ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ হওয়ার পর কতটুকু স্বাধীনতা পেয়েছে এ বিভাগ? একজন বিচারক সব সময় তার জীবনের ঝুকি নিযে তার বিচার কাজ করে যাচ্ছেন। সে প্রেক্ষিতে একজন বিচারক নিরাপত্তা পাচ্ছেন কতটুকু বা ঝুঁকি মুক্ত থাকছেন কতটুকু? এ প্রশ্নের জবাব সব সময় উহ্য থেকে যায়। নাকি পাচ্ছেন পুলিশ প্রশাসনের মত কোন ঝুকি ভাতা? তাহলে কীভাবে বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দেওয়া হলো? সরকার বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারী গণ এভাবেই কী সবসময় ঝুঁকি ও নিরাপত্তায় তাদের কাজ করে যাবে? সবকিছুর ফল বা তারা কি পাচ্ছে? এখনই কি ঐ বিষয়ে ভাবার সময় হয়নি সরকারের? সর্বোপরি এ বিভাগের সকলের আর্থিক বিধান সন্তুষ্টি রাখা একান্ত জরুরী কিনা? বিচার বিভাগকে কী সম্পূর্ণ আলাদা করে দেখা যায় না? প্রয়োজনে আলাদা বেতন কাঠামো করা যায়। এ বিভাগের কর্মরত কর্মকর্তার সহায়ক কর্মচারীরা রয়েছেন সবচেয়ে অধস্তন পর্যায়ে। তাদের দিকে তাকানের মত কেউ নেই।

একটি না বললেই নয়- বিচারকগণ ৩০% জুডিসিয়াল ভাতা পান তাদের বিচার কাজ করার জন্য। একজন সহায়ক কর্মচারী হিসেবে তারা কী ৩০% জুডিশিয়াল ভাতা পেতে পারে না? বিচারকগণ জুডিসিয়াল কাজ করেন আর কর্মচারীগণ কী জুডিসিয়ালের বাইরে কাজ করেন। যদি এরাও জুডিসিয়াল কাজে সহায়তা করেন তাহলে কেন কর্মচারীগণ এই ভাতা পাবেন না? আরেকটি বিষয় বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ আলাদা হওয়ার পর জেলা জজ মহোদয় সকর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির ও জেলা জজশীপের নিযোগকর্তা বা নিয়ন্ত্রনকারী কর্মকর্তা। সুতরাং বলা যায় কেউ পক্ষপাতদুষ্ট নয়। সকলেই এক পথের দিশারী। ডিসেম্বর মাসে জেলা জজ আদালতে কর্মরত কর্মচারী গণ ও কর্মকর্তাগণ এক মাসের ছুটি ও অবকাশকালীন ভাতা পেয়ে থাকেন। ম্যাজিস্ট্রেসিতে এক মাসের ছুটি ব্যতিত এক মাসের অবকাশকালীন ভাতা পেয়ে থাকেন কর্মকর্তাগণও। এখানে কেন এত বৈষম্য। জজশীপের কর্মকর্তাগণ, কর্মচারীগণ ও ম্যাজিস্ট্রেটগণ অবকাশকালীন ভাতা পাচ্ছেন অথচ ম্যাজিস্ট্রেসিতে কর্মরত কর্মচারী গণ এই ভাতা পাবেন না এটা কেমন বৈষম্যতা। এটাই কী গণতন্ত্র? এটাই কী স্বাধীনতা? এটাই কী সামঞ্জস্যতা? ‘‘ সকল মানুষকে কী একই সুতায় গাঁথার মত দেখা যায় না?’’ এসো আমরা এক, অভিন্ন, মতামতের বৈশিষ্ট্যের জীবন গড়ি।