ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

বাংলাদেশের পর্যটন স্থানের মধ্যে যেগুলোর নাম প্রথমে চলে আসে তার মধ্যে অন্যতম হল কুয়াকাটা। কুয়াকাটার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও সমুদ্র সৈকত খুব সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেজন্য কুয়াকাটাকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে। পর্যটন স্থান হিসেবে কুয়াকাটার জনপ্রিয়তা ইতিমধ্যে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা কুয়াকাটায় এখন তাদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আবাসন কোম্পানিগুলো আজকাল অবাধে সমুদ্র সৈকতের খুব কাছে প্লট বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকারি আইন মোতাবেক সমুদ্র সৈকতের ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে সব ধরনের স্থাপনা তৈরি নিষিদ্ধ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা ও কুয়াকাটার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বেড়িবাঁধে যে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়ায় ধীরে ধীরে সবুজ বেষ্টনী বিলিন হতে চলেছে। ফলে দুর্যোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের অপ্রতুলতার কারণে কুয়াকাটা সৈকত সুরক্ষা ব্যবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে। অপরিকল্পিতভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলায় নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনাময় কুয়াকাটাকে পর্যটকদের নিকট আকর্ষণীয় করে তুলতে মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে সাজাতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে সৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বে-আইনী স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। সমুদ্র সৈকতকে সুরক্ষিত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। সর্বোপরি, পর্যটকদের জন্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে এবং বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হবে।