ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এই মহানগরী দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সেই সাথে রাজধানীর ধমনীতুল্য বুড়িগঙ্গা নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে ঢাকার পরিবেশকে আরও বিপন্ন করে তুলেছে। বুড়িগঙ্গা নদীর আশেপাশের বাতাসও এখন দুর্গন্ধময়। নির্বিচারে পলিথিন, কেমিক্যাল বর্জ্য, কলকারখানার বর্জ্য, গৃহস্থালির বর্জ্য, মানুষের মলমূত্র, নৌযানের পোড়া তেল ও মবিল নদীর পানিতে ফেলায় মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বুড়িগঙ্গার পানি। বুড়িগঙ্গার ¯্রােত না থাকায় এসব বর্জ্য আবর্জনা পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সে সঙ্গে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর তলদেশ। ধারনা করা হচ্ছে বুড়িগঙ্গার তলদেশে জমাট বেঁধেছে পলিথিনের ৮ ফুট পুরু স্তর। এক গবেষণায় দেখা গেছে এমক্সাসিলিন, পেনিসিলিন, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, ও অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মত উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রায় ৬২ প্রকার কেমিক্যাল বুড়িগঙ্গার পানিতে মিশছে। বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিক থেকে ট্যাবলেট ক্যাপসুলের আবরণ-খোলস, স্যালাইন, সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, সিরাপের বোতল ইত্যাদি বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গায়। যার কারণে পানিতে মিশছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক। ফলে ঢাকাবাসীর শরীরে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। তাই এই নদীকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রয়োজন জনসচেতনতাও। ময়লা আবর্জনা রিসাইকেল বা ডাম্পিং করার জন্য ডাম্পিং স্টেশন আরও বাড়াতে হবে যাতে জনগণ আর বুড়িগঙ্গায় বিভিন্ন বর্জ্য না ফেলে। বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ রোধে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই নদী একদিন ঢাকার পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলতে পারে যা কখনই আমরা আশা করিনা।