি ও স্রষ্টা। সৃষ্টি এবং স্রষ্টাকে জানতে হলে পড়তে হবে, ঘুরতে হবে আর শুনতে হবে। এ সব কিছুর উৎস হবে মহাবিশ্ব, জিব-জন্তু, মানুষ ও আল-কুরআন।

মানুষ সৃষ্টি হয় দুর্বল হিসাবে এবং কান্না হয় তার ভাষা। পর্যায়ক্রমে পেশিশক্তি বাড়তে থাকলেও মানুষিক শক্তি বাড়ে না যদি না সে সমাজ, পারিপার্শ্বিকতা, মানুষ আর আল-কুরআন থেকে না শিখে। পেশিশক্তিকে দুর্বল করে ফেলে তার মানুষিক দুর্বলতা, কারণ সে জানে না কি করে হাতের, মুখের, মাথার কিংবা হৃদয়ের ব্যবহার করতে হয়। পরক্ষণে একজন শিক্ষিত মানুষ এর সবকিছুই জানে। যে জানে আর যে জানে না তারা কি সমান? কখনো নয়।

যে জানেনা নিজের হাতকে কি করে ব্যবহার করতে হয়। যে জানেনা নিজের মুখ, মাথা কিংবা হৃদয়কে কি করে ব্যবহার করতে হয়, সে কি করে জানবে কি করে দারিদ্র্য দূর করতে হয়! দারিদ্র্য তো একটি স্বাধীন সত্তা, যে অন্যের দ্বারা চালিত হয় না বরং অন্যকে চালিত করে। যে নিজে ধ্বংস হয় না বরং অন্যকে ধ্বংস করে। এই স্বাধীন সত্ত্বা টিকে থাকে নিজের সক্রিয়তা নিয়ে দুর্বলের পাশে, অশিক্ষিতের পাশে।

একইভাবে আমরা যদি পৃথিবীর পরিবার গুলোর দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, ঐ সমস্ত পরিবারগুলই দরিদ্র যাদের শিক্ষা কম, যাদের শ্রেষ্ঠত্ব নাই। পৃথিবীতো তাদেরকেই দেয় যারা শ্রেষ্ঠ যারা শিক্ষিত। তাই খুব সহজেই বলা যায় অশিক্ষায় দারিদ্র্য বাড়ে।

অন্যদিকে আমরা যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে খুব সহজেই দেখতে পাই এরকম অসংখ্য পরিবার আছে যাদের সন্তানাদির সংখ্যা বেশি কিন্তু শিক্ষিত এবং সমৃদ্ধ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে এক মুদি দোকানির ৮ সন্তান, বর্তমানে তাদের মধ্যে এক ছেলে সরকারের সচিব, একছেলে সহকারি সচিব, এক মেয়ে ডাক্তার, দুই ছেলে ইউরোপে (প্রবাসী), তিন মেয়ে বেসরকারি অফিস এ চাকরি করেন। এই পরিবারের সবাই সফল কারণ সবাই শিক্ষিত। ঘটনাক্রমে আরও যানা যায় যে বেশিরভাগ সন্তানের শিক্ষার খরচ দিয়াছে ডাক্তার মেয়ে। অর্থাৎ ১ থেকে ২ জন শিক্ষিত তো সবাই শিক্ষিত। একইভাবে অন্যদিকে আমরা দেখতে পাই যে অধিক সন্তানের পরিবার দারিদ্র্যে নিমজ্জিত, কারণ শিক্ষা নাই।

অথচ ঐতিহাসিকভাবে আমরা দেখতে পাই যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করা হয়। বিশেষ করে নারী সন্তানদের হত্যা করা হয়, যা সম্পূর্ণ অন্যায়, অমানবিক এবং অজ্ঞতা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যারা এ ধরনের হত্যার সাথে জড়িত তারা দারিদ্র্য থেকে মুক্তিতো পায়ইনি বরং মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছে। অসুস্থ মানুষ কি করে দারিদ্র্য মুক্তি পাবে? তাই দারিদ্র্য মুক্তির জন্য সন্তান হত্যা নয় বরং সাহসী হতে হবে, ব্যক্তিত্বের চর্চা করতে হবে। ব্যক্তিত্বের চর্চায় আত্মসম্মান বাড়ে, যার আত্মসম্মান আছে সে সাফল্য নিয়ে আসে অনবদ্ধ প্রচেষ্টার দারা, প্রজ্ঞা আর জ্ঞানের দ্বারা। আত্মসম্মান, প্রজ্ঞা আর জ্ঞানের বিকাশ ঘটে শিক্ষার দ্বারা। অতএব, এতক্ষণের আলোচনা থেকে খুব সহজেই বলা যায়, অশিক্ষায় দারিদ্র্য বাড়ে সন্তানে নয়।

মোঃ মাশিউর রহমান, ব্যাংকার।