ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

সাইনবোর্ড
উপমহাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় এর পৈতৃকভূমি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার মসূয়া গ্রামে। আজকের গন্তব্য ছিল এই কৃর্তিমানের পৈতৃক নিবাস ভ্রমণ। সকালে রওনা দিয়ে দুপুর নাগাদ পৌঁছালাম। কটিয়াদি বাজার থেকে সোজা পশ্চিম দিকে অথবা মঠখোলা বাজার থেকে পূর্ব দিকে মসূয়া বাজার সংলগ্ন, বাড়ি বলতে একটা পুরনো জীর্ণ দু’তলা দালান ছাড়া দেখার মত কিছু চোখে পরে নাই।

জানা যায় সত্যজিৎ রায়ের দাদা প্রখ্যাত লেখক, শিশু সাহিত্যিক, চিত্রকর, আলোকচিত্রী উপেন্দকিশোর রায় সত্যজিৎ রায়ের বাবা স্বনামধন্য লেখক ও সম্পাদক সুকুমার রায় কে নিয়ে এখান থেকে কলকাতায় চলে যান। দু’তলা এই বাড়িরর অনেকাংশই ভাঙা। দালানের সামনের দিকে তিনটি বড় প্রবেশ পথ, পিছনে দিকে দু’তলায় উঠার সিঁড়ি। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলে দেখা যায় ছোট্ট একটা কক্ষ, এই কক্ষ ছাড়া পুরো বাড়ি কোন ছাদ অবশিষ্ট নাই। পুরনো এই বাড়ির প্রতিটি দরজা ও জনালা এবং ইটগুলা খসে পরছে। এই ঐতিয্যবাহীবাড়ির সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা চোখে পরার মত না, শুধু মাত্র একটা সাইনবোর্ড যার দ্বারা বোঝা য়ায় যে এটাই সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি।

সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করলে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেত আমাদের গর্বের মহামূল্যবান বাড়িটি। হয়তো এই জীর্ণ বাড়িটিই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সত্যজিৎ রায়ের মত বহুমাত্রিক প্রতিভাবান ব্যক্তির শিকড় এই বাংলায়। তিনি উপমহাদেশে প্রথম তার পথের পাঁচালি চলচিত্রের জন্য অস্কার পুরস্কার লাভ করেন। তার অন্যান্য চলচিত্রগুলা হলো মধ্যে উলে­খযোগ্য হলো: পথের পাঁচালী (১৯৫৫), অপরাজিত (১৯৫৬), পরশপাথর (১৯৫৭), জলসাঘর (১৯৫৮), অপুর সংসার (১৯৫৯), দেবী (১৯৬০), তিন কন্যা (১৯৬১), রবীন্দ্রনাথ (১৯৬১), কাঞ্চনজঙ্ঘা (১৯৬২), অভিযান (১৯৬২), মহানগর (১৯৬৩), চারুলতা (১৯৬৪), কাপুরুষ ও মহাপুরুষ (১৯৬৫), নায়ক (১৯৬৬), চিড়িয়াখানা (১৯৬৭), গুপী গাইন বাঘা বাইন (১৯৬৯), অরণ্যের দিনরাত্রি (১৯৭০), প্রতিদ্বন্দ্বী (১৯৭০), সিকিম (১৯৭১), সীমাবদ্ধ (১৯৭১), অশনি সংকেত (১৯৭৩), সোনার কেল­া (১৯৭৪), ইনার আই (১৯৭৪), জনারণ্য (১৯৭৫), বালা (১৯৭৬), শতরঞ্জ কি খিলাড়ি (১৯৭৭), হীরক রাজার দেশে (১৯৮০), পিকু (১৯৮২), সদগতি (১৯৮২), ঘরে বাইরে (১৯৮৪), সুকুমার রায় (১৯৮৭), গণশত্রু (১৯৮৯), শাখা প্রশাখা (১৯৯০), আগন্তুক (১৯৯১)। এছাড়াও তিনি বহু ছবির চিত্রনাট্য রচনা ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

চলচিত্র ছাড়াও তিনি তার লেখনি দিয়া মানুষের মন জয় করেন। সত্যজিৎ রায় ভারত সরকারের কাছ থেকে ৪০ টি এবং আন্তজার্তিক ৬০ টি পুরস্কার লাভ করেন। এই মহান ব্যক্তি ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।