ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

বর্তমানে আমাদের দেশের প্রধান, অন্যতম এবং সকল সমস্যার মূল হচ্ছে দূনীতি। যা এখন আমাদের রক্তের সাথে মিশে গেছে। শুধু মিশে গেছে বললে ভুল হবে, দুর্নীতি ও অনিয়ম আমাদের প্রাত্যহিক কাজে পরিণত হয়েছে।একটা গল্পের মাধ্যমে অবস্থাটা ব্যাখ্যা করা যাক,

এক রাজার এক ভাতিজা ছিল, যে কোন কাজকর্ম করত না । সারাদিন শুধু ঘুরে বেড়াত আর অন্যের অনিষ্ট করে বেড়াত।তাই রাজা ভাবল তাকে কোন রাজকার্যে নিযুক্ত করি, তাহলে যদি তার কোন পরিবর্তন হয়।রাজা তাকে বিশেষ ক্ষমতাবলে মন্ত্রী করে দিল। এর কিছুদিন পর থেকে তার নামে নালিশ আসা শুরু করল যে, সে কৃষকের কাছ থেকে জমি কেড়ে নিয়ে ঘুষ খেয়ে অন্যকে দিচ্ছে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে, বিনা ঘুষে কাউকে কোন কাজ দিচ্ছে না, এ হেন অপকর্ম নেই যে সে করছে না। তাই রাজা ঠিক করল তাকে কোন বড় দায়িত্ব দেয়া যাবে না ।রাজা তাকে ব্যাস্ত রাখার জন্য নিযুক্ত করল সাগরের ঢেউ গোনার জন্য।কিছুদিন পর দেখা গেল সে সমুদ্র দিয়ে কোন জাহাজ চলতে দিচ্ছে না ।তার যুক্তি হচ্ছে, জাহাজ চলার সময় ঢেউগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে, তাই সে ঠিক মতো গুণতে পারছে না, ফলে রাজকার্যে ব্যাঘাত ঘটছে।যাদের কাছ থেকে ঘুষ পাচ্ছে শুধু সেসব জাহাজ চলতে দিচ্ছে। রাজার কানে এ কথা যাবার পর রাজা তাকে কাছে কাছে রাখার জন্য রাজার সিংহাসনের পেছনে বাতাসকারী হিসেবে নিযুক্ত করল, যেন সে আর এসব অবৈধ কাজ না করতে পারে।এবার সে শুরু করল এক নতুন ধান্ধা। যখন কোন মন্ত্রী, সেনাপতি অথবা রাণী রাজার কাছে আসে, তখন সে একটু নিচু হয়ে কুর্নিশ করে এবং রাজার কানের পাশে মাথা এনে মুখ নাড়ায়।এ দেখে মন্ত্রী, সেনাপতি, রাণী তো ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেল।তারা ভাবছে সে বুঝি রাজাকে তাদের ব্যাপারে কোন নালিশ বা মন্ত্রণা দিচ্ছে, আর রাজা তো দেখছে না সে পেছনে কি করছে, তাই রাজা ভাবছে সে বুঝি তাদের কুর্নিশ করছে।তাই মন্ত্রী, সেনাপতি চুপি চুপি তাকে ডেকে নিয়ে জিঞ্জেস করল, তুই কি আমার কোন অপকর্মের কথা রাজাকে বলেছিস? সে বলল তা তো বলা যাবে না, রাজার নিষেধ আছে।তখন তারা তাকে কিছু টাকা ঘুষ দিয়ে বলল, আর কিছু বলিস না, এখন থেকে আমরা সমান ভাগ নিব। রাণি চুপি চুপি তাকে ডেকে নিয়ে জিঞ্জেস করল, তুই কি বললি রাজাকে, আর আমি যাওয়াতে মাথা উঠিয়ে নিলি।তখন সে বলল, তা তো বলা যাবে না। রাজা যে আর একটা বিয়ে করার জন্য পাত্রী দেখছে, এ ব্যাপারে কাউকে বলা যাবেনা।তখন রাণী তাকে কিছু মোহর দিয়ে বলল বিয়েটা বন্ধ করতে। এভাবে সে সবখানে অপকর্ম করেই চলল…….

