ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কিছুক্ষণ আগে টিভি-তে বিশ্বজিৎ-কে মারার মর্মান্তিক দৃশ্যটি দেখলাম। ভাবছি কাল না আমাকেই এই কুৎসিত রাজনীতির বলির পাঠা হতে হয়। তাঁর মা-বোনের কান্না বার বার বিবেককে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে, এ কোন বর্বর দেশে বাস করি আমরা। কাল বিক্ষোভ, পরশু হরতাল, কে জানে পরশু আবার কোন চমক অপেক্ষা করছে। মানুষ দিন শেষে বাসায় ফিরছে হাত-পা ভেঙ্গে বা লাশ হয়ে, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুধু পিছাচ্ছে, সময় কাটছে সারাক্ষণ অনিশ্চয়তায় পরীক্ষা হবে কি হবে না, (যেমন এবারের বি.সি.এস পরীক্ষা। এমতাবস্থায় কেউ পড়ায় মনই বসাতে পারছে না। কোন কাজও মনোযোগ দিয়ে করতে পারছে না।
যেসব বাবা-মায়ের ছেলেরা ঢাকায় বা অন্যথায় থেকে পড়াশোনা করে, তার ছেলে মেয়ের চিন্তায় মরছে ক্ষণে ক্ষণে। যেসব অভাগা-অভাগিনীর সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকে, তারা একটু মারমারির খবর শুনলেই ভয়ে থাকে, না জানি তার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে ভাঙ্গে। আমি অনেকের বাবা-মায়ের চিন্তা স্ট্রোক করার কথাও জানি। আমার মা-বোনরা অনেক সময় বলত দরকার নেই আর পড়াশোনার,তুই বাড়ি এসে পড়।
আসলে আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতারা (সরকার ও বিরোধীদলীয়) কি এটাই চাচ্ছে। পুরো জাতিকে জিম্মি করে রেখে নিজেদের মত করে চালাতে?

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কয়জন নেতা হরতালের সময় নিজের সন্তানকে নিয়ে যায় পিকেটিং করতে? কয়জন নেতা রাজনীতি শেখানোর জন্য নিজের সন্তানকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে? এসব দেখেও আমাদের মত কিছু গর্দভ তাদের পা চাটতে ভুলে না। বিভিন্ন দলের এসব তুলকালাম কান্ড দেখে কোন দলই করতে মন চায় না।

আমার মত সাধারণ জনগণ সর্বদা প্রস্তুত থাকবে শুধু বলির পাঠা হবার জন্যে। হায়রে অভাগা জাতি, আমরা এগুচ্ছি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। সরকার পরিবর্তন হয় কিন্তু আমাদের এ অনিশ্চিত যাত্রা শেষ হয় না।

কে জানে আমাদের এ অনিশ্চিত যাত্রা কত মায়ের বুকের মানিকের লাশ মাড়িয়ে, কত বোনের আদরের ভাইয়ের বক্ষে দাড়িয়ে, কত অবুঝ শিশূর বাবা হারানোর আর্ত চিৎকার বিদীর্ণ করে শেষ হয়?