ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

মানুষের জীবনে থাকে নানা রকম স্মৃতি। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না মিশ্রিত বিচিত্র অভিজ্ঞতা। বিশ্ববিদ্যলয় জীবনেও থাকে হাজারো স্মৃতি। মাত্র কয়েকদিন আগের কথা।  ক্যাম্পাসের সংবাদ সংগ্রহ আর ননান ব্যস্ততা। কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে সবকিছু। একদিন মিটিংয়ে হঠাৎ তানজিদ ভাইয়ের প্রস্তাব; নৌকা ভ্রমণ করলে কেমন হয়? অবশ্য এটা প্রতি বছরের একটা নিয়মিত আয়োজন। সবার সিদ্ধান্ত, আয়োজন করবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। সাংবাদিকদের নৌকা ভ্রমণ বলে কথা। হুটহাট আয়োজন। ঠিক হল মাথাপিছু চাঁদা, দিন তারিখ। ভ্রমণের দিন এল। নদীর ঘাট পর্যন্ত যাবো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে। সব কিছু ঠিকঠাক। দুপুর দুইটা বাঁ‌জে। মোটামুটি সবাই হাজির। জহির রায়হান মিলনায়ত‌নের সামনে অপেক্ষা করছে বাস। ওখান থে‌কেই যাত্রা শুরু হ‌বে। হঠাৎ রিজু ভাই আর তান‌জিদ ভাই উধাও। কিছুক্ষণ প‌রে আবার হজির দু’জ‌নেই। সা‌থে প্রক্টর তপন কুমার স্যার। সং‌ক্ষিপ্ত এক উ‌দ্ভোধনী ভাষ‌ণে আশীর্বাদ করে দিলেন। তারপর গ্রুপ ছবি তুলে বিদায় নিলেন স্যার। ত‌বে সার্বক্ষণিক খোঁজ নি‌য়েছেন আমাদের।

হুড়মুড় করে বা‌সে উঠে পড়ল সবাই। সায়েম, দেবজ্যোতি আর আমি ছিলাম সার্বিক দায়িত্বে। কাজেরও কমতি ছিল না। তার ম‌ধ্যেও ক্লিকবাজি। যখন তখন ছবি তোলা। রাইয়ান, সোহাগ, রায়হান ব্যস্ত ছবি তোলায়। রাকিব ভাই ব্যস্ত সেলফি ভিডিওতে। তবে সুযোগ বুঝে ক্যামেরায় টিপ দিতে ভুল করেনি সায়েমও। মনে হয় যেন চলছে সাংবাদিকতার মহড়া। বাসে চলতে চলতে সবাই পরিচিত হয়ে গেলাম রকমারি’র মিশু ভাইয়ের সাথে। মিশু ভাই আর তার দুই বন্ধু থাকছেন আমাদের সাথে। মাত্র কুড়ি মিনিটে আমরা পৌছে গেলাম বংশী নদীর তীরে। প্রত্যাশা আপুর এক আধ লাইন গন আর সবার হইহুলোড়ে কেটে গেল সময়টা। নৌকা ঠিক করা ছিল আগে থেকেই। নৌকা-মাঝি সবই প্রস্তুত। আমরাও উঠেপরলাম নৌকায়। ইঞ্জিন চালিত দীর্ঘ দেহের বোট। কেউ বসছে ছাউনির নিচে, কেউ আবার উপড়ে। যাত্রা শুরু।

img_7652

বার মনে কেমন যেন একটা আনন্দের ছোঁয়া। ঢেউহীন বংশীর স্বচ্ছ জলের বুক চিরে চলছে ট্রলার। ফটোশুটে ব্যস্ত ইলিয়াস ভাই। দুরে পর্কের ফটকও রেহাই পায়নি ক্যামেরা থেকে। চারদিকের মনোরম সৌন্দর্য যেন প্রশান্তি বয়ে আনে। শরতের পরিচ্ছন্ন আকাশ। আকাশে সাদা মেঘের ছুটে চলা, নদীর কুলুকুলু ধ্বনি আর বিকাল বেলার ফুরফুরে হাওয়া। সব মিলিয়ে যেন স্বর্গীয় পরিবেশ বিরাজ করছে।

ফেসবুকে স্টাটাস দিতে ভুল করেনি বাশিরুল, অরিত্র, শাহিন আর আল-আমিনরা। ট্রলার এগিয়ে চলছে। চলছে সোজা গাবতলীর দিকে। নদীর দুই ধারে সবুজ বন আর শস্য ক্ষেত। নদীর বুকে দু-একটা মাছ ধরা নৌকা। কেউ মাছ ধরছে জাল দিয়ে, কেউ আবার রড়শি দিয়ে। রেজাউল, জুনাইদ ভাই, তাহের ভাইয়ের ছবি তুলছে ইলিয়াস ভাই। রিজু ভাই, সাদিয়া, শামিমার ছবিও তুলেছেন তিনি। বাদ পরেনি মিশু ভাই আর আমাদের গানের আসরও। গানের স্পেশাল আয়োজনের জন্য ছিল ক্যাম্পাস বাউল ফকির সাহেব। গান চলছে, তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে; ও রে নীল দরিয়া; বকুল ফুল, বকুল ফুল প্রভৃতি। কখনও আবার, মধু হৈ হৈ আরে বিষ হাওয়াইলা; আমার হার কালা করলামরে; কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু.. ..এমন গান। গানে গানে বোট তখন হেমায়েতপুর অতিক্রম করেছে। নদীর পাশেই হযরতপুর গ্রাম। ছোট্ট দ্বিপ বললেও ভুল হবে না। আমরা নেমে পরলাম হযরতপুরে। উদ্দেশ্য বিকালের নাস্তা। নাস্তা আমাদের সাথেই ছিল। সবাই একত্রে নাস্তা খাওয়া হল। এক পাকে দেখে নিলাম পটল খেত, আখ, পাট আর করলা চাষ। পটল তুলেও বেঁচে এল সৌরভ। নাস্তার বিরতিটা জমে উঠল ফকির সাহেবের গানে। বাড়তি যোগ হল স্থানীয় ছেলেদের নাচ।

ঘন্টা খানেক থাকার পর শুরু হল ফিরতি যাত্রা। সূর্য তখন ডুবুডুবু। সূর্যাস্তের লাল আভা যেন নদীর পানিকে দেয় অপরুপ সাঁজ। দ্বিপের মধ্যে ঝিঁ ঝিঁ পোকারা ডাকতে শুরু করেছে। মনে হয় যেন এক বিদায়ী সংবর্ধনা। ক্লান্তির ছাপ আর হাসি মুখে ফিরছি সবাই। মাঝ পথে নৌকার দোল খাওয়া আর তানজিদ ভাইয়ের আতঙ্ক ভ্রমণে যোগ করে আরেক বিনোদন। অবশেষে একই বোটে ফিরে এলাম যাত্রাস্থলে। বাস যোগে পৌছে গেলাম ক্যাম্পাসে। সবাই মিলে ব্যয় করে এলাম কিছু সময়। এতগুলো কাছের মানুষ একত্রে বেড়ানো তেমন একটা হয়ে ওঠে না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আসবে না বারবার । বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শেষ হলেও শেষ হবেনা এমন স্মৃতি।