ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

বাস্তব জগতের চলমান ছবি ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করে বা এনিমেশনের মাধ্যমে কাল্পনিক জগৎ তৈরি করে সাধারণত চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্যক্তি, সময়, ঘটনা এবং জায়গাভেদে অনেক চলচ্চিত্রেই বাস্তবতা উঠে আসে, যেখানে কল্পনা আর বাস্তবতা পাশাপাশি অবস্থান করে। তেমনি সাম্প্রতিক সময়ে হলিউডে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি চলচ্চিত্র The Purge: Election Year। যা গত ১লা জুলাই তৃতীয় অধ্যায় হিসেবে মুক্তি পায়।

তিনটি সিনেমাতেই মূল পটভূমি হিসেবে দেখানো হয়েছে যে, “The New Founding Fathers of America” বা The NFFA -রা ক্রমবর্ধমান সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক পতন থেকে আমেরিকান সমাজ স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি সর্বগ্রাসী সরকার(Totalitarian Government) এবং একটি পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করে। তাদের পরিকল্পণা অনুযায়ী তারা সংবিধানের ২৮ তম সংশোধনী অনুমোদন করে। এই সংশোধনীটি ‘শুদ্ধ’ বা The Purge নামে একটি বছরে শুধুমাত্র ২১ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২২ মার্চ সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়। যাতে বলা হয় ” সকল প্রকার অপরাধ(হত্যা সহ) বৈধ, এবং সব পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি চিকিৎসা সেবা ১২ ঘন্টার জন্য বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র নিয়ম যে, ১০ বা তার বেশি অনুমোদন ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন সরকারি কর্মকর্তাকে আক্রমণ করা যাবেনা (যেটা তৃতীয় অধ্যায়ে থাকেনা) এবং ৪র্থ শ্রেণীর অস্ত্রশস্ত্র যেমন গ্রেনেড, রকেট লঞ্চার, ট্যাংকবিধ্বংসী হালকা ক্ষেপনাস্ত্র, সকল গণবিধ্বংসী অস্ত্র , এবং ভাইরাল / জৈব ও রাসায়নিক এজেন্ট নিষিদ্ধ। যে Purge এর নিয়ম লঙ্ঘন করবে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।”

বেশিরভাগ উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষ এটাকে সমর্থন করলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকে সাধারণ শ্রেণীর লোকজন। কারন অনেকেরই Purge এ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সামর্থ্য ছিল না। দেখা গেল Purge এর ফলাফল স্বরূপ অপরাধ ও বেকারত্বের হার এক শতাংশে নেমে আসে, এবং একটি শক্তিশালী অর্থনীতি আসে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনসাধারণের জন্য এটি একটি শুদ্ধিকরণ আইন হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে মনে করা হয়, বাস্তবে এটি কৃত্রিম জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হয় যেখানে বস্তি এলাকার বেকার দরিদ্র সাধারণত মূল লক্ষ্য ছিল।

সিনেমার আগের দুটি অধ্যায় নিয়ে মানুষের তেমন মাথাব্যথা না থাকলেও তৃতীয় অধ্যায় নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকেই কানাঘুষা শুরু করেছে। কারন আসন্ন আগামী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং সিনেমার দুটি চরিত্র ও একটি শ্লোগান। চরিত্র দুটি হচ্ছে চার্লি রোয়ান(এলিজাবেথ মিচেল) , এবং অ্যাডউইজ ওয়েন্স( কাইল ছেকর)। দুইজনই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদপ্রার্থী। কল্পিত অর্থে বলা যায়, একজন হিলারি ক্লিনটন আরেকজন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

চার্লি রোয়ান তার নির্বাচনী প্রচারণায় বলেন যে তিনি Purge বন্ধ করতে ইচ্ছুক। Purge শুধু গরীব, গৃহহীন, অন্যান্য নিম্নশ্রেণীর মানুষ কমিয়ে দেয় যা জনগনের বিরাট একটা অংশ এবং তিনি নতুন যুক্তরাষ্ট্র গড়তে চান। অপরদিকে অ্যাডউইজ ওয়েন্স NFFA মনোনীত প্রার্থী যিনি Purge এর পক্ষে এবং তার বক্তব্য হচ্ছে ”Keep America Great”. যা ডোনাল্ড ট্রাম্প এর “Make America Great Again” এর সাথে মিলে যায়। যদিও পরিচালক জেমস মোনাকো এটাকে কাকতালীয় বলে আখ্যা করেছেন। তারপরেও সিনেমার অ্যাডউইজ ওয়েন্স এবং বাস্তবের ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মধ্যে একটা বড় মিল রয়ে যায়। অ্যাডউইজ ওয়েন্স বস্তি এলাকার বেকার দরিদ্র মানুষ হত্যা করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রেট রাখতে চেয়েছেন। অপরদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসী ও মুসলমানদের তাড়িয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবার গ্রেট করতে চান।

সিনেমায় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ চার্লি রোয়ানকে নির্বাচিত করেছিল, বাস্তবে কি তারা পারবে হিলারিকে নির্বাচিত করতে? নাকি ক্ষমতা যাবে অ্যাডউইজ ওয়েন্সরুপি কট্টরপন্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। অপেক্ষায় রইলাম।