ঠিক তেমনি আমরা যেখানেই যাই না কেন, শুধু খুজি কিভাবে ফাকিঁ দেয়া যায়, কিভাবে র্দুনীতি করা যায়।

উদাহরণস্বরূপ
# যদি হাসপাতাল বা কোন চিকিৎসাকেন্দ্রে যাই, কম্পাউন্ডারকে অতিরিক্ত কিছু টাকা দিয়ে চাই সবার আগে ডাক্তার দেখাতে।
# লাইসেন্স না নিয়ে রাস্তায় বের হব অথবা ভূয়া লাইসেন্স নিয়ে রাস্তায় বের হব, সিগন্যাল অমান্য করব, আর ট্রাফিক ধরলে কিছু টাকা তার হাতে ধরিয়ে দিব। আর বাস মালিক-শ্রমিকরা তো ট্রাফিককে দেয়ার জন্য কিছু টাকা আলাদা করেই রাখে তাদের আয় থেকে।
# কোন কিছুর বিল দিতে লাইনে দাড়াব, খুজব লাইনের ফাক ফোকর, অথবা লাইনম্যানকে কিছু টাকা দিয়ে ম্যানেজ করব যেন আমাকে আগে সুযোগ করে দেয়।
সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে, এসব র্দুনীতি গুলোই আমদের নীতিতে পরিণত হয়েছে। কোন কাজ করেতে গেলে আগে খুজি দালাল, প্রকৃত লোক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যাই না। অথচ নিজে সব সময় বলি, ট্রাফিক ঘুষ খাচ্ছে, দাললে ভরে গেছে দেশটা, এ র্দুনীতি করছে সে র্দুনীতি করছে, অথচ একবার ও ভাবিনা, আমাদের র্দুবলতার সুযোগ নিয়েই তারা এ সব করছে এবং আমরাই তাদের সহায়তা করছি।

আমার খুব জরুরী দরকার, তাই আরেকজনকে পেছনে ফেলে ঘূষ দিয়ে আগে কাজটা করাতে চাই।কিন্তু আমার আগে যারা এসেছে তাদের ও তো জরুরী কাজ থাকতে পারে, এমন ও তো হতে পারে তারা অনেক কাজ ফেলে এসেছে অথবা এ জন্য তার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। আমি যখন লাইনে আমার দশ জনের সামনের একজনকে ম্যানেজ করে তার সাথে দাড়াই, তখন যে তাকে জায়গা করে দিয়েছে তার বিবেচনা করা উচিত যে, সে শুধু তার এক মিনিট সময় ছেড়ে দেয়নি, সে মোট দশ জনের করে দশ মিনিট সময় নষ্ট করেছে। সে তার নিজেরটা ছেড়ে দিতে পারে, কিন্তু অন্যের সময় নষ্ট করার তার কোন অধিকার নেই।আর এর ফলে সেই লোকটা কখনো চেষ্টা করবে না আগে আসতে, আর যে আগে এসেছে তারও মন নষ্ট হয়ে যাবে,নৈতিকতা হারিয়ে ফেলবে। আর আমাদের যদি কোন ক্ষমতা থাকে, তবে চ্ষ্টো করি সবখানে সেই ক্ষমতা খাটাতে, যা কোন ক্রমেই বাঞ্ছনীয় নয়। ক্ষমতা শুধু আমাদের দায়িত্ব পালনেই ব্যবহার করা উচিত, অন্যত্র নয়।

আমার এক প্রিয় শিক্ষক, আমরা যখন ক্লাশে খুব হট্টোগল করতাম, তখন টেবিলে হাত চাপড়ে বলতেন,”আমরা সবাই যে যার মত নিজে নিজে চুপ থাকি।” কারণ হচ্ছে, এমনিতে চুপ করতে বললে, একজন আরেক জনকে বলে, এই চুপ কর, সে আবার আরেক জনকে বলে, এমন করে আবার হট্টোগল শুরু হয়ে যায়। তাই ঠিক এমনি করে যদি আমরা সবাই নিজে নিজি শুধরে যাই, তাহলেই আমরা একদিন র্দুনীতির করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাব তা যে রাজাই দেশ শাসন করুক না কেন।তখন আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ আরো সুন্দর হয়ে উঠবে।

তাই আসুন আমরা এখন থেকেই নৈতিকতা চর্চা করি।কারণ আমাদের হাতে আর সময় নেই,ইতোমধ্যে নৈতিকতা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি আমরা। সবার প্রতি অনেক ভালবাসা রইল।